‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি- (আল-আন্’আম ৮২)। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুল্ম করেনি? তিনি বললেন, তোমরা যা বলছ ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘যুল্ম’ অর্থাৎ শির্ক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, “হে বৎস! আল্লাহ্র সঙ্গে কোন রকম শির্ক করো না। নিশ্চয় শির্ক একটা বিরাট যুল্ম”। (লুকমানঃ ১৩)
‘আবদুল্লাহ (ইব্নু মাস’ঊদ) (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্মের দ্বারা কলুষিত করেনি- (আল-আন’আম ৮২)। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে যে, নিজের ঈমানকে যুল্মের দ্বারা কলুষিত করেনি? তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করো না। কেননা শির্ক হচ্ছে এক মহা যুল্ম- (লুকমান ১৮)।
‘আবদুল্লাহ (ইব্নু মাস’ঊদ) (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্মের দ্বারা কলুষিত করেনি। তখন তা মুসলিমদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেল। তারা আরয করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে যে নিজের উপর যুল্ম করেনি? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এখানে অর্থ তা নয় বরং এখানে যুল্মের অর্থ হলো শির্ক। তোমরা কি কুরআনে শুননি লুকমান তাঁর ছেলেকে নাসীহাত দেয়ার সময় কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, “হে আমার বৎস! তুমি আল্লাহ্র সঙ্গে শির্ক করো না। কেননা, নিশ্চয়ই শির্ক এক মহা যুল্ম।
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হল (আল্লাহ্র বাণী) ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্ম দ্বারা কলুষিত করেনি। এটি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবীদের উপর খুবই কঠিন মনে হল। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, তারা তাদের ঈমানকে যুল্ম দ্বারা কলুষিত করেনি? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ আয়াত দ্বারা এ অর্থ বুঝানো হয়নি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি যা তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন? إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ নিশ্চয় র্শিক হচ্ছে বড় যুল্ম। [৩২] (আ.প্র. ৪৪১২, ই.ফা. ৪৪১৪)
আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুল্ম দ্বারা কলুষিত করেনি... (সূরা আন‘আম ৬/৮২)। তখন তা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবাদের কাছে গুরুতর মনে হলো। তারা বললেন, আমাদের মাঝে এমন কে আছে যে তার ঈমানকে জুল্ম দ্বারা কলুষিত করে না। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তা অবশ্যই এমনটা নয়, তোমরা কি লুকমানের কথা শ্রবণ করনি? শিরকই বিরাট জুল্ম (সীমালঙ্ঘন)- (সূরা লুক্বমান ৩১/১৩)।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৫০)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(আল্লাহ তা’আলার বাণী) : “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্ম দ্বারা কলূষিত করেনি নিরাপত্তা তাদের জন্য, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত”-(সূরাহ আল আন’আম ৬ : ৮২)। এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে তা সহাবাদের কাছে খুবই কঠিন মনে হলো। তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের উপর আদৌ অত্যাচার করেনি? তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা যা মনে করেছ বিষয়টি তা নয়, বরং এর মর্মার্থ হচ্ছে লুক্মান তাঁর পুত্রকে সম্বোধন করে যা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন : “হে বৎস! আল্লাহর সাথে কোন শারীক করো না, নিশ্চয়ই শির্ক চরম যুল্ম”-(সূরাহ লুক্মান ৩১ : ১৩)। (ই.ফা. ২২৭; ই.সে. ২৩৫)
আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন অবতীর্ণ হল : “যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি---’’ (সূরা আল-আন’আম ৮২) , তখন মুসলিমদের নিকট তা খুবই কঠিন মনে হল। তাই তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে কে আছে যে নিজের উপর যুলুম করেনি? রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বিষয়টি আসলে তা নয়। এখানে যুলুম অর্থ হল শিরক। তোমরা কি শুনোনি যা লোক্বমান তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন : “হে পুত্র ! আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে শরীক করবে না। নিশ্চয় শিরক অতি বড় যুলু “ –(সূরা লোকমান ১৩)। সহীহ : বুখারী (৪৬২৯) , মুসলিম।