হাকীম ইব্নু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান আনয়নের পূর্বে (সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে) আমি সদকা প্রদান, দাসমুক্ত করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ন্যায় যত কাজ করেছি, সেগুলোতে সওয়াব হবে কি? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি যে সব ভালো কাজ করেছ তা নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছ (তুমি সেসব কাজের সওয়াব পাবে)।
হাকীম ইব্নু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি বলুন আমি জাহিলিয়্যাত যুগে দান, খায়রাত, গোলাম আযাদ ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার ইত্যাদি যে সব নেকীর কাজ করেছি, এতে কি আমি সাওয়াব পাব? হাকীম (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, অতীতের সৎকর্মসহ তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ অর্থাৎ তুমি যে সব নেকি করেছ, তার সম্পূর্ণ পুণ্য অর্জন করবে।
হিশাম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমার পিতা আমাকে অবগত করলেন যে, হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) জাহিলী যুগে একশ’ ক্রীতদাস মুক্ত করেছিলেন এবং আরোহণের জন্য একশ’ উট দিয়েছিলেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখনও একশ’ উট বাহন হিসেবে দান করেন এবং একশ’ ক্রীতদাস মুক্ত করলেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! জাহেলী যুগে কল্যাণের উদ্দেশে যে কাজগুলো আমি করতাম, সেগুলো সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার পিছনের ‘আমলগুলোর কল্যাণেই তো তুমি ইসলাম কবূল করেছ।
হাকিম ইব্নু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি একবার আরয করলেনঃ হে আল্লাহ্র রসূল! আমি জাহিলী হালাতে অনেক সাওয়াবের কাজ করেছি। যেমন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, গোলাম আযাদ করা এবং দান-খয়রাত করা, এসব কাজে কি আমি কোন সাওয়াব পাব? হাকীম (রাঃ) বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ পূর্বকৃত নেকীর বদৌলতে তুমি ইসলাম গ্রহণ করতে পেরেছ।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৫৩)
হাকিম ইবনু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, জাহিলী যুগে আমি যে সব নেক কাজ করতাম, আমি কি তার কোন প্রতিদান পাব? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তর করলেন : তোমার পূর্বকৃত সৎকর্মের বিনিময়ে তুমি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছ। রাবী বলেন, হাদীসে উক্ত (আরবী) শব্দটির (আরবী) ‘নির্জনে ‘ইবাদত করা’। (ই.ফা. ২২৩; ই.সে. ২৩১)
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম ইয়া রসূলাল্লাহ! জাহিলী যুগে যে সকল নেক কাজ করতাম আমি কি তার কোন প্রতিদান পাবো? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমার সে সব নেক কাজের বিনিময়ে তুমি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছ। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! জাহিলী যুগে যে সব নেক কাজ আমি করেছি ইসলামী জিন্দেগীতেও আমি তা করে যাব। (ই.ফা. ২২৫; ই.সে. ২৩৩)