সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->সলাতে প্রয়োজনবশতঃ দু’ এক কদম চলা যায় হাঃ-১১০৩

আবু হাযিম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি (আবূ হাযিম) বলেছেনঃ সাহ্‌ল ইবনু সা’দ-এর কাছে একদল লোক আসল এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মিম্বার কী কাঠের তৈরি তা নিয়ে ঝগড়া করতে শুরু করল। তখন সাহ্‌ল ইবনু সা’দ বললেন, আল্লাহর সপথ করে বলছিঃ মিম্বার কী কাঠের তৈরি ছিল এবং কে তা তৈরি করেছিল। তা আমি জানি। আর প্রথম যেদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত মিম্বারের উপর বসেছিলেন সেদিন আমি তাঁকে দেখেছিলাম। আবূ হাযিম বলেন, আমি তখন তাকে বললামঃ হে আবূ ‘আব্বাস (সাহল ইবনু সা’দ) ! বিষয়টি আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন একজন মহিলাকে বলে পাঠালেন যে, তোমার কাঠ-মিস্ত্রি গোলামকে বল সে আমাকে কিছু কাষ্ঠ-অর্থাৎ কাষ্ঠ-নির্মিত আসন তৈরি করে দিক। এর উপরে উঠে আমি মানুষের সামনে বক্তব্য পেশ করব। সে সময় আবূ হাযিম উক্ত মহিলার নামও উল্ল্যেখ করেছিলেন। সুতরাং ঐ মহিলার গোলাম এ তিন স্তর বিশিষ্ট মিম্বরটি তৈরি করে দিয়েছিল | আসনটি ছিল (মাদীনার) গাবাহ্‌ নামক বনের বন্য- ঝাউ কাঠ দিয়ে তৈরি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলে তা এ স্থানে (মাসজিদে) স্থাপন করা হলো। সাহল্‌ ইবনু সা’দ বলেনঃ আমি দেখলাম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর উপর উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন সলাতের জন্য। তাঁর সাথে সাথে লোকেরাও তাকবীর বলল। এ সময় তিনি মিম্বর এর উপর ছিলেন। এরপর তিনি রুকু’ থেকে মাথা উঠালেন এবং পিছনের দিকে হেঁটে মিম্বার থেকে নামলেন এবং মিম্বারের গোড়াতেই (পাশেই) সাজদাহ্ করলেন। এরপর আবার গিয়ে মিম্বারে উঠলেন এবং এভাবে সলাত শেষ করে লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ হে লোকজন; আমি এরূপ এজন্য করলাম যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পারো এবং আমি কিভাবে সলাত আদায় করি তা শিখে নিতে পার। (ই.ফা. ১০৯৭, ই.সে. ১১০৫)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->মাসজিদে মিম্বার স্থাপন সম্পর্কে হাঃ-১০৮০

আবূ হাযিম ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

কতিপয় লোক মাসজিদের মিম্বার কোন কাঠের তৈরী ছিলো এ বিষয়ে সন্দিহান হলে তারা সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী (রাঃ) এর নিকট এসে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তা কোন কাঠের তৈরী ছিলো তা আমি জানি। প্রথম যেদিন স্থাপন করা হয়েছিল তাও আমি অবগত আছি। আবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম যেদিন তার উপর বসেছিলেন আমি সেদিনও তা দেখেছি। একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক মহিলার (যার নাম সাহ্‌ল (রাঃ) উল্লেখ করেছিলেন) এর নিকট কাউকে এ সংবাদসহ পাঠালেন যে, লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য বা খুত্ববাহর সময় আমার বসার জন্য তোমার কাঠমিস্ত্রি কৃতদাসকে আমার জন্য কিছু কাঠ প্রস্তুত করতে (মিম্বার বানাতে) বলো। মহিলা তাকে তাই করতে আদেশ করলো। ক্রীতদাসটি আল-গাবা নামক স্থানের ঝাঊগাছের কাঠ দিয়ে তা তৈরী করে আনলে ঐ মহিলা তা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশে সেটি এ স্থানে রাখা হলো। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এর উপর সালাত পড়তে, তাকবীর বলতে, রুকু’ করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি পিছন দিকে সরে গিয়ে মিম্বারের গোড়ায় সাজদাহ্‌ করেন। এরপর তিনি পুনরায় মিম্বরে উঠেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি লোকদের দিকে ঘুরে বলেনঃ হে লোকেরা ! আমি এজন্যই এরূপ করেছি যাতে তোমরা আমাকে সঠিকভাবে অনুসরন করতে পারো এবং আমার সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারো। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->মসজিদ বাব->মিম্বরের উপর সালাত আদায় করা হাঃ-৭৩৯

আবূ হাযিম ইব্‌ন দীনার (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

কয়েকজন লোক সাহল ইব্‌ন সা’দ সাঈদী (রাঃ)-এর নিকট আসলেন, তাঁরা মিম্বরের ব্যাপারে সন্দেহ করতে লাগলেন যে, তার কাঠ কোথা থেকে আনা হয়েছে। তারা তাঁকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন : আল্লাহর কসম ! আমি জানি তা কোথা থেকে আনা হয়েছে। প্রথম যেদিন তা স্থাপন করা হয় এবং প্রথম যেদিন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাতে উপবেশন করেছিলেন, সেদিন আমি তা দেখেছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক মহিলার নিকট লোক পাঠিয়ে বললেন যে, তোমার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে আদেশ কর, সে যেন আমার জন্য একটা কাঠের মিম্বর তৈরি করে দেয়, আমি লোকের সাথে কথা বলার সময় তাতে বসব। ঐ রমণী তাকে আদেশ করলে সে অরণ্যের ঝাউ বৃক্ষের কাঠ দ্বারা তা বানালো এবং মহিলার কাছে তা নিয়ে আসল। সে মহিলা তা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তাঁর নির্দেশে তা এখানে রাখা হলো। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাতে আরোহণ করে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি এর উপর থেকেই তাকবীর বললেন ও রুকূ করলেন। তারপর তিনি পেছনে সরে মিম্বরের মূলে সিজদা করলেন। তিনি পুনরায় মিম্বরে আরোহণ করলেন। তারপর তিনি সালাত শেষ করে লোকের দিকে মুখ করে বললেন : হে লোক সকল ! আমি এরূপ করলাম যাতে তোমরা আমার ইকতিদা করতে পার এবং আমার সালাত সম্পর্কে তোমরা জানতে পার।