সহিহ বুখারী অঃ->ক্রয়-বিক্রয় বাব->দ্রব্যসামগ্রীর মালিক মূল্য বলার অধিক হকদার। হাঃ-২১০৬

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে বানূ নাজ্জার! আমাকে তোমাদের বাগানের মূল্য বল। বাগানটিতে ঘরের ভাঙা চুরা অংশ ও খেজুর গাছ ছিল।


সহিহ বুখারী অঃ->অসীয়াত বাব->কোন দল যদি তাদের শরীকী জমি ওয়াক্‌ফ করে তা জায়িয। হাঃ-২৭৭১

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদ তৈরির নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বললেন, হে বনূ নাজ্জার! তোমরা এই বাগানটির মূল্য নির্ধারণ করে আমার নিকট বিক্রি কর। তারা বলল, না। আল্লাহ্‌র কসম! আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে এর মূল্য চাই না।


সহিহ বুখারী অঃ->অসীয়াত বাব->মসজিদের জন্য জমি ওয়াক্‌ফ করা। হাঃ-২৭৭৪

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় এলেন তখন মসজিদ নির্মানের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি বললেন, ‘হে বনূ নাজ্জার! মূল্য নির্ধারণ করে তোমাদের এ বাগানটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও।’ তারা বলল, না, আল্লাহ্‌র কসম! মহান আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে আমরা এর মূল্য চাই না।’


সহিহ বুখারী অঃ->অসীয়াত বাব->ওয়াক্‌ফকারী যদি বলে, আমি একমাত্র আল্লাহ্‌র নিকট এর মূল্য পেতে চাই তা জায়িয। হাঃ-২৭৭৯

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে বনূ নাজ্জার! তোমাদের বাগানটি মূল্য নির্ধারণ করে আমার নিকট বিক্রি করে দাও। তারা বলল, আমরা এর মূল্য একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে চাই না।


সহিহ বুখারী অঃ->আনসারগণের মর্যাদা বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীবর্গের মদীনা উপস্থিতি হাঃ-৩৯৩২

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় আসলেন তখন মদীনার উঁচু এলাকার ‘আমর ইব্‌নু ‘আউফ গোত্রে অবস্থান করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, সেখানে তিনি চৌদ্দ দিন থাকলেন। এরপর তিনি বানু নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে খবর পাঠালেন। তারা সকলেই তরবারি ঝুলিয়ে হাযির হলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, সেই দৃশ্য এখনো যেন আমি দেখতে পাচ্ছি। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সওয়ারীর উপর এবং আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর পিছনে উপবিষ্ট রয়েছেন, আর বনু নাজ্জারের নেতাগণ রয়েছেন তাদের পার্শ্বে। অবশেষে আবূ আইউব (রাঃ) - এর বাড়ির চত্বরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মালপত্র নামালেন। রাবী বলেন, ঐ সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেখানেই সলাতের সময় হত সেখানেই সলাত আদায় করে নিতেন। এবং তিনি কোন কোন সময় ছাগল-ভেড়ার খোঁয়াড়েও সলাত আদায় করতেন। রাবী বলেন, তারপর তিনি মসজিদ তৈরির নির্দেশ দিলেন। তিনি বনী নাজ্জারের নেতাদের ডাকলেন এবং তারা এলে তিনি বললেন, তোমাদের এ বাগানটি আমার নিকট বিক্রি কর। তারা বলল, আল্লাহ্‌র শপথ, আমরা বিক্রি করব না। আল্লাহ শপথ-এর বিনিময় আল্লাহ্‌র নিকটই চাই। রাবী বলেন, এখানে কি ছিল, আমি তোমাদের বলছি স্থানে তখন ছিল মুশরিকদের পুরাতন কবর, বাড়ী ঘরের কিছু ভগ্নাবশেষ কয়েকটি খেজুরের গাছ। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর নির্দেশে মুশরিকদের কবরগুলি মিশিয়ে দেয়া হল। ভগ্ন চিহ্ন সমতল করা হল, খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলা হল। রাবী বলেন, কাটা খেজুর গাছের কান্ডগুলি মসজিদের কেবলার দিকে এর খুঁটি হিসেবে এক লাইনে স্থাপন করা হল এবং খুঁটির ফাঁকা স্থানে রাখা হল পাথর। তখন সাহাবাগণ পাথর বয়ে আনছিলেন এবং ছন্দ যুক্ত কবিতা আবৃত্তি করছিলেনঃ আর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাদের সঙ্গে ছিলেন এবং বলছিলেন, হে আল্লাহ্‌! আসল কল্যাণ কেবলমাত্র আখিরাতের কল্যাণ। হে আল্লাহ্‌! তুমি মুহাজির ও আনসারদের সাহায্য কর। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৪২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৪৫)


