ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়া'মার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বাসরাহ্তে সর্বপ্রথম তাক্বদীর সম্বন্ধে বিতর্ক সৃষ্টি করে মা'বাদ আল্-জুহানী। আমি ও হুমাইদ ইবনু 'আবদুর রহমান আল্-হিমাইয়ারী হাজ্জ অথবা 'উমরাহ করতে গেলাম। আমরা বললাম, যদি আমারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পাই তাহলে আমরা এসব লোক ত্বাকদীর সম্পর্কে যা বলে সে সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করবো। অতঃপর আল্লাহ্ আমাদেরকে 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) -এর সাক্ষাৎ লাভে সাহায্য করলেন, যিনি মাসজিদে প্রবেশ করেছিলেন। আমি ও আমার সাথী তাকে ঘিরে বসলাম। আমি চিন্তা করলাম যে, আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করবেন। আমি বললাম, হে 'আবদুর রহমানের পিতা! আমাদের এখানে কিছু সংখ্যক লোকের আত্নপ্রকাশ ঘটেছে যারা কুরআন পড়ে, জ্ঞানচর্চা ও বিতর্কও করে এবং মত পোষণ করে যে, তাক্বদীর বলতে কিছু নেই এবং প্রতিটি বিষয় পূর্ব সিদ্ধান্ত ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটছে। তিনি বললেন, তুমি ঐসব লোকের সাক্ষাত পেলে তাদেরকে সংবাদ দিবে যে, আমি তাদের সাথে সম্পর্কহীন আর তারাও আমার হতে বিচ্ছিন্ন। বিশেষ করে 'আবদুল্লাহ কসম করে বলেন, “তাদের কারো যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তা দান করে দেয়, তবুও তাক্বদীরের উপর ঈমান আনার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তাদের এ দান কবুল করবেন না।” অতঃপর তিনি বলেন, 'উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন ধবধবে সাদা কাপড় পরিহিত ও মিশমিশে কালো চুলধারী এক ব্যক্তি আমাদের নিকট আসলেন। তার মধ্যে ভ্রমণের কোন চিহ্ন দেখা যাচ্ছিলো না, আবার আমাদের মধ্যকার কেউ তাকে চিনতেও পারছে না। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বসলেন। অতঃপর তাঁর (নাবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) দুই হাঁটুর সঙ্গে নিজের দুই হাঁটু মিশিয়ে এবং নিজের দু’হাত তাঁর উরুর উপর রেখে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে বলুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইসলাম হলো এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রাসূল, সলাত ক্বায়িম করবে, যাকাত দিবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহ্র হাজ্জ করবে যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে। তিনি বললেন, ঠিক বলেছেন। তিনি ('উমার) বলেন, তার আচরণ আমরা বিস্মিত হলাম কারণ, তিনি প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তার সমর্থন করছেন। পুনরায় তিনি বলেন, আমাকে বলুন ঈমান কি? তিনি বললেন, আপনি আল্লাহর উপর, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহে, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল ও তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করবেন। তিনি বললেন, হাঁ, ঠিক বলেছেন। এবার আমাকে বলুন ইহসান কি? তিনি বললেন, "আল্লাহর ‘ইবাদত এরূপ নিষ্ঠার সঙ্গে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে নাও পান তবুও মনে করবেন যে, তিনি আপনাকে দেখছেন। অতঃপর তিনি বললেন, ক্বিয়ামাত কবে হবে তা আমাকে বলুন। তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জানেন না। তিনি এবার বললেন, তাহলে ক্বিয়ামাতের নিদর্শনসমূহ বলুন। তিনি বললেন, দাসী আপন মনিবকে জন্ম দিবে এবং নাঙ্গা পা ওয়ালা বস্ত্রহীন দেহ গরীব মেষ চালকদেরকে দালানকোঠা নিয়ে গর্ব করতে দেখবে। তিনি ('উমার) বলেন, অতঃপর লোকটি চলে গেলেন এবং এরপর আমি তিন দিন কাটালাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে 'উমার! তুমি কি জানো, প্রশ্নকারী কে? আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেন, তিনি হচ্ছেন জিবরীল (আঃ), তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিখানোর জন্য তোমাদের নিকট এসেছিলেন।
