সহিহ বুখারী অঃ->শপথ ও মানত বাব->আল্লাহ্‌র বাণীঃ হাঃ-৬৬২৩

আবূ বুরদাহ (রাঃ)-এর পিতা আবূ মূসা আশ’আরী থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার আশ’আরী গোত্রের একদল লোকের সঙ্গে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁর কাছে বাহন চাইলাম। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। আর আমার কাছে কিছু নেই যার উপর আরোহণ করা যায়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আল্লাহ্‌ যতক্ষণ চাইলেন, ততক্ষণ আমরা সেখানে থাকলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অতি সুন্দর তিনটি উষ্ট্রী আনা হল। তিনি সেগুলোর উপর আমাদেরকে আরোহণ করালেন। এরপর আমরা যখন চলতে লাগলাম তখন বললাম অথবা আমাদের মাঝে কেউ বলল, আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহ্‌ আমাদেরকে বরকত দিবেন না। কারণ, আমরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বাহন চইলে তিনি আমাদেরকে বাহন দিবেন না বলে কসম করলেন, অতঃপর আমাদেরকে আরোহণ করালেন। চল আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাই এবং তাঁকে ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দেই। এরপর আমরা তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্‌ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহ্‌র কসম! আমি যখন আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় কোন শপথ করি আর সেটি বাদে অন্যটির মাঝে কল্যাণ দেখি তখন শপথের জন্য কাফ্‌ফারা আদায় করে দেই। আর যেটা কল্যাণকর সেটাই করে নেই এবং স্বীয় শপথের কাফ্‌ফারা আদায় করি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭০)


সহিহ মুসলিম অঃ->কসম বাব->যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে। হাঃ-৪১৫৫

খালাফ ইবনু হিশাম, কুতাইবাহ্ ইবনু 'ঈদ ও ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ) আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আশ'আরী গোত্রের কিছু সংখ্যক লোককে নিয়ে বাহন চাওয়ার জন্যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসি। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের বাহনের সওয়ারী দিব না। আর আমার কাছে এমন কিছু নেই যাতে আমি তোমাদের সওয়ার করাতে পারি। আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) বলেন, আল্লাহ যতটা চাইলেন আমরা ততক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর তাঁর কাছে উট আনা হলো। তিনি আমাদেরকে তিনটি সাদা কুঁজবিশিষ্ট উট দেয়ার নির্দেশ দেন। যখন আমরা (তা নিয়ে) চলে আসি। তখন আমরা বললাম, রাবী বলেন, অথবা আমাদের একে অপরকে বললেন যে, এতে আল্লাহ তা’আলা আমাদের কল্যাণ করবেন না। আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট সওয়ারী বাহন চাইতে এসেছিলাম। তখন তিনি কসম করেছিলেন যে, আমাদেরকে সওয়ারী বাহন দিবেন না। এরপর আমাদেরকে সওয়ারী দিলেন। তারপর তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট এসে তাঁর কসমের কথা অবগত করালেন। তিনি বললেনঃ আমি নই; বরং আল্লাহ তোমাদের সওয়ারী দিয়েছেন। আর আল্লাহর কসম! ইনশা-আল্লাহ আমি যখনই কোন বিষয়ের উপর কসম করি এরপর যদি এর তুলনায় অন্যটি কল্যাণকর মনে করি, তবে আমি আমার কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিব এবং যা উত্তম তাই করবো। (ই.ফা. ৪১১৭, ই.সে. ৪১১৬)


সহিহ মুসলিম অঃ->কসম বাব->যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে। হাঃ-৪১৬১

