‘আলকামাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে চলতে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। সওম তার প্রবৃত্তিকে দমন করে। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ------ শব্দের অর্থ বিবাহ।
‘আলক্বামাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন আমি ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) - এর সঙ্গে ছিলাম, ‘উসমান (রাঃ) তাঁর সঙ্গে মিনাতে দেখা করে বলেন, হে ‘আবদুর রহমান! আপনার সাথে আমার কিছু দরকার আছে। অতঃপর তারা দু’জনে এক পাশে গেলেন। তারপর ‘উসমান (রাঃ) বললেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমি কি আমি কি আপনার সঙ্গে এমন একটি কুমারী মেয়ের বিয়ে দিব, যে আপনাকে আপনার অতীত কালকে স্মরণ করিয়ে দিবে? ‘আবদুল্লাহ্ যখন দেখলেন তার এ বিয়ের দরকার নেই তখন তিনি আমাকে ‘হে ‘আলক্বামাহ’ বলে ইঙ্গিত করলেন। আমি তাঁর কাছে গিয়ে শুনলাম, আপনি আমাকে এ কথা বলছেন (এ ব্যাপারে) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেন, হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে এবং যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন ‘সাওম’ পালন করে। কেননা, সাওম যৌন ক্ষমতাকে দমন করে।[১৯০৫; মুসলিম ১৬/১, হাঃ ১৪০০, আহমাদ ৪০৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৫)
‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন। হে যুবক সম্প্রদায় [৩]! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে। কেননা, সাওম তার যৌনতাকে দমন করবে।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৬)
আলক্বামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) (রাঃ)-এর সঙ্গে মিনায় পৌঁছলাম। এ সময় ‘উসমান (ইবনু ‘আফ্ফান) (রাঃ) এসে তাঁর সাথে মিলিত হলেন। তখন তিনি তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলতে লাগলেন। ‘উসমান (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমরা কি আপনার সঙ্গে এমন একটি যুবতী মেয়ের বিয়ে দিব না, যে হয়ত আপনার অতীত কিছু স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিবে? রাবী বলেন, ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) (রাঃ) বললেন, আপনি যদি এ কথা বলেন তবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বলেছেনঃ “হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে দাম্পত্য জীবনের ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা (বিবাহ) দৃষ্টিকে নিচু করে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত করে। আর যে সক্ষম নয় তার সিয়াম পালন করা উচিত। কারণ তা তার জন্য যৌন কামনা দমনকারী।” (ই.ফা. ৩২৬৪, ই.সে. ৩২৬১)
‘আলক্বামাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদের (রাঃ) সাথে মিনায় হাঁটছিলাম। এ সময় ‘উসমান (রাঃ)–এর সাথে দেখা হলে তিনি ‘আবদুল্লাহর (রাঃ) সাথে নির্জনে আলাপ করেন। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন দেখলেন, এ বিষয়ে তার কোন প্রয়োজন নেই, তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আলক্বামাহ! এদিকে এসো। আমি এলে উসমান (রাঃ) তাকে বললেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমরা কি আপনার সাথে একটি কুমারী মেয়ে বিয়ে দিব, যাতে আপনি অতীতের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পান? ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমি এরূপ এজন্যই বলেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ বিয়ের সামর্থ্য রাখলে সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌন জীবনকে সংযমী করে। আর যে ব্যক্তির বিয়ে করার সামর্থ্য নেই সে যেন অবশ্যই সওম পালন করে। কারন সওম তার যৌনস্পৃহা দমনকারী।
আলকামাহ বিন কায়স থেকে বর্নিতঃ
আমি আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) -এর সাথে মিনায় উপস্থিত ছিলাম। উসমান (রাঃ) এসে তাঁর সাথে একান্তে কথা বলেন। আমিও তাঁর নিকটেই বসলাম। উসমান (রাঃ) তাঁকে বলেন, আমি কি তোমার সাথে এক কুমারী মেয়ের বিবাহ দিবো, যে তোমার অতীত যৌবনের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে? আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন দেখলেন যে, তার উদ্দেশ্য কেবল বিবাহ করার উৎসাহ প্রদান করা, তখন তিনি আমাকে হাতের ইশারায় ডাকলেন। আমি তার নিকটে গেলাম এবং তিনি তখন বলছিলেন, তুমি যদি এ কথায় রাযী হয়ে যেতে। কেননা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহ করার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা দৃষ্টিশক্তিকে সংযতকারী এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী। আর যাত এ সামর্থ্য নেই, সে যেন সিয়াম রাখে। কেননা এটি তার জন্য জৈবিক উত্তেজনা প্রশমনকারী। [১৮৪৫]
