সহিহ বুখারী অঃ->সাওম বাব->দাউদ (আঃ)-এর সওম । হাঃ-১৯৮০

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌নু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যে, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমার সওমের (সওম পালন পদ্ধতি সম্পর্কে) আলোচনা করায় তিনি আমার এখানে আগমন করেন। আমি তাঁর জন্য খেজুরের গাছের ছালে পরিপূর্ণ চামড়ার বালিশ (হেলান দিয়ে বসার জন্য) উপস্থিত করলাম। তিনি মাটিতে বসে পড়লেন। বালিশটি তাঁর ও আমার মাঝে পরে থাকল। তিনি বললেনঃ প্রতি মাসে তুমি তিন দিন সওম পালন করলে হয় না? ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ সাত দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ নয় দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ এগারো দিন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দাউদ (আঃ)-এর সওমের চেয়ে উত্তম সওম আর হয় না- (তা হচ্ছে) অর্ধেক বছর, একদিন সওম পালন কর ও একদিন ছেড়ে দাও।


সহিহ বুখারী অঃ->অনুমতি চাওয়া বাব->পালঙ্ক ব্যবহার করা। হাঃ-৬২৭৭

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট আমার অধিক সওম পালন করার কথা উল্লেখ করা হলো। তখন তিনি আমার ঘরে আসলেন এবং আমি তাঁর উদ্দেশ্যে খেজুরের ছালে ভরা চামড়ার একটা বালিশ পেশ করলাম। তিনি মাটিতেই বসে গেলেন। আর বালিশটা আমার ও তাঁর মাঝে থেকে গেল। তিনি আমাকে বললেনঃ প্রত্যেক মাসে তিনদিন সওম পালন করা কি তোমার জন্যে যথেষ্ট নয়? আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বললেনঃ তা হলে পাঁচ দিন? আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বললেনঃ তবে সাতদিন? আমি আবার বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বললেনঃ তবে নয়দিন? আমি পুনরায় বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বললেনঃ তা হলে এগার দিন? আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! তখন তিনি বললেনঃ দাউদ (‘আঃ) –এর সওমের চেয়ে অধিক কোন (নাফ্‌ল) সওম নেই। তিনি প্রত্যেক মাসের অর্ধেক দিন সওম পালন করতেন অর্থাৎ একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন পালন করতেন না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭২৯)


সুনান নাসাঈ অঃ->সাওম (রোযা) বাব->মাসের পাচ দিন সাওম (রোযা) পালন করা হাঃ-২৪০২

আব্দুল্লাহ ইবৃন আমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে আমার সাওম (রোযা) পালন সম্পর্কে উল্লেখ করা হলে তিনি আমার কাছে আসলেন এবং আমি তার জন্য একটি খেজুরের বাকল ভর্তি মধ্যম আকারের চামড়ার বালিশ আগিয়ে দিলাম। তিনি মাটিতে বসে গেলেন এবং বালিশ আমার আর তার মাঝখানে ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার জন্য কি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম (রোযা) পালন যথেষ্ট নয়? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে পাঁচ দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে সাত দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, নয় দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! (আমার জন্য আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, তাহলে এগার দিন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! (আরো বাড়িয়ে দিন) তিনি বললেন, দাউদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাওমের উপরে কোন সাওম (রোযা) হতে পারে না। আর তা হল সারা জীবনের অর্ধেক একদিন সাওম (রোযা) পালন করা আর একদিন সাওম (রোযা) ভঙ্গ করা।