সহিহ বুখারী অঃ->হজ্জ বাব->কিরান হজ্জকারীর তাওয়াফ। হাঃ-১৬৩৮

‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম এবং ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যার সাথে হাদী-এর জানোয়ার আছে সে যেন হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের ইহ্‌রাম বেঁধে নেয়। অতঃপর উভয় কাজ সমাপ্ত না করা পর্যন্ত সে হালাল হবে না। আমি মক্কায় উপনীত হয়ে ঋতুবতী হলাম। যখন আমরা হজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে আমাকে তান’ঈম প্রেরণ করলেন। এরপর আমি ‘উমরাহ পালন করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ হলো তোমার পূর্ববর্তী (অসমাপ্ত) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ঐ হজ্জের সময় যাঁরা (কেবল) ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহ্‌রাম বেঁধে এসেছিলেন, তাঁরা তাওয়াফ করে হালাল হয়ে গেলেন। এরপর তাঁরা মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন। আর যাঁরা একসাথে ‘উমরাহ ও হজ্জের নিয়্যাত করেছিলেন, তাঁরা একবার তাওয়াফ করলেন। (২৯৪) (আঃপ্রঃ ১৫২৮, ইঃফাঃ ১৫৩৪)


সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->বিদায় হাজ্জ হাঃ-৪৪০৮

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন,আমরা (মাদীনাহ মুনাওয়ারা থেকে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ 'উমরাহ্‌র ইহ্‌রাম বেঁধেছিলেন আর কেউ কেউ হাজ্জের ইহ্‌রাম, আবার কেউ কেউ হজ্জ ও 'উমরাহ্‌ উভয়ের ইহ্‌রাম বেঁধেছিলেন। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জের ইহ্‌রাম বেঁধেছিলেন। যাঁরা শুধু হাজ্জের ইহ্‌রাম বেঁধেছিলেন অথবা হাজ্জ ও 'উমরাহ্‌র ইহ্‌রাম একসঙ্গে বেঁধেছিলেন, তারা কুরবানীর দিনের পূর্বে হালাল হতে পারেননি। (আ.প্র. ৪০৫৮, ই.ফা. ৪০৬২) মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি উপরোক্ত হাদীসটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বিদায় হাজ্জকালীন সময়ে। [২৯৪] (আ.প্র. ৪০৫৯, ই.ফা. ৪০৬৩) ইসমা'ঈল (রহঃ) সূত্রেও মালিক (রহঃ) থেকে এভাবে বর্ণিত আছে। (আ.প্র. ৪০৬০, ই.ফা. ৪০৬৩)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে হাঃ-২৮০৭

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কতক ‘উমরার উদ্দেশে, কতক হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের উদ্দেশে এবং কতক শুধু হাজ্জের উদ্দেশে ইহরাম বাঁধল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল হাজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিল, তারা (‘উমরাহ্ সমাপনান্তে) ইহরাম খুলে ফেলল। আর যারা শুধু হাজ্জের, আর যারা হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিল, তারা কুরবানী দিবসের পূর্ব পর্যন্ত ইহরামমুক্ত হতে পারেনি। (ই.ফা. ২৭৮৪, ই.সে. ২৭৮২)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->হজ্জ বাব->হাজ্জে ইফরাদ হাঃ-১৭৭৯

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছরে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে হাজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমাদের মধ্যকার কেউ ‘উমরাহ্‌র ইহরাম বেঁধেছিলো, কেউ হাজ্জ ও ‘উমরাহ দুটির ইহরাম বেঁধেছিলো এবং কেউ শুধুমাত্র হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুধু হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। যারা শুধু হাজ্জ কিংবা হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তারা কুরবানীর দিন পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারেননি। [১৭৭৯]