সহিহ বুখারী অঃ->ফাযায়িলুল কোরআন বাব->কুরআন তিলাওয়াতকারী হবার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা। হাঃ-৫০২৬

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, দু’ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও সাথে ঈর্ষা করা যায় না। এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্‌ তা’আলা কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিন-রাত তিলাওয়াত করে। আর তা শুনে তার প্রতিবেশীরা তাকে বলে, হায়! আমাদেরকে যদি এমন জ্ঞান দেওয়া হত, যেমন অমুককে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মত 'আমাল করতাম। অন্য আর এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্‌ সম্পদ দান করেছেন এবং সে সম্পদ সত্য ও ন্যায়ের পথে খরচ করে। এ অবস্থা দেখে অন্য এক ব্যক্তি বলেঃ হায়! আমাকে যদি অমুক ব্যক্তির মত সম্পদ দেয়া হত, তাহলে সে যেমন ব্যয় করছে, আমিও তেমন ব্যয় করতাম।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৫২, ই.ফা . ৪৬৫৬)


সহিহ বুখারী অঃ->আকাঙ্ক্ষা বাব->কুরআন (পাঠ) ও ইল্ম অর্জনের কামনা। হাঃ-৭২৩২

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’টি বিষয় ব্যতীত হিংসা করা যাবে না। এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্‌ কুরআন দান করেছেন সে দিন রাত তিলাওয়াত করে। কেউ বলল, একে যা দেয়া হয়েছে, যদি আমাকেও তা দেয়া হত, তবে সে যেমন করছে, আমিও তেমন করতাম। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ মাল দিয়েছেন, সে তা যথোচিতভাবে খরচ করে। কেউ বলল, তাকে যা দেয়া হয়েছে তা যদি আমাকে দেয়া হত, তাহলে আমি অবশ্যই তাই করতাম, সে যা করে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩৮)


সহিহ বুখারী অঃ->জাহ্‌মিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বাণীঃ এক ব্যক্তিকে আল্লাহ্ কুরআন দান করেছেন। সে রাতদিন তা পাঠ করছে। হাঃ-৭৫২৯

সালিম তার পিতা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একমাত্র দু’টি বিষয়েই হিংসা করা যায়। একজন হচ্ছে, যাকে আল্লাহ্ কুরআন দান করেছেন, আর সে তা রাতদিন তিলাওয়াত করে, আরেকজন হল, যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন আর সে রাতদিন তা ব্যয় করে। [৫০২৫; মুসলিম ৬/৪৭, হাঃ ৮১৫, আহমাদ ৪৫৫০] আমি সুফ্ইয়ান (রহ.) হতে কয়েকবার শুনেছি কিন্তু তাকে الْخَبَرَ উল্লেখ করতে শুনিনি। অর্থাৎ এটি তার বিশুদ্ধ হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২১)


সহিহ মুসলিম অঃ->কোরআনের মর্যাদাসমূহ ও এতদসংশ্লিষ্ট বিষয় বাব->কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফাযীলাত এবং যে ব্যক্তি ফিক্‌হ ইত্যাদির সূক্ষ্মজ্ঞান আহরণ করে তদনুসারে (নেক) 'আমাল করে ও শিক্ষা দেয় তার ফাযীলাত হাঃ-১৭৭৯

'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’টি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। একটি হ’ল- এমন ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ কুরআনের জ্ঞান দান করেছেন। সে তদনুযায়ী রাত-দিন 'আমাল করে। আরেক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তা’আলা অর্থ-সম্পদ দান করেছেন। সে রাত-দিন তা (আল্লাহর পথে) খরচ করে। (এ দু’ ব্যক্তির সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায়। অর্থাৎ এদের সাথে 'আমাল ও দানের ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে অনুকূল 'ইল্‌ম ও মালের আকাঙ্ক্ষা করা যায়। তবে ঐ ব্যক্তির 'ইল্‌ম বিলুপ্ত হয়ে যাক কিংবা ঐ মালদারের মাল ধ্বংস হয়ে যাক- এরূপ কামনা করা যাবে না।) [৩৮] (ই.ফা. ১৭৬৪, ই.সে. ১৭৭১)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি বাব->হিংসা-বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা হাঃ-৪২০৯

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’টি ক্ষেত্র ব্যতীত ঈর্ষা করা জায়েয নেই। (এক) যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে দিন-রাত সর্বক্ষণ তার উপর কায়েম থাকে। (দুই) যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা দিন-রাত সর্বক্ষণ (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।[৩৫৪১] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।