সহিহ বুখারী অঃ->জানাযা বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর বাণীঃ পরিবার-পরিজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়, যদি বিলাপ করা তার অভ্যাস হয়ে থাকে। হাঃ-১২৮৪

উসামাহ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈকা কন্যা (যায়নাব) তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাঁকে) সালাম দিবে এবং বলবেঃ আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আগমন করেন। তখন তিনি দন্ডায়মান হলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সা’দ ইব্‌নু উবাদাহ, মু‘আয ইব্‌নু জাবাল, উবাই ইব্‌নু কা’ব, যাইদ ইব্‌নু সাবিত (রাঃ) এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তুলে দেয়া হল। তখন সে ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা ধারনা যে, তিনি এ কথা বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (শব্দ হচ্ছিল)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু’ চক্ষু বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা’দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! একি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন। আর আল্লাহ্‌ তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।


সহিহ বুখারী অঃ->রোগীদের বর্ণনা বাব->অসুস্থ শিশুদের সেবা করা। হাঃ-৫৬৫৫

উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর এক কন্যা (যাইনাব) তাঁর কাছে খবর দিয়েছেন, এ সময় উসামাহ, সা’দ ও সম্ভবতঃ ‘উবাই (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে ছিলেন। খবর এই ছিল যে, (যায়নাব বলেছেন) আমার এক শিশুকন্যা মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত। কাজেই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে সালাম পাঠিয়ে বলে দিলেনঃ আল্লাহ যা চান নিয়ে নেন, যা চান দিয়ে যান। তাঁর কাছে সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই তুমি ধৈর্য ধর এবং উত্তম বিনিময়ের আশা পোষণ কর। অতঃপর পুনরায় তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট কসম ও তাগিদ দিয়ে প্রেরণ করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন। আমরাও দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপরে শিশুটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কোলে তুলে দেয়া হল। এ সময় তার নিঃশ্বাস দ্রুত উঠানামা করছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা’দ (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! এটা কী? তিনি উত্তর দিলেনঃ এটা হল রাহমাত। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা করেন তার হৃদয়ে এটি দিয়ে দেন। আর আল্লাহ তাঁর দয়াদ্র বান্দাদের প্রতিই দয়া করে থাকেন(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪০)


সহিহ বুখারী অঃ->শপথ ও মানত বাব->আল্লাহর বাণীঃ তারা আল্লাহর নামে সুদৃঢ় কসম করেছে। (সূরাহ আন‘আম ৬/১০৯) হাঃ-৬৬৫৫

উসামাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একবার উসামাহ ইবনু যায়দ, সা‘দ ও ‘উবাই (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক কন্যা তাঁর কাছে খবর পাঠালেন যে, আমার পুত্র মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। কাজেই তিনি যেন আমাদের নিকট আসেন। তিনি সালামের সঙ্গে এ কথা বলে পাঠালেন যে, আল্লাহ যা দান করেন আর যা নিয়ে নেন সব কিছুই আল্লাহর জন্য। আর সব কিছুই আল্লাহর নিকট নির্ধারিত আছে। অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সাওয়াবের আশা কর। এরপর তাঁর কন্যা কসম দিয়ে আবার খবর পাঠালেন। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম। (সেখানে গিয়ে) তিনি যখন বসলেন, শিশুটিকে তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসালেন, আর শিশুটির শ্বাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু‘চোখ অশ্র“ প্রবাহিত করল। তখন সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ কী ব্যাপার? তিনি বললেনঃ এ হল রহমত, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তার মনের ভিতরে দিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ কেবলমাত্র তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপরই দয়া করে থাকেন। [৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০০)


সহিহ বুখারী অঃ->জাহ্‌মিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ বাব->তুমি বলে দাও, তোমরা আল্লাহ্‌ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো। তোমরা যে নামেই ডাকো সকল সুন্দর নামই তাঁর। [২০৬] (সূরা ইসরা ১৭/১১০) হাঃ-৭৩৭৭