আবূ মূসা আশ‘আরী (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট সওয়ারী চাইতে আসি। তিনি বললেনঃ আমার নিকট এমন কিছু নেই যা তোমাদেরকে সওয়ারী হিসেবে দিতে পারি। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে সওয়ারী দিব না। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কালো মিশ্রিত সাদা কুঁজমিশ্রিত তিনটি উট আমাদের নিকট পাঠান। আমরা আলোচনা করলাম যে, সওয়ারী চাওয়ার জন্যে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট এসেছিলাম। তখন তিনি কসম খেয়েছিলেন যে, তিনি আমাদের সওয়ারী দিবেন না। এরপর আমারা তাঁর নিকট গিয়ে তাঁকে কসমের বিষয় জানালাম। তিনি বললেনঃ আমি কোন বিষয়ের উপর কসম করলে তার বিপরীত কাজ যদি উত্তম দেখি, তবে সে উত্তমটি করি। (ই.ফা. ৪১২৩, ই.সে. ৪০২২)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->কাফফারা সমূহ বাব->কেউ শপথ করার পর তার বিপরীত করা কল্যাণকর প্রতিভাত হলে। হাঃ-২১০৭

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আশআরীদের একটি দলের সাথে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর শপথ ! আমি তোমাদের জন্য জন্তুযানের ব্যবস্থা করতে অক্ষম। রাবী বলেন, আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম। অতঃপর কিছু সংখ্যক উট এসে গেল। তখন তিনি আমাদের উজ্জ্বল কুঁজবিশিষ্ট তিনটি উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমাদের প্রত্যাবর্তনের সময় আমাদের একজন অপরজনকে বললো, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। তিনি শপথ করে বলেছিলেন যে, তিনি আমাদের জন্তুযান দিতে অপারগ। পরে আবার তিনি আমাদের তা দিলেন। কাজেই চলো, আমরা তাঁর নিকট ফিরে যাই। অতএব আমরা তাঁর নিকট ফিরে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। আপনি শপথ করে বলেছিলেন যে, আপনি আমাদের জন্তুযান দিতে অক্ষম। এরপর আপনি আমাদের জন্তুযান দিলেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করিনি, আল্লাহই তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর তা'আলার মর্জি আমি শপথ করার পর তার বিপরিতে কল্যাণ দেখতে পেলে আমি শপথ ভঙ্গের কাফফারা আদায় করি, অতঃপর কল্যাণকর কাজটি করি। অথবা তিনি বলেনঃ আমি সেই ভাল কাজটি করি এবং আমার শপথ ভঙ্গের কাফফারা শোধ করি। [২১০৭]


সুনান নাসাঈ অঃ->কসম ও মান্নাত বাব->শপথ ভঙ্গের পূর্বেই কাফ্‌ফারা দেয়া হাঃ-৩৭৮০

আবূ মূসা আশ্‌আরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ একদা আমি আশ্‌আরী সম্প্রদায়ের একদল লোকসহ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বাহন চাওয়ার জন্য উপস্থিত হলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ ! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না এবং তোমাদেরকে দেব এমন কোন বাহনও আমার নিকট নেই। আবূ মূসা (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম, যেমন আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ছিল। অতঃপর তাঁর কাছে কিছু উট আসলো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে তিনটি উট দেয়ার নির্দেশ দিলেন। যখন আমরা সেখানে থেকে রওয়ানা হলাম, তখন আমাদের লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো, এই সওয়ারীতে আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে বরকত দান করবেন না। কেননা যখন আমরা তাঁর কাছে বাহন চাইবার জন্য উপস্থিত হই, তখন তিনি শপথ করে বলেনঃ আমি তোমাদেরকে সওয়ারী দেব না। আবূ মূসা (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে একথা উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে সওয়ারী দেইনি,বরং আল্লাহ্‌ তা’আলা তা তোমাদের দান করেছেন। আল্লাহ্‌র শপথ ! আমি যদি কোন বিষয়ের উপর শপথ করি, পরে অন্য বিষয়কে তার চেয়ে উত্তম দেখতে পাই, তখন আমি আমার শপথের কাফ্‌ফারা আদায় করি এবং যেটা উত্তম সেটাই করি।