ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘সালাতে স্বর উঁচু করবে না এবং অতিশয় নিচুও করবে না। এ আয়াতটি এমন সময় নাযিল হয়, যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাক্কাহ্য় অপ্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি যখন তাঁর সাহাবাদের নিয়ে সলাত আদায় করতেন তখন তিনি উচ্চেঃস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিত। আর গালি দিত যিনি তা অবতীর্ণ করেছেন তাঁকে (আল্লাহ্কে) এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন তাকে (জিব্রীল)। এজন্য আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন, “তুমি তোমার সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়বে না, যাতে মুশরিকরা শুনে কুরআনকে গালি দেয় এবং তা এত নিচু স্বরেও পড়বে না, যাতে তোমার সহাবীরা শুনতে না পায়, বরং এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন কর।” [৭৪৯০, ৭৫২৫, ৭৫৪৭; মুসলিম ৪/৩১, হাঃ ৪৪৬, আহমাদ ১৮৫৩] (আ.প্র. ৪৩৬১, ই.ফা. ৪৩৬৩)
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি কুরআনের আয়াতঃ “তুমি সলাতে স্বর উঁচু করবে না এবং অতিশয় ক্ষীণও করবে না ...” (সূরা ইসরা ১৭/১১০)- এর তাফসীরে তিনি বলেন, এ আয়াতটি তখন নাযিল হয়, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহয় লুকিয়ে ছিলেন। সুতরাং যখন তিনি তাঁর স্বর উচু করতেন তাতে মুশরিক্রা শুনে গালমন্দ করত কুরআনকে, কুরআন নাযিলকারীকে এবং যাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তাঁকে। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ বললেনঃ (হে নবী) তুমি সলাতে তোমার স্বর উঁচু করবে না, যাতে মুশরিক্রা শুনতে পায়। আর তা অতিশয় ক্ষীণও করবে না যাতে তোমার সঙ্গীরাও শুনতে না পায়। এই দু’য়ের মধ্যপথ গ্রহণ কর। তুমি স্বর উঁচু করবে না, তারা শুনে এভাবে পাঠ করবে যেন তারা তোমা হতে কুরআন শিখতে পারে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮২)
ইব্নু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় লুকিয়ে থাকতেন। আর তিনি উচ্চৈঃস্বরে (তিলাওয়াত) করতেন। যখন তা মুশরিক্রা শুনল, তারা কুরআন ও তাঁর বাহককে গালমন্দ করল। এ অবস্থায় আল্লাহ্ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জানিয়ে দিলেন, আপনি আপনার সালাতে কুরআন উচ্চৈঃস্বরেও পড়বেন না এবং খুব চুপে চুপেও পড়বেন না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৩৮)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহ তা’আলার বাণী-“নিজেদের সলাত খুব উচ্চৈঃস্বরেও পড়বে না এবং খুব নীচুস্বরেও পড়বে না, (এর মাঝামাঝি আওয়াজে পড়বে) ”- (সূরাহ বনী ইসরাঈল/ইসরা ১৭ : ১১০)। তিনি এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত এমন এক সময় নাযিল হয় যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কায় (লোকচক্ষুর অন্তরালে) গোপন জীবন-যাপন করছিলেন। অতঃপর তিনি সহাবাদের নিয়ে যখন সলাত আদায় করতেন উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা যখন তা শুনতে পেত তারা কুরআনের অবতীর্ণকারী এবং এটা নিয়ে আগমনকারীকে গালি দিত। মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বললেনঃ “তোমার সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করো না।” তাহলে মুশরিকরা তোমার কিরাআত শুনে ফেলবে। “আর নীচুস্বরেও পাঠ করবে না”- তাহলে তোমার সহাবারা তোমার কুরআন পাঠ শুনতে পাবে না। অবশ্য উচ্চৈঃস্বরেও পাঠ করবে না, বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি আওয়াজে পাঠ করবে। অর্থাৎ উচ্চৈঃস্বর ও নিম্নস্বরের মাঝামাঝি স্বরে পাঠ করবে। (ই.ফা. ৮৮৩, ই.সে. ৮৯৬)
ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলার বাণী : “তোমরা নামাযে স্বর (ক্বিরাআত) উচ্চ করো না এবং অতিশয় ক্ষীণও করো না”- (সূরা বানী ইসরাঈল ১১০) মক্কায় অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্রাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উচ্চ স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করলে মুশরিকরা কুরআনকে গালি দিত এবং এর অবতীর্ণকারী (আল্লাহ তা‘আলা) ও এর বাহককেও (জিবরীলকে) গালি দিত। তারপর আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন : “তোমরা নামাযের ক্বিরাআত উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করো না” অর্থাৎ আপনি উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করবেন না, অন্যথায় কুরআন, এর অবতরণকারী ও এর বাহককে গালি দেয়া হবে। “এবং তা ক্ষীণস্বরেও পড়বে না”, তাহলে আপনার সাথীরা শুনতে পাবে না, (বরং মধ্যম আওয়াজে তা পাঠ করুন) যাতে তারা আপনার নিকট হতে কুরআন শিখতে পারে। সহীহ : বুখারী (৪৭২২), মুসলিম।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলার বাণী : “তোমার নামাযের ক্বিরাআত না উচ্চৈঃস্বরে পড়বে, আন না নিম্ন স্বরে, এ দুইয়ের মধ্যবর্তী মাত্রার আওয়াজ অবলম্বন কর”- (সূরা বানী ইসরাঈল ১১০) অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্বায় আত্মগোপন করে ছিলেন। তিনি তার সাহাবীদের নিয়ে নামায আদায়ের সময় উচ্চস্বরে কিরা‘আত পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনতে পেয়ে কুরআনকে এর অবতরণকারীকে এবং এর বাহককে গালি দিত। অতএব আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে বললেনঃ “তোমারা নামাযে উচ্চৈঃস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করো না”, কারণ মুশরিকরা তা শুন কুরআনকে গালি দেয়। “আবার এত নীচু স্বরেও পড়বে না”, যাতে তোমরা সাহাবীদেরকে শুনতে অসুবিধা হয় বরং “এই দুইয়ের মদ্যবর্তী মাত্রার আওয়ারজ অবলম্বন কর”। সহীহ : বুখারী (৪৭২২), মুসলিম।
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(...আরবী) আয়াত সম্বন্ধে তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয় তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় চুপে চুপে কুরআন পড়তেন। কিন্ত যখন তাঁর সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন, তখন তাঁর আওয়াজ বুলন্দ করতেন। ইব্ন মানী বলেন, তখন তিনি উচ্চৈঃ স্বরে কুরআন পড়তেন। আর মুশরিকরা যখন তাঁর শব্দ শুনত তখন তারা কুরআনকে, কুরআন অবতরণকারীকে এবং যিনি এ কুরআন নিয়ে এসেছেন তাঁকে গালি দিত। তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, আপনার সালাতকে অর্থাৎ সালাতের কিরআতকে উচ্চ করবেন না। কেননা, মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিবে। আর আপনার সাথীদের থেকে তা চুপে চুপেও পড়বেন না। তাহলে তারা শুনতে পাবে না, এতদুভয়ের মধ্য পন্থা অবলম্বন করুন।
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। আর মুশরিকরা যখন তাঁর আওয়াজ শ্রবণ করত তখন কুরআনকে এবং যিনি তা আনয়ন করেছেন তাঁকে গালি দিত। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিম্নস্বরে কুরআন পড়তে আরম্ভ করলেন যা সাহাবায়ে কিরাম শুনতে পেতেন না। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন, ‘আপনি আপনার সালাত উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন না, আবার একেবারে নীরবেও পড়বেন না, বরং এতদুভয়ের মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন’।