হারিসা ইব্নু অহব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সদকা কর, কেননা তোমাদের ওপর এমন যুগ আসবে যখন মানুষ আপন সদকা নিয়ে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তা গ্রহণ করার মত কাউকে পাবে না। (যাকে দাতা দেয়ার ইচ্ছা করবে সে) লোকটি বলবে, গতকাল পর্যন্ত নিয়ে আসলে আমি গ্রহণ করতাম। আজ আমার আর কোন প্রয়োজন নেই।
হারিসা ইব্নু অহব খুযা’ঈ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সদকা কর। কেননা অচিরেই তোমাদের উপর এমন সময় আসবে, যখন মানুষ সদকার মাল নিয়ে ঘুরে বেড়াবে, তখন এক ব্যক্তি বলবে, গতকাল নিয়ে এলে অবশ্যই গ্রহণ করতাম কিন্তু আজ এর কোন প্রয়োজন আমার নেই।
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিত্বরের দিন বের হতেন এবং প্রথমে সলাত আদায় করতেন। যখন সলাত সম্পন্ন করে সালাম ফিরাতেন, লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন। তারা নিজ নিজ সলাতের স্থানে বসে থাকত। তারপর যদি কোথাও সৈন্য পাঠানোর প্রয়োজন হতো, তবে তা লোকদের নিকট ব্যক্ত করতেন। অথবা যদি অন্য কোন প্রয়োজন হতো তবে সে সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা সদাক্বাহ্ কর, সদাক্বাহ্ কর। দানের সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল মহিলাগণ। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরতেন। পরবর্তীকালে মারওয়ান যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল, তখন একবার আমি তাঁর হাত ধরে চলতে চলতে ঈদগাহে এসে উপনীত হলাম। এসে দিখি কাসীর ইবনু সাল্ত শক্ত মাটি ও ইট দিয়ে একটা মিম্বার তৈরি করে রেখেছে। মারওয়ান আমার থেকে এমনভাবে হাত টেনে ছুটাচ্ছিল যেন আমাকে মিম্বারের দিকে টানা হেঁচড়া করছে আর আমি তাকে সলাতের দিকে টানা হেঁচড়া করছি। যখন আমি তাঁর এ মনোভাব দেখলাম আমি জিজ্ঞেস করলাম, প্রথমে সলাত আদায়ের নিয়ম কি হল? মারওয়ান বলল, না হে আবূ সা’ঈদ! তুমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত তা রহিত হয়ে গেছে। আমি বললাম, কখনও না! সে সত্তার ক্বসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত এর চেয়ে উত্তম কিছু তোমরা কখনও করতে পারবে না। এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। এরপর তিনি চলে আসলেন। (ই.ফা. ১৯২৩, ই.সে. ১৯৩০)
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন বের হতেন এবং লোকদের নিয়ে দু’ রাকআত সালাত আদায় করতেন, তারপর সালাম ফিরাতেন। এরপর তিনি তার উভয় পায়ের উপর দাঁড়িয়ে উপবিষ্ট লোকদের দিকে মুখ করে বলতেন : তোমরা দান-খয়রাত করো, তোমরা দান-খয়রাত করো। দান-খয়রাতকারীদের অধিকাংশই ছিল মহিলা। তারা কানবালা, আংটি ও অন্যান্য জিনিস দান করেন। তিনি যদি কোথাও সামরিক বাহিনী প্রেরণ করা জরুরী মনে করতেন, তাহলে তাদের উদ্দেশ্যে সে সম্পর্কে আলোচনা করতেন, অন্যথায় ফিরে আসতেন। [১২৮৮]
হারিসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা সাদাকা কর। কেননা তোমাদের সামনে এমন এক সময় আসবে যখন কেউ সাদাকা নিয়ে তা দেওয়ার জন্য ঘুরতে থাকবে এবং যাকে দিতে চাইবে সে বলবে, তুমি যদি এগুলো গতকাল আনতে তাহলে আমি গ্রহন করতাম। আজ তো আমার (এগুলোর কোন প্রয়োজন নেই)।