সহিহ বুখারী অঃ->যাকাত বাব->যাকে আল্লাহ সওয়াল ও অন্তরের লোভ ব্যতীত কিছু দান করেন। হাঃ-১৪৭৩

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, যে আমার চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্ত, তাকে দিন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ তা গ্রহণ কর। যখন তোমার কাছে এসব মালের কিছু আসে অথচ তার প্রতি তোমার অন্তরের লোভ নেই এবং তার জন্য তুমি প্রার্থী নও, তখন তা তুমি গ্রহণ করবে। এরূপ না হলে তুমি তার প্রতি অন্তর ধাবিত করবে না।


সহিহ বুখারী অঃ->আহকাম বাব->প্রশাসক ও প্রশাসনিক কার্যে নিযুক্ত ব্যক্তিদের ভাতা । হাঃ-৭১৬৪

যুহরী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যুহরী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) সূত্রে বলেন, তিনি ‘উমর (রাঃ) -কে বলতে শুনেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যখন কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা লও এবং বাড়িয়ে তা থেকে সদাকাহ কর। আর এ রকম মালের যা কিছু তোমার কাছে এমন অবস্থায় আসে যে তুমি তার আশা কর না এবং প্রার্থীও নও তাহলে তা গ্রহণ কর। তবে যা এভাবে আসবে না নিজেকে তার অনুসারী বানাবে না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৪ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া অথবা পাওয়ার আকাঙ্খা ছাড়াই যদি পাওয়া যায় তবে তা গ্রহণ করা জায়িয হাঃ-২২৯৫

সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে বলতে শুনেছি : রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কিছু উপঢৌকন দিতেন এবং আমি বলতাম, এটা আমাকে না দিয়ে যে আমার চেয়ে বেশী অভাবী তাকে দিন। এমনকি একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার তুলনায় যার প্রয়োজন বেশী এটা তাকে দিন। তখন রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা গ্রহণ কর এবং এছাড়া ঐ সব মালও গ্রহণ কর, যা কোন প্রকার লালসা ও প্রার্থনা ব্যতীতই তোমার কাছে এসে যায়। আর যা এভাবে আসে তা পাওয়ার ইচ্ছাও রেখো না। (ই.ফা. ২২৭৩, ই.সে. ২২৭৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া অথবা পাওয়ার আকাঙ্খা ছাড়াই যদি পাওয়া যায় তবে তা গ্রহণ করা জায়িয হাঃ-২২৯৬

‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে কখনো কখনো কিছু মাল দান করতেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁকে বলতেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার এ মালের প্রয়োজন নেই। আমার চেয়ে যার প্রয়োজন ও অভাব বেশী তাকে দিন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ“এ মাল লও এবং নিজের কাছে রেখে দাও অথবা সদাক্বাহ্ করে দাও। তোমার কামনা ও প্রার্থনা ছাড়াই যে মাল তোমার কাছে এসে যায় তা রেখে দাও। আর যা এভাবে না আসে তার জন্য অন্তরে আশা পোষন করো না। বর্ণনাকারী সালিম (রাঃ) বলেন, এ কারণে ইবনু উমার (রাঃ) কারে কাছে কিছু চাইতেন না এবং কেউ যদি (না চাওয়া সত্ত্বেও) তাকে কিছু দিতেন তাহলে তিনি এটা ফেরতও দিতেন না। (ই.ফা. ২২৭৪, ই.সে. ২২৭৫)


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলা যাকে কোন ধন-সম্পদ দান করেন তার প্রসঙ্গে হাঃ-২৬০৫

আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাদী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একবার সিরিয়া থেকে উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে আসলে তিনি তাঁকে বললেন যে, আমি শুনেছি যে, তুমি মুসলমানদের কোন কাজ (যাকাত আদায়) করলে তোমাকে তার পারিশ্রমিক দেওয়া হলে তা তুমি নাকি গ্রহণ কর না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমার কিছু ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে এবং আমি স্বচ্ছল অবস্থায় আছি। তাই আমার ইচ্ছা আমার কাজ মুসলমানদের জন্য সাদাকা স্বরূপ হোক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, তুমি যা মনস্থ করেছ আমিও তাই মনস্থ করেছিলাম, কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে সম্পদ (বিনিময়) দিতেন, আমি তাঁকে বলতামঃ যে ব্যক্তি আমার থেকেও বেশী মুখাপেক্ষী আপনি এই মাল তাকেই দিন। তিনি আমাকে একবার কিছু (মাল) দিলে আমি তাঁকে বললাম, এই (মাল) যে আমার থেকে বেশী অভাবী আপনি তাকেই দিন। তিনি বললেন, তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত যে মাল মহান মহিয়ান আল্লাহ তোমাকে দেন তা গ্রহণ করে নেবে এবং ইচ্ছা করলে তা তোমার কাছে রেখে দেবে নয়তো সাদাকা করে দেবে। আর যা তেমন (লোভ বিহীন) নয় তার প্রতি তোমার মনকে ধাবিত করবে না।