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মসজিদ নির্মাণ হাঃ-১০৬০

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরাত করে মদিনায় আগমন করলেন, মাদিনার উচ্চভূমিতে ‘বানী আমর ইবনু ‘আওফ গোত্রের এলাকায় অবতরণ করলেন, এবং সেখানে চৌদ্দ রাত অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি বানী নাজ্জার গোত্রের লোকজনকে ডেকে পাঠালেন তারা সবাই (খোলা) তরবারিসহ আগমন করলো। হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তাঁর সওয়ারী বা বাহনের উপর দেখতে পাচ্ছি। আবূ বাকর তাঁর পেছনে বসে আছেন এবং বানী নাজ্জারের লোকজন তাকে ঘিরে আছেন। অবশেষে তিনি আবূ আইয়ুবের (আনসারী) বাড়ীর আঙীনায় অবতরণ করলেন। বর্ণনাকারী আনাস বলেছেন, সলাতের সময় হলেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করে নিতেন। এমনকি তিনি বকরীর খোঁয়াড়েও সলাত আদায় করতেন। পরে তিনি মসজিদ নির্মাণ করতে আদিষ্ট হলে বানী নাজ্জার গোত্রের নেতৃস্হায়ী লোকদের ডেকে পাঠালেন। তারা উপস্হিত হলে তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বানী নাজ্জার! তোমরা তোমাদের এ বাগানটি অর্থের বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি কর। তারা বললো না, আল্লাহর শপথ, আমরা আল্লাহর নিকট ছাড়া আপনার কাছে এর মূল্য দাবী করব না। আনাস বলেন, ঐ বাগানটিতে যা ছিল তা আমি বর্ণনা করছি, ঐ বাগানে ছিল খেজুর গাছ, মুশরিকের কিছু কবর এবং কিছু ঘর-বাড়ির ধ্বংস স্তুপ। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নির্দেশে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, মুশরিকদের কবরগুলো খুঁড়ে ফেলা হলো এবং ধ্বংসাবশেষ গুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হলো। তারা (কর্তিত) খেজুর গাছের গুড়িসমুহ ক্বিবলার দিকে সারি করে রাখল এবং দরজার দু’পাশে পাথর স্হাপন করল। আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেছেন। এসব কাজ করার সময় তারা একসুরে কবিতা আবৃতি করছিল। আর তাদের সাথে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একসুরে কবিতা আবৃতি করছিলেন। তারা বলছিল, ‘হে আল্লাহ ! আখিরাতের কল্যান ছাড়া প্রকৃত কোন কল্যান নেই। তুমি আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করো’’ (ই. ফা. ১০৫৪ ই. সে. ১০৬৩)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->মসজিদ নির্মাণ সম্পর্কে হাঃ-৪৫৩

