সহিহ বুখারী অঃ->মদীনার ফযিলত বাব->মদীনা অপবিত্র লোকদেরকে বের করে দেয় । হাঃ-১৮৮৩

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একজন বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর নিকট এসে ইসলামের উপর তাঁর কাছে বায়‘আত গ্রহণ করলো। পরদিন সে জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে বললো, আমার (বায়‘আত) ফিরিয়ে নিন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা প্রত্যাখ্যান করলেন। এভাবে তিনবার হল। অতঃপর বললেনঃ মদীনা কামারের হাপরের মত, যা তার আবর্জনা ও মরিচাকে দূরীভূত করে এবং খাঁটি ও নির্ভেজালকে পরিচ্ছন্ন করে।


সহিহ বুখারী অঃ->আহকাম বাব->বেদুঈনদের বাই’আত (গ্রহণ)। হাঃ-৭২০৯

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ইসলামের বায়’আত করল। তারপর সে জ্বরে আক্রান্ত হল। তখন সে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা অস্বীকৃতি জানালেন। সে আবার তাঁর কাছে আসল। তিনি আবার অস্বীকৃতি জানালেন। সে আবার তাঁর কাছে এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি আবারও অস্বীকার করলেন। তখন সে বেরিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাদীনা হাপরের মত, সে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটাকে ধরে রাখে।[১৮৮৩; মুসলিম ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮৩, আহমাদ ১৫১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৬)


সহিহ বুখারী অঃ->আহকাম বাব->কারো বায়’আত গ্রহণ করার পর অতঃপর তা ফিরিয়ে নেয়া। হাঃ-৭২১১

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, এক বেদুঈন এসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ইসলামের বায়’আত নিল। মাদীনায় সে জ্বরে আক্রান্ত হল। তখন সেই বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা অস্বীকার করলেন, সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। সে আবার এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি আবারও অস্বীকার করলেন। তখন বেদুঈন বেরিয়ে গেল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাদীনা হল হাপরের মত, যে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটাকে ধরে রাখে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৮)


সহিহ বুখারী অঃ->আহকাম বাব->যে লোক বাই’আত ভঙ্গ করে। হাঃ-৭২১৬

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, এক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, ইসলামের উপর আমার বায়’আত নিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামের উপর তার বায়’আত নিলেন। পর দিবস সে জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি অস্বীকার করলেন। যখন সে চলে গেল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাদীনা হাপরের মত, সে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটুকু ধরে রাখে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৩)


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->কোন ওযরবশতঃ জামা’আতে শারীক না হওয়া হাঃ-১৩৮৩

‘ইত্‌বান ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে গেলাম। তবে এ হাদীসে তিনি এতটুকু অধিক বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, মালিক ইবনুদ্‌ দুখশুন অথবা বলল (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মালিক ইবনুদ্‌ দুখায়শিন কোথায়? তিনি হাদীসটিতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, মাহমূদ ইবনুর রাবী’ বলেছেন, আমি এ হাদীসটি একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম। তাদের মধ্যে (সহাবা) আবূ আইয়ূব আল আনসারীও ছিলেন। তিনি বললেন, তুমি যা বললে আমার মনে হয় না রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা বলেছেন। মাহমূদ ইবনুর রাবী’ বলেন, এ কথা শুনে আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে ‘ইত্‌বান ইবনু মালিককে আবার জিজ্ঞেস করার জন্য তার কাছে ফিরে যাব। তিনি বলেছেনঃ অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম। তখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন তার ক্বওমের ইমাম। আমি গিয়ে পাশে বসে এ হাদীসটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে প্রথমবারের মতো করে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহরী বলেছেন, এ ঘটনার পরেও আরো অনেক ফারয ও অন্যান্য বিষয়ে হুকুম আহ্‌কাম অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি যে, (হুকুম-আহ্‌কামের) বিষয়টি এর পরেই শেষ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধোঁকায় পড়তে না চায়, সে যেন এর দ্বারা ধোঁকায় না পড়ে। (ই.ফা. ১৩৭০, ই.সে. ১৩৮২)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের মর্যাদা বাব->মাদীনা মুনাও্‌ওয়ারার মর্যাদা হাঃ-৩৯২০

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ইসলামের উপর বাই'আত হয়। মাদীনার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সেই বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলে, আমার বাই'আত প্রত্যাহার করুন। কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন। অতএব সে চলে গেল। বেদুঈন পুনরায় এসে বলল, আমার বাই'আত প্রত্যাহার করুন। এবারও তিনি অস্বীকার করেন। ফলে বেদুঈন চলে গেল। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ মাদীনা হল কামাড়ের হাপড়ের মত, যা তার ময়লা দূর করে এবং পবিত্রতাকে খাঁটি করে। সহীহঃ সহিহাহ্‌ (২১৭), বুখারী ও মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->বায়‘আত বাব->বায়‘আত প্রত্যাহার করা হাঃ-৪১৮৫

জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক বেদুঈন লোক রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ইসলামের উপর বায়‘আত গ্রহণ করল। পরে সে মদীনায় জ্বরে আক্রান্ত হলে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হল এবং বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। তিনি তা করলেন না। কিন্তু সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও তা করলেন না। এরপর সে চলে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মদীনা কামারের হাপরের মত, যে এর ময়লা দূর করে এবং নিখুঁতটুকু রেখে দেয়।