উমার (ইবনুল খাত্তাব) (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় ধবধবে সাদা পোশাক পরিহিত ও মাথায় গাড় কালো চুলবিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে হাজির হন। তার চেহারায় সফরের কোন ছাপ দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউই তাকে চিনে না। রাবী বলেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে বসলেন, তার হাঁটুদ্বয় মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাঁটুদ্বয়ের সাথে সাথে লাগিয়ে এবং তার দু’হাত তাঁর দু’ উরুর উপর রেখে, তারপর জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ইসলাম কী? তিনি বলেন, এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি আল্লাহ্র রসূল, সলাত আদায় করা, যাকাত দেয়া, রমাযানের সওম পালন করা এবং আল্লাহ্র ঘরের হাজ্জ করা। তিনি (আগন্তুক) বলেন, আপনি সত্য কথা বলেছেন। আমরা তার এ কথায় অবাক হলাম যে, তিনিই জিজ্ঞেস করলেন এবং তিনিই তা সত্যায়ন করলেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ঈমান কী? তিনি বলেন, তুমি ঈমান আনবে আল্লাহ্র উপর, তাঁর মালায়িকার, তাঁর রসূলগণের, তাঁর কিতাবসমূহে, আখিরাতের দিনে এবং তাকদীরে ও তার ভালো-মন্দে। আগন্তুক বলেন, আপনি সত্য কথা বলেছেন। আমরা এবারও তার কথায় অবাক হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন এবং তিনিই তা সত্যায়ন করছেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ইহসান কী? তিনি বলেন, তুমি এমনভাবে আল্লাহ্র ইবাদাত করো যেন তুমি তাঁকে দেখছো, যদি তুমি তাঁকে না দেখো নিশ্চয় তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বলেন, মুহূর্তটি (কিয়ামাত) কখন আসবে? তিনি বলেন, এ সম্পর্কে উত্তরদাতা প্রশ্নকর্তার চেয়ে অধিক কিছু জানে না। তিনি বলেন, তাহলে এর আলামত কী? তিনি বলেন, ক্রীতদাসী তার মনিবকে প্রসব করবে। ওয়াকী‘ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ অনারবদের ঔরসে আরবরা জন্মগ্রহণ করবে। তুমি দেখতে পাবে নগ্নদেহ, নগ্নপদ ও অভাবগ্রস্থ মেষ চারকরা সুউচ্চ ইমারতের মালিক হয়ে অহংকারে ফেটে পড়বে। উমার (রাঃ) বলেন, এ ঘটনার তিন দিন পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন, লোকটি কে, তুমি কি তা জানো? আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেন, ইনি হলেন জিবরীল (আঃ), দ্বীনের বিষয়াদি শিক্ষা দেয়ার জন্য তোমাদের নিকট এসেছেন। [৬৩]
ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়ামার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তাক্বদীর মতবাদের ব্যাপারে সর্বপ্রথম মা’বাদ আল-জুহানীই কথা বলেন। কোন এক সময় আমি ও হুমাইদ ইবনু ‘আব্দুর রাহমান আল-হিময়ারী মাদীনায় আসলাম এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলাম, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেলে এসব লোকেরা যে নতুন কথা বের করেছে সেই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করতাম। আমরা ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর দেখা পেলাম। তিনি মাসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। আমি ও আমার সাথী গিয়ে তার পাশে পাশে চললাম। আমি মনে করলাম আমার সঙ্গী আমার উপরি কথা বলার দায়িত্ব দিবেন। তাই আমি বললাম, হে আবূ ‘আব্দুর রাহমান! কিছু সংখ্যক লোক কুরআন তিলাওয়াত করে, জ্ঞানও অন্বেষণ করে, কিন্তু তাদের ধারণায় তাক্বদীর বলতে কিছু নেই, যা কিছু হচ্ছে তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, তাদের সাথে তোমার দেখা হলে বলবে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এবং তারাও আমার হতে সম্পর্ক মুক্ত। তারপর ইবনু ‘উমার (রাঃ) আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলেন, তাদের কেউ উহূদ পাহাড় সমান স্বর্ণ দান-খাইরাত করলেও তা গ্রহণ করা হবে না, তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপর যে পর্যন্ত না সে ঈমান আনবে। তারপর তিনি বললেন, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ কোন এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে বসে ছিলাম। এমন সময় সাদা ধব্ধবে জামা পরা এবং কালো কুচকুচে চুলধারী এক লোক এসে উপস্থিত। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্নও ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউই তাকে চিনতে পারলো না। তারপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে এসে তার হাঁটুদ্বয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাঁটুদ্বয়ের সাথে মিলিয়ে বসলেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করেন, হে মুহাম্মাদ! ঈমান কি? তিনি বললেনঃ ঈমান হলো-তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুলে, কিতাবসমূহে, রাসূলগণে, পরকালে এবং তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর। আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, ইসলাম কি? তিনি বললেনঃ এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র বান্দা ও তার রাসূল, নামায প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহ্র হাজ্জ্ব আদায় করা এবং রামাযানের রোযা রাখা। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, ইহ্সান কি? তিনি বললেনঃ তুমি (এমনভাবে) আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো। তুমি যদি তাঁকে না দেখ তাহলে অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখেন। বর্ণনাকারী বলেন, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরেই তিনি বলতেন, আপনি সত্যই বলেছেন। তার এই আচরণে আমরা অবাক হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তা সমর্থন করছেন। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, কখন ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে? তিনি এবার বললেনঃ জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এই ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চাইতে বেশি কিছু জানে না। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, এর নিদর্শনগুলো কি কি? তিনি বললেনঃ যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এবং খোলা পা, উলঙ্গ শরীরের অভাবী মেষপালক রাখালগণকে বিশাল দালান-কোঠার প্রতিযোগিতায় গর্ব করতে দেখবে। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনদিন পর আমার সাক্ষাৎ পেয়ে প্রশ্ন করেনঃ হে উমার! তুমি কি জানো, ঐ প্রশ্নকারী কে ছিলেন? তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), তোমাদেরকে ধর্মীয় অনুশাসন শিখাতে এসেছিলেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৬৩), মুসলিম।
উমর ইব্ন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি আগমন করলেন, যার কাপড় অত্যধিক সাদা ছিল এবং চুল অধিক কাল ছিল। বুঝা যাচ্ছিল না যে, তিনি সফর হতে এসেছেন; আর আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনতে পারছিল না। তিনি নিজ হাঁটুদ্বয় তাঁর হাঁটুদ্বয়ের সাথে লাগিয়ে বসলেন, তাঁর হস্তদ্বয় তাঁর উভয় উরুর উপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে বলুন: ইসলাম কি? তিনি বললেন: এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ আল্লাহ্র বাসুল এবং সালাত আদায় করা, যাকাত দেওয়া, রমযানের রোযা রাখা ও পথ খরচের সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করা। সে লোকটি বললো: আপনি সত্যই বলেছেন। আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি প্রশ্ন করলেন এবং বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। এরপর তিনি বললেন: ঈমান কি, আমাকে বলুন? তিনি বললেন: বিশ্বাস স্থাপন করা আল্লাহ্র উপর, ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, কিয়ামত দিবস এবং নিয়তির ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তারপর বললেন: ইহসান কি? তিনি বললেন: এমনভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করবে, যেন তুমি আল্লাহ্কে দেখছো, যদি তুমি তাঁকে না দেখতে পাও, তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন। তারপর বললেন: কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: যার নিকট প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারী হতে অধিক জ্ঞাত নন। সে ব্যক্তি বললো: কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: দাসী তার মুনিবকে প্রসব করবে, নগ্ন পদ, বিবস্ত্র, গরীব, বকরীর রাখালরা বড় বড় প্রাসাদ নির্মার্ণে প্রতিযোগিতা করবে। উমর (রাঃ) বলেন, আমি তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম, পরে রাসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: হে উমর! তুমি কি অবগত আছ, এই প্রশ্নকারী ব্যক্তি কে? আমি বললাম: আল্লাহ্ এবং আল্লাহ্র রাসুলই সমধিক অবগত। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন জিব্রাঈল (আ), তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।
