সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->জামা’আত পরিত্যাগের ব্যাপারে সাবধান বাণী হাঃ-৫৫০

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, তোমরা সঠিকভাবে আযানের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের প্রতি সবিশেষ নযর রাখবে। কেননা এই পাঁচ ওয়াক্ত সলাতই হচ্ছে হিদায়াতের পথ। মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জন্য হিদায়াতের এ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের (সাধারণ) ধারণা, স্পষ্ট মুনাফিক্ব ব্যতীত কেউ জামা’আত থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারে না। আমরা তো আমাদের মধ্যে এমন লোকও দেখেছি, যারা (দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে) দু’জনের উপর ভর করে (মসজিদে) যেত এবং তাকে (সলাতের) কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার ঘরে তার মসজিদ (সলাতের স্থান) নেই। তোমরা যদি মসজিদে আসা বাদ দিয়ে ঘরেই (ফরয) সলাত আদায় কর তাহলে তোমরা তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাতকেই বর্জন করলে। আর তোমরা তোমাদের নাবীর সুন্নাত ত্যাগ করলে অবশ্যই কুফরীতে জড়িয়ে পড়বে। সহীহঃ মুসলিমে ___ ‘তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে’ শব্দে। আর এটাই মাহফূয।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->মসজিদ ও জামাআত বাব->পদব্রজে সালাত আদায় করতে যাওয়া। হাঃ-৭৭৭

আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে ব্যক্তি আগামীতে (কিয়ামাতে) মুসলিম হিসেবে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাত করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই পাঁচ ওয়াক্‌ত সালাতের প্রতি যত্নবান হয়, যেখানে তার জন্য আযান দেয়া হয়। কেননা এটাই হল হেদায়াতের উত্তম পন্থা। আর আল্লাহ তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য হেদায়াতের পন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমার জীবনের শপথ! তোমাদের সকলে যদি নিজ নিজ বাড়িতে সালাত পড়ো, তবে তোমরা অবশ্যই তোমাদের নবীর সুন্নাত ত্যাগ করলে। আর তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ত্যাগ করলে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে। অবশ্যই আমরা প্রকাশ্য মুনাফিক ব্যাতীত অপর কাউকে সালাতের জামাআত ত্যাগ করতে দেখতাম না। আমি এমন ব্যাক্তিকেও দেখেছি, যিনি দু’ব্যাক্তির কাঁধে ভর করে জামাআতের কাতারে শারীক হতেন। যে ব্যাক্তি উত্তমরূপে ওযু করে মসজিদে উপস্থিত হয়ে সালাত পড়ে, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে আল্লাহ তার এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি গুনাহ মুছে দেন। [৭৭৫]


সুনান নাসাঈ অঃ->ইমামত বাব->সালাতের আযান দিলে তার হিফাযত করা হাঃ-৮৪৯

আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি কাল আল্লাহ্‌ তা’আলার সঙ্গে একজন মুসলমান হিসাবে সাক্ষাৎ করার আশা রাখে, সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হিফাযত করে, সেখানে তার আযান দেয়া হয়। আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হিদায়াতের নিয়মাবলী বর্ণনা করেছেন, আর ঐগুলো হিদায়াতের নিয়মের অন্তর্গত। আর আমি ধারণা করি, তোমাদের ঘরে প্রত্যেকের একটা সালাতের স্থান রয়েছে। অতএব যদি তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় কর আর তোমাদের মসজিদ পরিত্যাগ কর, তাহলে তোমরা তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরীকা পরিত্যাগ করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরীকাই পরিত্যাগ করলে তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হলে। আর যে মুসলিমই উত্তমরূপে উযূ করে, তারপর সে সালাতের জন্য পায়ে হেঁটে যায়, আল্লাহ্‌ তা’আলা তার প্রতি পদক্ষেপে একটি পুণ্য লেখেন, অথবা তার জন্য তার মর্যাদার একটি ধাপ উন্নত করে দেন। অথবা তদ্‌দ্বারা তার একটি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন। আমি সেই সময়টা যেন দেখতে পাচ্ছি যখন আমরা (মসজিদে যাওয়ার সময়) কাছাকাছি পা ফেলে চলতাম (যাতে অধিক নেকী পাওয়া যায়) আর তা থেকে বিরত থাকত না কেউ ঐ মুনাফিক ব্যতীত যার নিফাক প্রকাশ্য। পক্ষান্তরে আমি দেখেছি, এক ব্যক্তি দুই ব্যক্তির সাহায্যে চলতে থাকত। অবশেষে তাকে কাতারে দাঁড় করান হতো।