সহিহ বুখারী অঃ->হজ্জ বাব->কিরান হজ্জকারীর তাওয়াফ। হাঃ-১৬৪০

নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে বছর হাজ্জাজ ইব্‌নু ইউসুফ ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মক্কায় আসেন, ঐ বছর ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) হজ্জের এরাদা করেন। তখন তাঁকে বলা হলো, (বিবদমান দু’ দল) মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাধা দিবে। তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে”-(আযহাবঃ ২১)। কাজেই এমন কিছু হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি ‘উমরাহ’র সংকল্প করলাম। এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উঁচু অঞ্চলে পৌছার পর তিনি বললেন, হজ্জ ও ‘উমরাহ’র বিধান একই, আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্গে হজ্জেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ হতে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি। এরপর তিনি কুরবানী করেননি এবং ইহ্‌রামও ত্যাগ করেন নি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা কোনটাই করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন, মাথা মুন্ডালেন। তাঁর অভিমত হলো, প্রথম তাওয়াফ-এর মাধ্যমেই তিনি হজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনই করেছেন। (১৬৩৯, মুসলিম ১৫/২৬, হাঃ ১২৩০) (আঃপ্রঃ ১৫৩০, ইঃফাঃ ১৫৩৬)


সহিহ বুখারী অঃ->হজ্জ বাব->যে ব্যক্তি রাস্তা হতে কুরবানীর জন্তু ক্রয় করে ও তার গলায় কিলাদা বাঁধে। হাঃ-১৭০৮

নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইব্‌নু যুবাইরের খিলাফতকালে খারিজীদের হজ্জ আদায়ের বছর ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) হজ্জ পালন করার ইচ্ছা করেন। তখন তাঁকে বলা হল, লোকেদের মাঝে পরস্পর লড়াই সংঘটিত হতে যাচ্ছে, আর তারা আপনাকে বাধা দিতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করি। ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) বললেন, (আল্লাহ তা’আলা বলেছেন) “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ”- (আল-আহযাবঃ ২১)। কাজেই আমি সেরূপ করব যেরূপ করেছিলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার উপর ‘উমরাহ ওয়াজিব করে ফেলেছি। এরপর বায়দার উপকণ্ঠে পৌঁছে তিনি বললেন, হজ্জ এবং ‘উমরাহ’র ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করে বলছি, ‘উমরাহ’র সাথে আমি হজ্জকেও একত্রিত করলাম। এরপর তিনি কিলাদা পরিহিত কুরবানীর জানোয়ার নিয়ে চললেন, যেটি তিনি আসার পথে কিনেছিলেন। অতঃপর তিনি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা’ঈ করলেন। তাছাড়া অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং সে সব বিষয় হতে হালাল হননি যেসব বিষয় তাঁর উপর হারাম ছিল- কুরবানীর দিন পর্যন্ত। তখন তিনি মাথা মুড়ালেন এবং কুরবানী করলেন। তাঁর মতে প্রথম তাওয়াফ দ্বারা হজ্জ ও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ সম্পন্ন হয়েছে। এ সব করার পর তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপই করেছেন। (১৬৩৯) (আঃপ্রঃ ১৫৯০, ইঃফাঃ ১৫৯৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->বাধাপ্রাপ্ত হলে হালাল হওয়ার বৈধতা এং হাজ্জে ক্বিরান বৈধ হওয়ার বিবরণ হাঃ-২৮৮০

নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ এবং সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ উভয়ে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন- যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল। তারা উভয়ে বললেন, এ বছর হাজ্জ না করলে আপনার কী ক্ষতি আছে? কারণ আমাদের আশংকা হচ্ছে- গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আপনি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবেন না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি তা আমার ও বায়তুল্লাহ-এর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়ও তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা করেছেন, আমিও তদ্রূপ করব। কুরায়শ কাফিররা যখন তাঁর ও বায়তুল্লাহ্র মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছিল, এ সময় আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি ‘উমরার নিয়্যত করলাম। অতঃপর তিনি রওনা হয়ে যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌঁছে ‘উমরার জন্য তালবিয়াহ্ পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, যদি আমার পথ উন্মুক্ত থাকে, তবে আমি ‘উমরাহ্ পূর্ণ করব। আর যদি আমার ও বায়তুল্লাহ-এর মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা করেছেন আমিও তাই করব। সে সময় আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন : “তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”-(সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩ : ২১)। তিনি আবার চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না বায়দা নামক স্থানের উপকণ্ঠে পৌঁছলেন। এখানে পৌঁছে তিনি বললেনঃ হাজ্জ ও ‘উমরার বিধান একই। যদি আমার এবং ‘উমরার মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে আমার এবং হাজ্জের মাঝেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি আমার ‘উমরার সাথে হাজ্জকেও বাধ্যতামূলক করে নিলাম। অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং কুদায়দ নামক স্থানে পৌঁছে কুরবানীর পশু ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের জন্য এক ত্বওয়াফ (সাত চক্কর) ও এক সা’ঈ (সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার দৌড়) করলেন এবং ইহরাম খুললেন না, বরং হাজ্জ সমাপন করে কুরবানীর দিন উভয়ের ইহরাম খুললেন। (ই.ফা. ২৮৫৬, ই.সে. ২৮৫৫)


সুনান নাসাঈ অঃ->হজ্জের বিধি-বিধানসমূহ বাব->উমরার ইহরাম করলে তার সাথে হজ্জ সংযুক্ত করা যাবে কি? হাঃ-২৭৪৬

ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে বছর হাজ্জাজ ইব্‌ন যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে যুদ্ধ করার জন্য এসেছিল। তাঁকে বলা হলো যে, তাদের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাবে এবং আমার ভয় হচ্ছে তারা আপনাকে হজ্জ বাঁধাগ্রস্ত করবে। তিনি বললেনঃ “তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” যদি অবস্থা তা-ই হয়, তা হলে আমি তা-ই করবো-যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেছিলেন। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি আমার উপর উমরা ওয়াজিব করে নিয়েছি (ইহরাম করেছি)। তারপর তিনি বের হলেন। পরে যখন তিনি ‘বায়দা’ নামক স্থানে উপস্থিত হলেন, তখন বললেনঃ হজ্জ এবং উমরার অবস্থা একই। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার উমরার সাথে হজ্জও ওয়াজিব করে নিয়েছি (হজ্জের ও ইহরাম করলাম)। আর তিনি একটি ‘হাদী’ (কুরবানীর পশু) এনেছিলেন, যা তিনি কুদায়াদ নামক স্থান থেকে ক্রয় করেছিলেন। তারপর তিনি হজ্জ এবং উমরাহ উভয়ের তালবিয়া পড়তে পড়তে চলতে থাকলেন। পরে তিনি মক্কায় আগমন করে বায়তুল্লাহর তওয়াফ এবং সাফা মারওয়ার সাঈ করেন। এর অতিরিক্ত তিনি কিছু করেন নি। হাদী যবাই করলেন না, মাথা মুন্ডালেন না, চুলও কাটলেন না এবং যে সকল বস্তু হারাম ছিল, তার কোনটি থেকে ‘হালাল ’ হলেন না। এভাবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলো। তারপর তিনি (হাদী) যবাই (কুরবানী) করলেন ও মাথা মুণ্ডন করলেন। তিনি মনে করলেন যে, প্রথম তওয়াফ দ্বারাই হজ্জ ও উমরার তওয়াফ পূর্ণ করেছেন। ইব্‌ন উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপই করেছেন।