আবু হুরায়রা এবং আবু যর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে বসতেন: নবাগত লোক এসে তাঁকে চিনতে পারত না যতক্ষন না জিজ্ঞাসা করতো। আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর নিকট তাঁর জন্য একটি বসার স্থান নির্মাণের জন্য অনুমতি চাইলাম। যাতে নবাগত লোক তাঁকে সহজে চিনতে পারে। আমরা তাঁর জন্য মাটির একটি উঁচু স্থান তৈরী করলাম। তিনি তার উপর উপবেশন করতেন। একদা আমরা বসা ছিলাম, আর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্থানে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় এক নবাগত ব্যক্তির আগমন হলো, যার মুখমণ্ডল সকলের চেয়ে সুন্দর ছিল এবং যার শরীরের সুগন্ধি ছিল সকলের চেয়ে উত্তম। তাঁর বস্ত্রে একটু ময়লাও ছিল না। সে ব্যক্তি বিছানার কিনারা হতে সালাম করে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনাকে সালাম। তিনি তাঁর সালামের উত্তর দিলে তিনি বললেন: আমি কি নিকটে আসবো? তিনি বললেন: আস! এভাবে কয়েকবার বললেন, তিনিও কয়েকবার উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, নিকটে আস। এমনকি তিনি নিকটে এসে নিজ হাত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাঁটুর উপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্বন্ধে বলুন। তিনি বললেন: ইসলাম হলো তুমি আল্লাহ্ তা’আলার ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে এবং যাকাত আদায় করবে, কা’বা শরীফের হজ্জ করবে এবং রমজানের রোযা রাখবে। তিনি বললেন: আমি যদি এটা করি, তবে কি আমি মুসলমান হয়ে যাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে ব্যক্তি বললেন, আপনি সত্যই বলেছেন। ঐ ব্যক্তির ‘আপনি সত্য বলেছেন’ বাক্য শুনে আমাদের বিস্ময় জাগল। এরপর বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে বলুন, ঈমান কি? তিনি বললেন: আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের, নবীগণের এবং কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং কদরে বিশ্বাস করা। তিনি বললেন: আমি যদি এরূপ করি, তবে কি আমি মু’মিন হয়ে যাব? রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন; হ্যাঁ। তখন সে ব্যক্তি বললেন: আপনি সত্যই বলেছেন। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে বলুন, ইহসান কি? তিনি বললেন: তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে, যেন তুমি আল্লাহ্ তা’আলাকে দেখছো। কেননা যদিও তুমি তাঁকে দেখছো না, তিনি তো তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আপনি সত্যই বলেছেন। তিনি আবার বললেন: হে মুহাম্মদ! কিয়ামত কবে হবে? তিনি কিছু বললেন না, বরং মাথা নিচু করলেন। লোকটি আবারও সেই প্রশ্ন করলেন কিন্তু তিনি তাকে কোন উত্তর দিলেন না। আবারও প্রশ্ন করলেন কিন্তু এবারও তিনি তাকে কোন উত্তর দিলেন না, অতঃপর তিনি মাথা উঠিয়ে বললেন: তুমি যার নিকট জিজ্ঞাসা করছো, তিনি প্রশ্নকারী হতে অধিক জ্ঞাত নন। কিন্তু এর অনেক আলামত রয়েছে। তুমি তা জানতে পার। যখন তুমি দেখবে পশুপালের রাখালরা সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করবে, আর তুমি দেখবে, নগ্ন পদ ও নগ্ন দেহ লোকেরা ভুখণ্ডের বাদশাহ হবে, আরো তুমি দেখবে যে, দাসী তার মালিককে প্রসব করবে, তখন মনে করবে যে, কিয়ামত নিকটবর্তী। পাঁচটি বস্তু আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ অবগত নয়। এরপর তিনি (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত পাঠ করলেন [১]। এরপর তিনি বললেন: ঐ সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মদকে সত্য সহকারে পথ প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা রূপে প্রেরণ করেছেন, আমি তাঁকে তোমাদের চাইতে অধিক জানি না। তিনি ছিলেন, জিব্রাঈল (আঃ) যিনি দিহ্ইয়া কালবীর রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।