সহিহ বুখারী অঃ->মদীনার ফযিলত বাব->মদীনা হারম (পবিত্র স্থান) হওয়া । হাঃ-১৮৬৭

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মদীনা এখান হতে ওখান পর্যন্ত হারাম (রূপে গণ্য)। সুতরাং তার গাছ কাটা যাবে না এবং এখানে কোন ধরনের অঘটন (বিদ‘আত, অত্যাচার ইত্যাদি) ঘটানো যাবে না। যদি এখানে কোন অঘটন ঘটায় তাহলে তার প্রতি আল্লাহ্‌র এবং ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের লা’নত (অভিশাপ)।


সহিহ বুখারী অঃ->জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন বাব->যারা অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে তাদের গুনাহ। হাঃ-৩১৭৯

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে কুরআন এবং এ কাগজে যা লিখা আছে তা ছাড়া কোন কিছু লিপিবদ্ধ করিনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আয়ির পর্বত হতে এ পর্যন্ত মাদীনাহ্‌র হরম এলাকা। যে কেউ দ্বীনের ব্যাপারে বিদ্‌’আত উদ্ভাবণ করে কিংবা কোন বিদ্‌’আতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ তা’আলা, ফেরেশতা ও সকল মানুষের লা’নত। তার কোন ফরয কিংবা নফল ‘ইবাদাত গৃহীত হবে না। আর সকল মুসলমানের পক্ষ হতে নিরাপত্তা একই স্তরের। সাধারন মুসলিম নিরাপত্তা দিলে সকলকে তা রক্ষা করতে হবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দেয়া নিরাপত্তা বাধাগ্রস্ত করবে তার উপর আল্লাহ তা’আলার লা’নত এবং ফেরেশতামণ্ডলী ও সকল মানুষের। তার কোন নফল কিংবা ফরয ‘ইবাদাত গৃহীত হবে না। আর যে স্বীয় মনিবের অনুমতি ব্যতীত অন্যদের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি করে, তার উপর আল্লাহ তা’আলার লা’নত এবং ফেরেশতামণ্ডলী ও সকল মানুষের। তার কোন নফল কিংবা ফরয ‘ইবাদত কবূল হবে না।


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->মাদীনার ফাযীলাত, এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী (স.)-এর দু’আ, মাদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মাদীনার হারামের সীমা হাঃ-৩২১৪

‘আসিম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি মাদীনাকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এখান থেকে ওখানের মধ্যবর্তী স্থান। অতএব যে ব্যক্তি এখানে কোন পাপ করে, তিনি পুণরায় আমাকে বললেন, তা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার যে, এখানে কোন পাপ করে তার উপর আল্লাহ, তাঁর মালাক্ব এবং সমগ্র মানব জাতির লা’নাত। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা’আলা তাঁর ফরয অথবা নফল কোন ‘ইবাদাতই কবুল করবেন না। [৩৮] রাবী বলেন, আনাস (রাঃ)-এর পুত্র বললেন, “অথবা যে কোন পাপীকে আশ্রয় দিল”। (ই.ফা. ৩১৮৯, ই.সে. ৩১৮৬)


সহিহ মুসলিম অঃ->দাসমুক্তি বাব->মুক্তদাসের জন্য তার মুক্তিদাতা ব্যতীত অন্য কাউকে ওয়ালার মালিক বানানো হারাম হাঃ-৩৬৮৬

ইব্রাহীম তাইমী (রাযিঃ) তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একবার ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) আমাদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, যে ব্যক্তি মনে করে যে, এ পুস্তিকা ও আল্লাহর কিতাব ব্যতীত আমাদের কাছে এমন কিছু আছে যাকে আমরা অধ্যয়ন করি সে মিথ্যা বলছে। সে (বর্ণনাকারী) বললঃ সে সময় তার [‘আলী (রাঃ)] তরবারির খাপের মধ্যে একখানা পুস্তক ঝুলানো ছিল। এ পুস্তিকায় উটের দাঁতের বিবরণ ছিল এবং যখমের দিয়াত (ক্ষতিপূরণ) সম্পর্কে বিধান ছিল। এতে আরও উল্লেখ ছিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাদীনার ‘আয়র’ থেকে ‘সাওর’ পর্বত পর্যন্ত এলাকা হারাম (সংরক্ষিত স্থান)। যে ব্যক্তি এ এলাকায় বিদ’আত করবে অথবা কোন বিদ’আতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহর লা’নাত, তাঁর ফেরেশ্তাদের ও সমগ্র মানব জাতির লা’নাত বর্ষিত হবে। কিয়ামাত দিবসে আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল ক্ববূল করবেন না। সকল মুসলিমের দায়িত্ব অভিন্ন। একজন সাধারণ মুসলিমও এ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে। যে ব্যক্তি তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবী করবে অথবা যে ক্রীতদাস তার মনিবকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বানায় তার উপর আল্লাহর লা’নাত, ফেরেশ্তা ও সমগ্র মানব জাতির লা’নাত বর্ষিত হবে। কিয়ামাত দিবসে আল্লাহ তার কোন ফরয কিংবা নফল (‘ইবাদাত) ক্ববূল করবেন না। (ই.ফা. ৩৬৫২, ই.সে. ৩৬৫২)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->হজ্জ বাব->মাদীনাহ্‌র মর্যাদা হাঃ-২০৩৪

আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আল্লাহর কুরআন এবং তাঁর এ সহীফার মধ্যে যা লিখিত আছে তা ব্যতীত অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করিনি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাদীনাহ ‘আয়ের’ থেকে ‘সাওর’ পর্যন্ত হারাম এলাকা। এখানে যদি কেউ বিদ‘আত করে কিংবা বিদ‘আতীকে আশ্রয় দেয়, তবে তার উপর আল্লাহ, সকল ফেরেশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোন ফরয বা নাফ্‌ল ‘ইবাদাত আল্লাহ্‌র দরবারে কবুল হবে না। তিনি আরো বলেছেনঃ সকল মুসলিমের নিরাপত্তা বিধান সমান গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি একজন সাধারণ ব্যক্তির নিরাপত্তাও। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের প্রদত্ত নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাবে তার উপর আল্লাহ, সকল ফেরেশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোন ফরয বা নাফ্‌ল ‘ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। আর যে ব্যক্তি কোন কওমের লোকদের অনুমতি ছাড়াই তাদের নেতা হয় তার উপর আল্লাহ, সকল ফেরেশতা ও মানবকুলের অভিশাপ। তার কোন ফরয বা নাফ্‌ল ‘ইবাদাত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। [২০৩৪]


সুনানে আবু দাউদ অঃ->শিষ্টাচার বাব->যে দাস নিজ মনিবের পরিবর্তে অন্যের পরিচয় দেয়। হাঃ-৫১১৪

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজ মনিব গোত্রের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোন গোত্রে পালিয়ে যায় তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকূল ও সকল মানুষের পক্ষ হতে লা’নাত। ক্বিয়ামাতের দিন তার কোন ফরয ও নফল অথবা তাওবাহ ও ফিদইয়া গ্রহণযোগ্য হবে না।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->ওয়ালাআ ও হিবা বাব->যে ব্যক্তি নিজের মনিব অথবা বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে নিজের মনিব অথবা বাবা বলে দাবি করে । হাঃ-২১২৭

ইবরাহীম আত-তাইমী (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আলী (রাঃ) আমাদের সামনে খুতবাহ দেন এবং বলেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের নিকট আল্লাহ্ তা‘আলার গ্রন্থ এবং এই পুস্তিকা যার মধ্যে উটের বয়সের বিবরণী ও জখমের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে তা ব্যতীত আরো কোন গ্রন্থ আছে সে মিথ্যাবাদী। তিনি তার খুৎবায় আরো বলেন, এই গ্রন্থে আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাদীনার হেরেমের সীমানা হচ্ছে আইর পাহাড় হতে সাওর পর্বত পর্যন্ত। যদি কেউ এতে কোন প্রকার বিদ‘আতের প্রচলন ঘটায় অথবা কোন বিদ‘আতীকে আশ্রয় দেয় তাহলে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। কিয়ামাত দিবসে তার কোন ফরয বা নাফল ইবাদাতই আল্লাহ তা‘আলা ক্ববূল করবেন না। যে লোক তার বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্য কাউকে বাবা বলে দাবি করে (নিজের বংশপরিচয় গোপন করে অন্য বংশের পরিচয় দেয়) অথবা তার মনিবকে ছেড়ে দিয়ে অন্য মনিবের নিকট পালিয়ে যায় তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরয বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করা হবে না। মুসলমানদের যিম্মা প্রদান একই সমান ও অখন্ড। তাদের মধ্যকার সবচেয়ে সাধারণ ব্যক্তি (কাউকে) আশ্রয় দান করলে তাও রক্ষা করা হবে। সহীহ ইরওয়া (১০৫৮) নাক্বদুল কাত্তানী (৪২), সহীহ আবূ দাঊদ (১৭৭৩-১৭৭৪), বুখারী, মুসলিম।