‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের নিয়ে সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকু’ করে আবার দাঁড়ালেন। আবার রুকু’ করলেন এবং আবার দাঁড়ালেন। অতঃপর রুকু’ করলেন। এভাবে দু' রাক'আত সলাত আদায় করলেন এবং প্রত্যেক রাক'আতে তিনটি করে রুকু’ করার পর সাজদাহ্ করলেন। সলাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কতিপয় লোক অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তাদের উপর পানি ঢালা হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু’ করার সময় 'আল্লাহু আকবার’; আর রুকু’ হতে মাথা উঠানোর সময় 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলেছেন এবং তাঁর সলাত অবস্থায়ই সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বললেনঃ সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ কারোর জন্ম বা মৃত্যুর কারণে হয় না, বরং তা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু'টি নিদর্শন। তিনি এর দ্বারা স্বীয় বান্দাদেরকে ভয় দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং কখনো গ্রহণ হলে তোমরা সলাত আদায়ে মনোনিবেশ করবে। সহীহঃ মুসলিম। কিন্তু (তিন রাক’আত) কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ (দুই রাক’আত)। যেমন বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। এছাড়া সামনে ১১৮০ নং এ আসছে।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে সূর্যের গ্রহণ লাগলো। তখন তিনি মানুষদের নিয়ে দীর্ঘক্ষন পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি তাদের নিয়ে দাঁড়ালেন, তারপর রুকূ করলেন, আবার দাঁড়ালেন, তারপর রুকূ করলেন, আবার দাঁড়ালেন, তারপর রুকূ করলেন, এভাবে তিনি প্রতি রাকাআতে তিন রুকূসহ দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। তৃতীয় বার রুকূ পরে তিনি সিজদা করলেন। এমনকি কিছু লোক সেদিন দীর্ঘক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার জন্য সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছিল। যে কারণে তাদের ওপর প্রচুর পানি ঢালা হয়েছিল। তিনি যখন রুকূ করতেন তখন বলতেন, “আল্লাহ আকবার” আর যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, তখন বলতেন, “সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” তিনি সূর্য আলোকিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত শেষ করলেন না। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর গুন বর্ণনা ও প্রশংসা করলেন এবং বললেন কারো জন্ম-মৃত্যুর কারণে চন্দ্র সূর্য গ্রহণ হয় না, বরং তা আল্লাহর নিদর্শন সমুহের দু’টো নিদর্শন। আল্লাহ্ তা‘আলা তদ্বারা তোমাদের ভীতি প্রদর্শন করেন। সুতরাং যখন তাদের গ্রহণ লাগে, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও, তা আলোকিত না হওয়া পর্যন্ত।