সহিহ বুখারী অঃ->আযান বাব->আযানের মর্যাদা । হাঃ-৬০৮

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে, যাতে সে আযানের শব্দ না শুনে। যখন আযান শেষ হয়ে যায়, তখন সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন সালাতের জন্য ইক্বামাত বলা হয়, তখন আবার দূরে সরে যায়। ইক্বামাত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পোঁছে যে, সে কয় রাক’আত সালাত আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না।


সহিহ বুখারী অঃ->সাহু বাব->সালাত তিন রাক‘আত আদায় করা হল নাকি চার রাক‘আত, তা মনে করতে না পারলে বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা করা। হাঃ-১২৩১

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে আযান শুনতে না পায় আর তার পশ্চাদ-বায়ু সশব্দে নির্গত হতে থাকে। আযান শেষ হয়ে গেলে সে এগিয়ে আসে। আবার সালাতের জন্য ইক্বামাত দেওয়া হলে সে পিঠ ফিরিয়ে পালায়। ইক্বামাত শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরে আসে। এমনকি সে সালাত আদায়রত ব্যক্তির মনে ওয়াস্‌ওয়াসা সৃষ্টি করে এবং বলতে থাকে, অমুক অমুক বিষয় স্মরন কর, যা তার স্মরণে ছিলনা। এভাবে সে ব্যক্তি কত রাক‘আত সালাত আদায় করেছে তা স্মরন করতে পারে না। তাই তোমাদের কেউ তিন রাক‘আত বা চার রাক‘আত সালাত আদায় করেছে, তা মনে রাখতে না পারলে বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা করবে।


সহিহ বুখারী অঃ->সৃষ্টির সূচনা বাব->ইবলীস ও তার বাহিনীর বর্ণনা হাঃ-৩২৮৫

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন সালাতের জন্যে আযান দেয়া হয় তখন শয়তান সশব্দে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে। আযান শেষ হলে সামনে এগিয়ে আসে। আবার যখন ইকামাত দেয়া হয় তখন আবার পালাতে থাকে। ইকামাত শেষ হলে আবার সামনে আসে এবং মানুষের মনে খটকা সৃষ্টি করতে থাকে আর বলতে থাকে ওটা ওটা মনে কর। এমন কি সে ব্যক্তি আর মনে রাখতে পারে না যে, সে কি তিন রাক’আত পড়ল না চার রাক’আত পড়ল। এরকম যদি কারো হয়ে যায়, সে মনে রাখতে পারে না তিন রাকা’আত পড়েছে না কি চার রাকা’আত তখন সে যেন দু’টি সাহু সিজদা করে।


সহিহ মুসলিম অঃ->সালাত বাব->আযানের ফাযীলাত এবং আযান শুনে শাইতানের পলায়ন হাঃ-৭৪৫

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যখন সলাতের আযান দেয়া হয়, শাইতান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালিয়ে যায় যেন আযানের শব্দ সে শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন ইকামাত দেয়া হয় তখন সে পলায়ন করে। ইকামাত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে এবং সলাত আদায়কারীদের মনে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করতে থাকে। সে তাকে বলে, এটা স্মরণ কর, এটা স্মরণ কর। সে কথাগুলো সলাতের আগে তার স্মরণও ছিল না। শেষ পর্যন্ত সলাত আদায়কারী দ্বিধায় পড়ে যে, সে বলতেও পারে না যে, কত রাকা’আত পড়ল। (ই. ফা. ৭৪৩, ই. সে. ৭৫৬)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->উচ্চৈঃস্বরে আযান দেয়া হাঃ-৫১৬

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সলাতের আযান দেয়া হয়, তখন শাইত্বান সশব্দে হাওয়া ছাড়তে ছাড়তে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়, যেন আযানের শব্দ তার কানে না পৌঁছে। আযান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে। সলাতের ইক্বামাত দেয়া হলে সে আবার পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়। ইক্বামাত শেষে সে আবার ফিরে আসে এবং মুসল্লীর মনে অহেতুক চিন্তার উদ্রেক করায় এবং বলে, উমুক কথা স্মরন করো। সে এমন কথা স্মরন করিয়ে দেয় যা তার চিন্তায়ই আসেনি। এমনকি মুসল্লী কখনো ভুলেই যায় যে, কত রাক’আত সলাত আদায় করেছে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->আযান বাব->আযান দেওয়ার ফযীলত হাঃ-৬৭০

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান সশব্দে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালায় যাতে আযানের আওয়াজ না শোনে। আযান শেষ হলে সে আবার আসে। তারপর সালাতের জন্য ইকামত আরম্ভ হলে সে আবার পালায়। ইকামত বলা শেষ হলে পুনরায় উপস্থিত হয়ে মুসল্লীদের মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং যে সকল বিষয় তার স্মরণ ছিল না সে সকল বিষয়ে সে বলতে থাকে, ‘অমুক বিষয় স্মরণ কর, অমুক বিষয় স্মরণ কর’। অবশেষে সে ব্যক্তি এরূপ হয়ে যায় যে, সে বলতে পারে না কত রাকা‘আত সালাত আদায় করেছে।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->(সালাত আদায়কালে সন্দেহ হলে) ভেবে দেখা হাঃ-১২৫৩

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয় তখন শয়তান পৃষ্ঠ প্রদর্শনপূর্বক পালাতে থাকে। আর তার থেকে আওয়ায সহকারে বায়ু বের হতে থাকে। আর যখন ইকামাত শেষ হয় তখন সে পুনঃ আগমন পূর্বক মুসল্লীদের মনে নানা খটকা সৃষ্টি করতে থাকে, ফলে মুসল্লী বুঝতে পারে না যে, সে কত রাকাআত আদায় করল। অতএব, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ তা অনুভব করে তবে সে যেন দু'টি সিজদা করে নেয়।