সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা মাথায় কোন কষ্ট থাকে তবে সওম কিংবা সদাকাহ অথবা কুরবানী দিয়ে তার ফিদ্ইয়া দিবে। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৯৬) হাঃ-৪৫১৭

‘আবদুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু উজরা-এর নিকট এই কূফার মাসজিদে বসে থাকাকালে সওমের ফিদ্য়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমার চেহারায় উকুন ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আনা হয়। তিনি তখন বললেন, আমি মনে করি যে, এতে তোমার কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে পার? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য দান কর। প্রতিটি দরিদ্রকে অর্ধ সা‘ খাদ্য দান করতে হবে এবং তোমার মাথার চুল কামিয়ে ফেল। তখন আমার ব্যাপারে বিশেষভাবে আয়াত অবতীর্ণ হয়। তবে তোমাদের সকলের জন্য এই হুকুম। [১৮১৪] (আ.প্র. ৪১৫৯, ই.ফা. ৪১৬০)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয, মাথা কামালে ফিদ্ইয়াহ্ দেয়া ওয়াজিব এবং ফিদ্ইয়ার পরিমাণ হাঃ-২৭৭৩

‘আবদুল্লাহ ইবনু মা‘ক্বিল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি মাসজিদে কা‘ব ইবনু ‘উজ্রাহ্ (রাঃ)-এর নিকট বসলাম। অতঃপর আমি তাকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, “ফিদ্ইয়াহ্ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সদক্বাহ্ দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে।” কা‘ব (রাঃ) বললেন, তা আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার মাথায় কিছু কষ্ট ছিল। অতঃপর আমাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল এবং তখন আমার মুখমণ্ডলে উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি যা দেখছি তাতে মনে হয় যে, তোমার অসহনীয় কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে? আমি বললাম, না। তখন আয়াত নাযিল হয়, “ফিদ্ইয়াহ্ হিসেবে সওম পালন করতে হবে, সদাক্বাহ্ করতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে।” নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে অর্ধ সা‘ করে খাদ্য দান কর। কা‘ব (রাঃ) বলেন, আয়াতটি বিশেষভাবে আমার প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে কিন্তু এর নির্দেশ সাধারণভাবে তোমাদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (ই.ফা. ২৭৫০, ই.সে. ২৭৪৮)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->হজ্জ বাব->বাধাগ্রস্ত হলে তার ফিদ্‌য়া হাঃ-৩০৭৯

আবদুল্লাহ থেকে বর্নিতঃ

আমি মসজিদের মধ্যে কা’ব বিন উজরাহ (রাঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। আমি তার নিকট নিম্নোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম (অনুবাদ) : “তবে রোযা অথবা সদাকা অথবা কোরবানীর মাধ্যমে ফিদ্‌য়া দিবে” (সূরা বাকারাঃ ১৯৬) কা’ব (রাঃ) বলেন, এ আয়াত আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। আমার মাথার অসুখ ছিল। আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। উকুন আমার মুখমণ্ডলে ছড়িয়েছিল। তখন তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে যে কষ্ট ভোগ করতে দেখছি তেমনটি আর কখনও দেখিনি। তুমি কি একট বকরী সংগ্রহ করতে পারবে? আমি বললাম, না। রাবী বলেন, তখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ “তবে রোযা অথবা সদাকা অথবা কোরবানীর মাধ্যমে ফিদ্‌য়া দিবে”। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তিন দিন রোযা রাখতে হবে, আর সদাকার ক্ষেত্রে ছয়জন মিসকীনকে খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে, মাথাপিছা অর্ধ সা’ (এক কেজি দু’শ পঞ্চাশ গ্রাম) এবং কোরবানীর ক্ষেত্রে একটি বকরী। [৩০৭৯]