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমরা বের হলাম। আমরা ছিলাম যুবক। (বিয়ের খরচ বহনের) আমাদের আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। তিনি বললেনঃ হে যুব সমাজ। তোমাদের বিয়ে করা উচিত। কেননা, এটা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত রাখে। আর তোমাদের যে লোকের বিয়ের সামর্থ্য নেই সে লোক যেন রোযা আদায় করে। কেননা, তার যৌনশক্তিকে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। - সহীহ্ , ইবনু মা-জাহ (১৮৪৫), বুখারী, মুসলিম
আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন যে, আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে একবার বের হলাম; তখন আমরা যুবক ছিলাম কিন্তু আমাদের বিবাহের সামর্থ্য ছিল না। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে যুবক শ্রেণী! তোমরা বিবাহ করে ফেল। কেননা তা দৃষ্টিকে অবনত রাখে আর লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সাওম (রোযা) পালন করে। কেননা সাওম (রোযা) তার কামভাব দমন করবে।
আলকামা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্ন মাসঊদ (রাঃ) একদা আরাফাতে উছমান (রাঃ)–এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি ইব্ন মাসঊদ (রাঃ) কে নির্জনে নিয়ে গিয়ে বললেন যে, তোমার কি কোন যুবর্তীর প্রয়োজন আছে যাকে আমি তোমার সাথে বিবাহ দিয়ে দিব? তখন আব্দুল্লাহ (রাঃ) আলকামা (রহঃ)-কে ডেকে তার কাছে বর্ণনা করলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে ফেলে। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্হানকে সংরক্ষন করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সাওম (রোযা) পালন করে, যেহেতু সাওম (রোযা) তার কামভাব দমনকারী।
আব্দুলাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য না রাখে সে যেন সাওম (রোযা) পালন করে। কেননা সাওম (রোযা) তার কামভাবকে দমন করবে।
আব্দুর রহমান ইব্ন ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন যে, আমরা আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন আমাদের সাথে আলকামা, আসওয়াদ (রহঃ) এবং একজন লোক ছিলেন। তিনি আমাদের সামনে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করলেন, যা আমার ধারণায়, উপস্থিত লোকদের নয় বরং আমাকেই উপলক্ষ করে বর্ণনা করলেন। যেহেতু আমি উপস্থিত লোকদের মধ্যে কম বয়সের ছিলাম। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, হে যুবক শ্রেণী! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে, যেহেতু বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্হানকে সংরক্ষণ করে।
আলকামা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
উসমান (রাঃ) ইব্ন মাসউদ (রাঃ)- কে বললেন: তোমার কি কোন যুবতীর প্রতি আগ্রহ আছে, আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ দিয়ে দেব। তখন আবদুল্লাহ্ ইবন্ মাসউদ (রাঃ) আলকামা (রহঃ)- কে ডেকে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিবাহের খরচাদির সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা দৃষ্টি সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের অধিক হিফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন সিয়াম পালন করে, কেননা তা-ই তার জন্য কামক্ষুধার নিয়ন্ত্রক।
আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তি বিবাহের করচাদির সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে; আর যে ব্যক্তি অসমর্থ, সে যেন সিয়াম পালন করে। ইহা তার যৌন শক্তির নিয়ন্ত্রক। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ এ হাদীসের আসওয়াদ বর্ণনাকারী মাহ্ফুজ (সুরক্ষিত) নয়।
আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বলেছেনঃ হে যুবক দল। তোমাদের মধ্যে যে খরচ বহন করতে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা দৃষ্টি সংযতকারী এবং লজ্জাস্থানের অধিক হিফাজতকারী। আর যে অসমর্থ, সে যেন সিয়াম পালন করে; সিয়াম তার যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রক।
আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেনঃ হে যুবক সম্প্রদায়। তোমাদের মধ্যে যে খরচাদি বহন করতে সক্ষম, সে যেন বিবাহ করে। অনুরূপ পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করলেন।
আলকামা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি মিনায় আবদুল্লাহ্ (রাঃ)- এর সঙ্গে হাঁটছিলাম। তাঁর সাথে উসমান (রাঃ)- এর সাক্ষাত হলো, তিনি তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে তাঁর সংগে কথা বলতে লাগলেনঃ হে আবূ আবদুর রহমান। আমি কি তোমাকে একজন যুবতী মেয়ে বিবাহ করাব ? হয়তো তাঁর সংস্পর্শে তোমার বিগত জীবনের (যৌবনের) কিছুটা স্মরন করিয়ে দেবে। আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, তুমি তো একথা বললে, অথচ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেনঃ হে যুবক সম্প্রদায়। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের খরচাদির সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে।