‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যিল-কা’দাহ মাসের পাঁচ দিন বাকী থাকতে আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হজ্জ আদায় করা ব্যতীত আমাদের অন্য কোন ইচ্ছা ছিল না। যখন আমরা মক্কার কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই সে যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সা’ঈ করে হালাল হয়ে যায়। ‘আয়েশা (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিন আমাদের কাছে গরুর গোশ্ত আনা হলে আমি বললাম, এ কী? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, উক্ত হাদীসখানা কাসিমের নিকট আলোচনা করলে তিনি বললেন, সঠিকভাবেই তিনি হাদীসটি তোমার কাছে বর্ণনা করেছেন। (২৯৪) (আঃপ্রঃ ১৫৯১, ইঃফাঃ ১৫৯৮)
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা যুল-কাদার ৫ রাত থাকতে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হজ্জ আদায় ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। মক্কার নিকটবর্তী হলে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের আদেশ দিলেন যাদের নিকট কুরবানীর জন্তু নেই, তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়ার সা’ঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেলবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিন আমাদের নিকট গরুর গোশ্ত পৌঁছান হলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কিসের? বলা হলো, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে কুরবানী আদায় করেছেন। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) বলেন, আমি হাদীসটি কাসেম ইব্নু মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম বর্ণনাকারিনী এ হাদীসটি আপনার নিকট সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন।
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যিল ক্ব‘দাহ্ মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। হাজ্জ পালন ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মাক্কার নিকটবর্তী হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করার পর ইহরাম ভঙ্গ করবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিন কেউ আমদের জন্য গরুর গোশ্ত নিয়ে এলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? বলা হল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদীস ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদের নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (‘আম্রাহ্) তোমার নিকট হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৭৯২, ই.সে. ২৭৯০)
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যিলকাদ মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে রওনা হলাম। হজ্জ করাই ছিল আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আমরা গন্তব্যে (মক্কায়) বা তার কাছাকাছি পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দেন, যার সাথে কোরবানির পশু নেই সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। অতএব যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেলেন। কোরবানির দিন আমাদের জন্য গরুর গোশত নিয়ে আসা হল এবং বলা হল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে কোরবানি করেছেন। [২৯৮১] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমরা (হজ্জের উদ্দেশ্য) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যিলকাদ মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে বের হয়েছিলাম। হজ্জ ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা যখন মক্কার নিকটবর্তী হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করলেনঃ যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন বায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ সমাপ্ত করে (উমরা করে) হজ্জের মীকাতসমুহ (ইহরামের নির্ধারিত স্থান ) হালাল হয়ে যায়।