উসামাহ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক সময় আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট ছিলাম। এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কোন এক কন্যার পক্ষ থেকে একজন সংবাদবাহক এসে তাঁকে জানাল যে, তাঁর মেয়ের পুত্রের মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদবাহককে বলে দিলেন, তুমি ফিরে যাও এবং তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ্ যা নিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি যা দিয়ে রেখেছেন সবেরই তিনি মালিক। তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট। কাজেই তাকে গিয়ে ধৈর্য ধরতে এবং প্রতিফল পাওয়ার আশা করতে বল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মেয়ে আবার সংবাদ বাহককে পাঠালেন। সে এসে বলল, আপনাকে তাঁর কাছে যাবার জন্য তিনি কসম দিয়ে বলেছেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তাঁর সঙ্গে সা’দ ইব্‌নু ‘উবাদাহ (রাঃ), মু’আয ইব্‌নু জাবাল (রাঃ) -ও দাঁড়ালেন। এরপর শিশুটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট দেয়া হল। তখন শিশুটির শ্বাস এভাবে দুর্বল হয়ে আসছিল, যেন তা একটি মশ্কে আছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর চোখ ভিজে গেল। সা’দ ইব্‌নু ‘উবাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল (এটা কী?) তিনি বললেনঃ এটিই রহম-দয়ামায়া, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তাঁর রহম-দিল বান্দাদের উপরই দয়া করে থাকেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৭৩)


সহিহ বুখারী অঃ->জাহ্‌মিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ বাব->আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ও চাওয়া। হাঃ-৭৪৭৮

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি এবং হুর ইব্‌নু কায়স ইব্‌নু হিস্‌ন ফাযারী (রাঃ) মূসা (আঃ) -এর সঙ্গীর ব্যাপারে দ্বিমত করছিলেন যে, তিনি কি খাযির ছিলেন? এমন সময় তাদের পাশ দিয়ে উবায় ইব্‌নু কা’ব আনসারী (রাঃ) যাচ্ছিলেন। ‘আব্দুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘আব্বাস(রাঃ) তাঁকে ডেকে বললেন, আমি এবং আমার এ বন্ধু মূসা (আঃ) -এর সঙ্গী সম্পর্কে বিতর্ক করেছি মূসা (আঃ) যার সঙ্গে সাক্ষাতের পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অবশ্যই আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে তার ব্যাপারে উল্লেখ করে বলতে শুনেছি যে, এক সময় মূসা (আঃ) বানী ইসরাঈলের একদল লোকের মাঝে ছিলেন। এমন সময় এক লোক তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, মূসা! আপনি কি জানেন, আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ আছেন? মূসা (আঃ) বললেন, না। তারপর মূসা (আঃ) -এর কাছে ওয়াহী নাযিল হল যে, হ্যাঁ আছেন, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (আঃ)তাঁর সঙ্গে দেখা করার পথ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সুতরাং আল্লাহ্ সেজন্য একটি মাছকে নির্দেশ হিসেবে ঠিক করলেন এবং তাকে বলা হল, মাছটিকে যখন হারিয়ে ফেলবে, তখন সেদিকে ফিরে যাবে, তবে তুমি তাঁর দেখা পাবে। এরই প্রেক্ষাপটে মূসা (আঃ) সাগরে মাছের চিহ্ন ধরে খোঁজ করতে থাকলে মূসার সঙ্গীটি বলল, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখণ্ডে (বসে) ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। সেটার কথা আপনাকে বলতে শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল- (সুরাহ কাহাফ ১৮/৬৩)। মূসা বলল, ‘এটাই তো সে জায়গা যেটা আমরা খুঁজছি।’ কাজেই তারা তাদের পায়ের চিহ্ন ধরে ফিরে গেল। তখন তারা পেল- (সুরাহ কাহাফ ১৮/৬৪-৬৫)। তাদের এ দু’জনের ঘটনা যা ঘটেছিল, আল্লাহ্ তারই বর্ণনা দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭০)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->জানাযা বাব->মৃতের জন্য কান্নাকাটি করা হাঃ-৩১২৫

উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা (যাইনাব (রাঃ)) তাঁর নিকট লোক পাঠালেন। তখন আমি ও সাদ (রাঃ) তাঁর সাথে ছিলাম। সম্ভবত উবাই (রাঃ) আমাদের সাথেই ছিলেন। তিনি বলে পাঠান, আমার একটি শিশু পুত্র বা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) কন্যা মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি তাকে লোক মারফত সালাম পাঠিয়ে বললেনঃ বলো, আল্লাহ যা গ্রহণ করেন এবং যা দান করেন তা সবই তাঁর। তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুর একটা নির্দিষ্ট সময়কাল আছে। তিনি পুনরায় কসম দিয়ে লোক পাঠালেন। তিনি সেখানে গেলেন। বাচ্চাটি রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোলে রাখা হলো। তখন তার প্রাণ ছটফট করছিল। এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। সা’দ (রাঃ) তাঁকে বললেন, এ কি? তিনি বললেনঃ এটাই হলো মায়া। আল্লাহ যাদেরকে চান তাদের অন্তরে এটি স্থাপন করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়াবানদের দয়া করেন।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->জানাযাহ বাব->মৃতের জন্য কান্নাকাটি করা হাঃ-১৫৮৮

উসামাহ বিন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর এক কন্যার শিশু পুত্রের মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ তার নিকট আসার জন্য লোক মারফত বলে পাঠান। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কন্যাকে বলে পাঠান যে, সবই আল্লাহর যা তিনি নেন তাও তাঁর এবং যা তিনি দান করেন তাও তাঁর। প্রতিটি বস্তুর জন্য তাঁর নিকট একটি নির্ধারিত কাল রয়েছে। অতএব তোমার ধৈর্যধারণ ও সওয়াবের আশা করা উচিত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কন্যা কসম খেয়ে পুনরায় তাঁর কাছে লোক পাঠান। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে রওয়ানা হন এবং আমিও তাঁর সাথে উঠে রওয়ানা হই। তাঁর সাথে আরো ছিলেন মু’আয বিন জাবাল, উবাদা বিন সামিত ও উবাই বিন কা’ব (রাঃ)। আমরা গিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলে শিশুটিকে যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে দিল, তখন তার রূহ তার বুকের মাঝে ধড়ফড় করছিল। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেন, এ যেন পুরাতন মশক। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। উবাদা বিনস সামিত (রাঃ) তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! একী? তিনি বলেনঃ মায়া-মমতা, যা আল্লাহ আদম-সন্তানদের মধ্যে রেখে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর দয়ালু বান্দাদের অবশ্য দয়া করেন। [১৫৮৬]


সুনান নাসাঈ অঃ->জানাযা পর্ব বাব->বিপদের সময় সওয়াবের নিয়তে ধৈর্যধারণ করার আদেশ হাঃ-১৮৬৮

উসামা ইব্‌ন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছালেন যে, আমার এক ছেলে মৃত্যু শয্যায় শায়িত। অতএব আপনি আমাদের এখানে আসুন। তখন তিনি সালাম পাঠিয়ে বললেন, আল্লাহ তাআলা যা নিয়ে যান তা তাঁরই এবং যা দান করেন তাও তাঁরই। আর প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। অতএব, তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং সওয়াবের আশা রাখ। অতঃপর তিনি কসম দিয়ে তাঁর কাছে পাঠালেন, যেন তিনি তাঁর কাছে অবশ্যই আসেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন; তাঁর সাথে সা’দ ইব্‌ন উবাদাহ (রাঃ) মু‘আয ইব্‌ন জাবাল (রাঃ) উবায় ইব্‌ন কা‘ব (রাঃ) যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ) এবং আরো কিছু লোক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে ছেলেকে উঠালেন তখন তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এতদদর্শনে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আঁখিদ্বয় অশ্রুপাত করতে লাগল। তখন সা‘দ (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! এ কি? তিনি বললেন, এ হল রহমত বিশেষ যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের হৃদয়ে রেখে থাকেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়াবানদের উপর দয়া করে থাকেন।