সাহ্ল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা যখন পরিখা খনন করে আমাদের স্কন্ধে করে মাটি বহন করছিলাম, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই আসল জীবন। মুহাজির ও আনসারদের আপনি মাফ করে দিন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২২)
সাহল ইবনু সাদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, পরিখা খননের কাজে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে অংশ নিয়েছিলাম। তাঁরা পরিখা খুঁড়ছিলেন আর আমরা কাঁধে মাটি বহন করছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু‘আ করেছিলেন, হে আল্লাহ! আখিরাতের শান্তি ব্যতীত প্রকৃত কোন শান্তি নেই। আপনি মুহাজির এবং আনসারদেরকে ক্ষমা করে দিন। [৩৭৯৭] (আ.প্র. ৩৭৯২, ই.ফা. ৩৭৯৫)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে পরিখা খননের স্থানে উপস্থিত হন। আনসার ও মুহাজিরগণ একদিন ভোরে তীব্র শীতের মধ্যে পরিখা খনন করেছিলেন। তাদের কোন গোলাম বা ক্রীতদাস ছিল না যে, তারা তাদেরকে এ কাজে নিয়োগ করবেন। ঠিক এমনি সময়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। তাদের অনাহার ক্লিষ্টতা ও কষ্ট দেখে তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আখিরাতের সুখ শান্তিই প্রকৃত সুখ শান্তি। তুমি আনসার ও মুহাজিরদেরকে ক্ষমা করে দাও। সাহাবীগন এর উত্তরে বললেন- “আমরা সে সব লোক, যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে বাই‘আত গ্রহন করেছি, যতদিন আমরা জীবিত থাকি জিহাদের জন্য।” [২৮৩৪] (আ.প্র. ৩৭৯৩, ই.ফা. ৩৭৯৬)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আনসার ও মুহাজিরগণ মদীনার চারপাশে খাল খনন করছিলেণ আর পিঠে মাটি বহন করছিলেন। আর (খুশিতে) আবৃত্তি করছিলেন- “আমরা সে সব লোক, যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে বাই‘আত গ্রহন করেছি, যতদিন আমরা জীবিত থাকি জিহাদের জন্য।” বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের এ কথার উত্তরে বলতেন, হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ব্যতীত আর কোন কল্যাণ নেই, তাই আনসার ও মুহাজিরদের কাজে বারাকাত দান করুন। বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ)] বর্ণনা করছেন যে, তাদেরকে এক মুষ্টি ভরে যব দেয়া হত। তা বাসি, স্বাদবিকৃত চর্বিতে মিশিয়ে খাবার রান্না করে ক্ষুধার্ত লোকগুলোর সামনে পরিবেশন করা হত। যদিও এ খাদ্য ছিল একেবারে স্বাদহীন ও ভীষন দুর্গন্ধময়। [২৮৩৪] (আ.প্র. ৩৭৯৪, ই.ফা. ৩৭৯৭)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আয় আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন। কাজেই আপনি আনসার আর মুহাজিরদের কল্যাণ করুন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭১)
সাহ্ল ইব্নু সা‘ঈদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা খন্দকের যুদ্ধে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি (মাটি) খনন করছিলেন এবং আমরা মাটি সরিয়ে দিচ্ছিলাম। তিনি আমাদের দেখছিলেন। তখন তিনি বলছিলেন : হে আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন। কাজেই আপনি আনসার ও মুহাজিরদেরকে ক্ষমা করুন। [১](আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭২)
সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে এলেন, আমরা তখন পরিখা (খন্দক) খনন করছিলাম এবং কাঁধে করে মাটি একস্হান থেকে অন্যস্হানে ফেলছিলাম। তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আখিরাতের সূখ ছাড়া সূখ নেই, মুহাজির ও আনসারদেরকে ক্ষমা করুন।” (ই.ফা. ৪৫২১, ই.সে. ৪৫২৩)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, “হে আল্লাহ! আখিরাতের সূখ ছাড়া সূখ নেই। আপনি ক্ষমা করে দিন আনসার মুহাজিদেরকে”। (ই.ফা. ৪৫২২, ই.সে. ৪৫২৪)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীগণ খন্দকের দিন বলেছিলেন : আমরা সে লোক যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বাই’আত হয়েছি। আর ইসলামের উপরই আছি। রাবি মুহাম্মাদ (রহঃ) সন্দেহ করে বলেন, অথবা বলেছিল : জিহাদের উপরই আছি সর্বদা। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছিলেন : “ হে আল্লাহ! আসল তো আখিরাতের কল্যাণ। আনসারদের এবং মুহাজিরদের ক্ষমা করুন।” (ই.ফা. ৪৫২৫, ই.সে. ৪৫২৭)
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে (দু’আ) শিখিয়ে বলেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ্! আমার বাহিরের অবস্থার চেয়ে আমার ভিতরের অবস্থাকে বেশি ভাল কর এবং আমার বাহিরের অবস্থাকেও অতি উত্তম কর। হে আল্লাহ্! তুমি মানুষকে যে ধন-দৌলত, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে থাক, তাতে আমাকে উত্তমগুলোই দাও, যারা বিপথগামী এবং বিপথগামীকারীও নয়। ” যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৫০৪), আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি এবং এর সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পরিখা খননকালে ছন্দাকারে) বলতেনঃ “হে আল্লাহ! পরকালের সুখ শান্তিই হচ্ছে প্রকৃত সুখ-শাস্তি। সুতরাং তুমি আনসার ও মুহাজিরদেরকে মর্যাদা দান কর”। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।