সহিহ বুখারী অঃ->আযান বাব->সফরে এক মুয়াজ্জিন যেন আযান দেয় । হাঃ-৬২৮

মালিক ইব্‌নু হুয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রের কয়েকজন লোকের সঙ্গে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর নিকট এলাম এবং আমরা তাঁর নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধু বৎসল ছিলেন। তিনি যখন আমাদের মধ্যে নিজ পরিজনের নিকট ফিরে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর, আর তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে এবং সালাত আদায় করবে। যখন সালাত উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের কেউ আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে ইমামত করবে। (৬৩০, ৬৩১, ৬৫৮, ৬৮৫, ৮১৯, ২৮৪৮, ৬০০৮, ৭২৪৬; মুসলিম ৫/৫৩, হাঃ ৬৭৪, আহমাদ ১৫৫৯৮) (আ.প্র. ৫৯২, ই.ফা. ৬০০)


সহিহ বুখারী অঃ->আযান বাব->দু’ সিজদার মধ্যে অপেক্ষা করা । হাঃ-৮১৮

আবূ কিলাবা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

মালিক ইব্‌নু হুয়াইরিস (রাঃ) তাঁর সাথীদের বললেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করব না? (রাবী) আবূ কিলাবা (রহঃ) বলেন, এ ছিল সালাতের সময় ছাড়া অন্য সময়। অতঃপর তিনি (সালাতে) দাঁড়ালেন, অতঃপর রুকূ’ করলেন, এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর সিজদায় গেলেন এবং সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ বসে পুনরায় সিজদা করলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। এভাবে তিনি আমাদের এ শায়খ ‘আম্‌র ইব্‌নু সালিমাহ্‌র সালাতের মত সালাত আদায় করলেন। আইয়ুব (রহঃ) বলেন, ‘আম্‌র ইব্‌নু সালিমা (রহঃ) এমন কিছু করতেন যা অন্যদের করতে দেখিনি। তা হল তিনি তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাক’আতে বসতেন।


সহিহ বুখারী অঃ->আচার-ব্যবহার বাব->মানুষ ও জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন। হাঃ-৬০০৮

আবূ সুলাইমান মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা কয়জন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দরবারে আসলাম। তখন আমরা ছিলাম প্রায় সমবয়সী যুবক। বিশ দিন তাঁর কাছে আমরা থাকলাম। তিনি বুঝতে পারলেন, আমরা আমাদের পরিবারের নিকট প্রত্যাবর্তন করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছি। যাদের আমরা বাড়িতে রেখে এসেছি তাদের ব্যাপারে তিনি আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করলেন। আমরা তা তাঁকে জানালাম। তিনি ছিলেন কোমল হৃদয় ও দয়ার্দ্র। তাই তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যাও। তাদের (কুরআন) শিক্ষা দাও, (সৎ কাজের) আদেশ কর এবং যে ভাবে আমাকে সলাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক তেমনভাবে সলাত আদায় কর। সলাতের ওয়াক্ত হলে, তোমাদের একজন আযান দেবে এবং যে তোমাদের মধ্যে বড় সে ইমামাত করবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭০)


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->ইমামতির জন্য বেশী যোগ্য কে ? হাঃ-১৪২১

মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা প্রায় এ বয়সের কিছু যুবক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে এসে বিশরাত (অর্থাৎ-বিশদিন) অবস্হান করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র হৃদয়। তিনি বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের লোকজনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছি। তাই নিজ পরিবারে আমরা কাকে কাকে রেখে গিয়েছি এ বিষয়ে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলে আমরা তাঁকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, তোমরা নিজ পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে অবস্হান করে তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করো। আর এ বিষয়ে তাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে আদেশ করো। আর সলাতের সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দিবে। তবে বয়সে যে সবার বড় সে ইমামাত করবে। [১] (ই.ফা. ১৪০৭, ই.সে. ১৪১৯)


সুনান নাসাঈ অঃ->আযান বাব->আবাসে অন্য লোকের আযান যথেষ্ট হওয়া হাঃ-৬৩৫

মালিক ইব্‌ন হুওয়ায়রিস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন : আমরা (কয়েকজন) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন আমরা সবাই ছিলাম যুবক ও কাছাকাছি বয়সের। আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খেদমতে বিশ দিন অবস্থান করি। তিনি অত্যন্ত দয়াশীল ও বিনম্র চিত্তের ছিলেন। তাঁর ধারণা হয়ে থাকবে যে, আমরা বাড়িতে যেতে আগ্রহী। তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন : বাড়িতে কাদের রেখে এসেছো? আমরা তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি বললেন : তোমরা তোমাদের বাড়িতে চলে যাও এবং তোমাদের পরিজনদের মধ্যে থাক। তাদের (দীন) শিক্ষা দাও এবং তাদের (সৎকাজের) আদেশ দাও। যখন সালাতের সময় উপস্থিত হয় তখন যেন তোমাদের কোন একজন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে সালাতের ইমামতি করে।


সুনান নাসাঈ অঃ->আযান বাব->আবাসে অন্য লোকের আযান যথেষ্ট হওয়া হাঃ-৬৩৬

আমর ইব্‌ন সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

(আইয়্যুব বলেন) আবূ কিলাবা (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, আমর ইব্‌ন সালামা (রাঃ) এখনও জীবিত আছেন, আপনি এখনো তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করেন না কেন? আইয়্যুব বলেন : আমি গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন : মক্কা বিজয়ের পর প্রতেক গোত্রই দ্রুত ইসলাম কবুল করতে আরম্ভ করে। আমাদের গোত্রের সকলের পক্ষ থেকে আমার পিতা ইসলাম কবুল করার জন্য যান। তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা তাকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করি। তখন তিনি বলেন : আল্লাহর শপথ ! আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে তোমাদের কাছে এসেছি। তিনি বললেন : অমুক সালাত অমুক সময়ে আদায় করবে এবং যখন সালাতের সময় উপস্থিত হবে, তোমাদের মধ্যে একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যার কুরআন বেশি জানা আছে, সে ইমামতি করবে।