সহিহ বুখারী অঃ->পথে আটকে পড়া ও ইহ্‌রাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান বাব->মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ “অথবা সদাকা” (আল-বাকারা : ১৯৬) হাঃ-১৮১৫

কা‘ব ইব্‌নু ‘উজরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট দণ্ডায়মান হলেন। এ সময় আমার মাথা থেকে উকুন ঝরে পরছিল। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন : তোমার এই পোকাগুলো (উকুন) কি তোমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে? আমি বললাম, হাঁ, তিনি বললেনঃ মাথা মুণ্ডন করে ফেল অথবা বললেন, মুণ্ডন করে ফেল। কা‘ব ইব্‌নু ‘উজরা (রাঃ) বলেন, আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে এই আয়াতটি : “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয় কিংবা মাথায় কষ্টকর কিছু হয়ে থাকে...”- (আল-বাকারাহ : ১৯৬)। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি তিন দিন সাওম পালন কর কিংবা এক ফারাক (তিন সা‘ পরিমাণ) ছয়জন মিসকীনের মধ্যে সদাকা কর অথবা কুরবাণী কর যা তোমাদের জন্য সহজসাধ্য।


সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->হুদাইবিয়াহ্‌র যুদ্ধ। হাঃ-৪১৯১

কা'ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হুদাইবিয়াহ্‌র মুহরিম অবস্থায় আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। মুশরিকররা আমাদেরকে আটকে রেখেছিল। কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) বলেন, আমার কান পর্যন্ত বাবরী চুল ছিল। (মাথার) উকুনগুলো আমার মুখমণ্ডলের উপর ঝরে ঝরে পড়ছিল। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, তোমার মাথার উকুনগুলো তোমাকে কি কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) বলেন, এরপর আয়াত অবতীর্ণ হল, "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি পীড়িত হয় কিংবা তার মাথায় ক্লেশ থাকলে সওম কিংবা সাদকাহ কিংবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদাইয়া আদায় করবে"-(সূরাহ্‌হ আল-বাকারা ১৯৬) [১৮১৪] (আ.প্র. ৩৮৭১, ই.ফা. ৩৮৭৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয, মাথা কামালে ফিদ্ইয়াহ্ দেয়া ওয়াজিব এবং ফিদ্ইয়ার পরিমাণ হাঃ-২৭৭০

কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট দাঁড়ালেন এবং তখন তার মাথা থেকে উকুন ঝরে পরছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তোমার মাথা কামিয়ে ফেল। রাবী বলেন, অতএব আমার সম্পর্কে এ নাযিল হয়ঃ “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হবে (এবং এ কারণে মাথা মুড়িয়ে ফেলবে) তবে তাকে ফিদ্ইয়্যাহ্ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সদাক্বাহ্ দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে”- (সূরাহ্ আল বাকারা ২:১৯৬)। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর অথবা এক ফারাক্ব (তিন সা’) খাদ্য ছয়জন মিসকিনকে দান কর অথবা করবানী কর- যা সহজলভ্য হয়। (ই.ফা. ২৭৪৭, ই.সে. ২৭৪৫)