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় আগমন করে মদীনার বনু ‘আমর ইবনু ‘আওফ নামক উচ্চভূমির একটি এলাকায় অবতরণ করলেন। সেখানে তিনি চৌদ্দ দিন অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বনু নাজ্জারের নিকট লোক পাঠালেন। তারা তাঁর (সম্মানার্থে) গলায় তরবারী ঝুলিয়ে অস্ত্রে সুসজ্জিত অবস্থায় এলো আনাস (রাঃ) বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে উটের উপর দেখে পাচ্ছি এবং তাঁর পেছনে আবূ বকর (রাঃ) আরোহিত ছিলেন। আর বনু নাজ্জারের লোকেরা ছিল তাঁর চারপাশে। অবশেষে তিনি আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) এর আঙ্গিনায় অবতরণ করলেন। যেখানেই সলাতের ওয়াক্ত হত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করে নিতেন। তিনি বকরী রাখার স্থানেও সলাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি মসজিদ নির্মাণের আদেশ দিলেন। তিন বনু নাজ্জারের নিকট সংবাদ পাঠিয়ে ডাকালেন এবং বললেন, হে বনু নাজ্জার! তোমরা এ বাগানের মূল্য নিয়ে নাও। তারা বলল, আল্লাহ্‌র শপথ! আমরা এর বিনিময় একমাত্র আল্লাহ্‌র নিকটেই চাই। আনাস (রাঃ) বলেন বাগানটিতে যা যা ছিল আমি তোমাদেরকে তা বলছিঃ তাতে ছিল মুশরিকদের কিছু ক্ববর, পুরাতন ধ্বংসস্তুপ এবং কিছু খেজুর গাছ। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নির্দেশক্রমে মুশরিকদের ক্ববরগুলো খুঁড়ে হাড়গোড় ইত্যাদি বেছে অন্যত্র ফেলে দেয়া হলো। কর্তিত খেজুর গাছের কাণ্ড মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে গেড়ে দেওয়া হলো। দরজার চৌকাঠ নির্মাণ করা হলো পাথর দ্বারা। সাহাবীদণ পাথরগুলো স্থানান্তরের সময় কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -ও তাদের সাথেই ছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ হে আল্লাহ্‌! আখিরাতের কল্যাণই প্রকৃত কল্যাণ। আপনি আনসার ও মুহাজিরের সাহায্য করুন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->মসজিদ বাব->কবরের স্থান সমান করে মসজিদ বানানো হাঃ-৭০২

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন তিনি মদীনার এক প্রান্তে বনূ আমর ইব্‌ন আওফ নামক এক গোত্রে অবতরণ করলেন। তিনি সেখানে চৌদ্দ দিন অবস্থান করেন। তারপর তিনি বনূ নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা তাদের তলোয়ার লটকিয়ে আগমন করলেন, আমি যেন এখনও দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সওয়ারীর উপর আর আবূ বকর (রাঃ) তাঁর পেছনে উপবিষ্ট। আর বনূ নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকেরা তাঁর চতুস্পার্শ্বে চলতে চলতে তিনি আবূ আইয়্যূব (রাঃ)-এর ঘরের সামনে অবতরন করলেন। তিনি সালাতের সময় যেখানেই থাকতেন, সেখানেই সালাত আদায় করতেন। তিনি বকরীর পালের স্থানেও সালাত আদায় করতেন। তারপর তাঁকে মসজিদ তৈরি করার আদেশ দেয়া হলে তিনি নাজ্জার গোত্রের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা আগমন করলে তিনি বললেন, হে বনূ নাজ্জারের লোক সকল ! তোমরা তোমাদের এ স্থানটি আমার নিকট বিক্রয় কর। তারা বলল, আল্লাহর শপথ ! আমরা এর মূল্য গ্রহণ করব না। এর মূল্য আমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট চাইব। আনাস (রাঃ) বলেন : সেখানে মুশরিকদের কবর, ভগ্ন গৃহ এবং খেজুর গাছ ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করলে ঐ সকল কবর সমতল করে দেয়া হল আর খেজুর গাছ কেটে ফেলা হল এবং বিধ্বস্ত ঘরগুলো ভেঙ্গে সমান করে দেয়া হলো। সাহাবীগণ কিবলার দিকে সারিবদ্ধ করে খেজুর গাছ রাখলেন এবং পাথর দ্বারা তার গোড়া ভরাট করলেন। তারপর শিলাখন্ডগুলো সরাচ্ছিলেন আর ছড়া গাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা বলছিলেন : (আরবী) “হে আল্লাহ্‌ ! আখিরাতের মঙ্গলই প্রকৃত মঙ্গল, আপনি আনসার ও মুহাজিরদেরকে সাহায্য করুন।”