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলা যাকে কোন ধন-সম্পদ দান করেন তার প্রসঙ্গে হাঃ-২৬০৬

আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাদী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একবার উমর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তাঁর কাছে গেলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, আমি শুনতে পেলাম তুমি নাকি মুসলমানদের কোন কাজে নিয়োজিত রয়েছো এবং তোমাকে তোমার কাজের পারিশ্রমিক দেওয়া হলে তা তুমি গ্রহণ কর না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন উমর (রাঃ) বললেন, এতে তোমার উদ্দেশ্য কি? আমি বললাম যে, আমার কিছু ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে আর আমি স্বচ্ছল অবস্থায় আছি। তাই আমি চাচ্ছিলাম যে আমার কাজগুলো মুসলমানদের জন্য সাদাকা স্বরূপ হোক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, তুমি এরূপ করবে না। কেননা তুমি যে রকম চাচ্ছ আমিও সে রকম চাইতাম। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দান (পারিশ্রমিক) দিলে আমি বলতাম যে, আপনি ইহা আমার থেকে বেশী অভাবীকে দিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন যে, তুমি এগুলো নিয়ে নাও। ইচ্ছা করলে নিজের কাজে লাগাও নতুবা সাদাকা করে দাও। তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত যে মাল তোমার হস্তগত হয় তা তুমি নিয়ে যাও। (কোন মাল) এভাবে (তোমার হস্তগত) না হলে তার প্রতি আকৃষ্ট হবে না।


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলা যাকে কোন ধন-সম্পদ দান করেন তার প্রসঙ্গে হাঃ-২৬০৭

আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একবার উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তাঁর কাছে আসলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন , আমি শুনতে পেলাম যে, তুমি নাকি মানুষের কাজে নিয়োজিত থাক এবং তার বিনিময় দেওয়া হলে তুমি তা অপছন্দ কর? তিনি বলেন, আমি বললামঃ হ্যাঁ। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এর দ্বারা তোমার উদ্দেশ্য কি?’ আমি বললাম, আমার কিছু ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে আর আমি স্বচ্ছল অবস্থায় রয়েছি। তাই আমি চাচ্ছিলাম যে, আমার কাজগুলো মুসলমানদের জন্য সাদাকা স্বরূপ হোক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, তুমি এরূপ করবে না। তুমি যে রকম ইচ্ছা করছ আমিও সে রকমই ইচ্ছা করতাম। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বিনিময় দিতেন আর আমি বলতাম যে, আপনি এটা আমার চেয়েও বেশী অভাবীদেরকে দিয়ে দিন। তিনি আমাকে একবার কিছু মাল দিলে আমি তাঁকে বললাম যে, আপনি ইহা আমার চেয়েও বেশী অভাবীকে দিয়ে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি এটা নিয়ে নাও; ইচ্ছা করলে নিজের কাজে লাগাও নতুবা সাদাকা করে দাও। আর যে মাল তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত হস্তগত হয়, তুমি তা নিয়ে নেবে অন্যথায় তার পেছনে পড়বে না।


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলা যাকে কোন ধন-সম্পদ দান করেন তার প্রসঙ্গে হাঃ-২৬০৮

আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যে, আমি উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দান (বিনিময়) দিতেন আর আমি বলতাম, আপনি ইহা আমার চেয়েও বেশী অভাবীদেরকে দিয়ে দিন। এরপর তিনি আমাকে কিছু বিনিময় দিলে আমি তাঁকে বললামঃ আপনি এটা আমার চেয়েও কোন অভাবী ব্যক্তিকে দিয়ে দিন। তিনি বললেন, তুমি এটা নাও, ইচ্ছা করলে নিজের কাজে ব্যয় কর নতুবা সাদাকা করে দাও। আর তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত কোন মাল যদি তোমার হস্তগত হয় তাহলে তুমি তা নিয়ে নেবে, অন্যথায় তুমি নিজেকে তার মালের পেছনে ধাবিত করবে না।