সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->খাইবার [৪৭]-এর যুদ্ধ হাঃ-৪২৩৪

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, খাইবার যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি কিন্তু গানীমাত হিসেবে আমরা সোনা, রূপা কিছুই পাইনি। আমরা গানীমাত হিসেবে পেয়েছিলাম গরু, উট, বিভিন্ন দ্রব্য-সামগ্রী এবং ফলের বাগান। (যুদ্ধ শেষে) আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা পর্যন্ত ফিরে এরাম। তাঁর [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] সঙ্গে ছিল মিদআম নামে তাঁর একট গোলাম। বানী যিবাব (রাঃ)-এর এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এটি হাদিয়া দিয়েছিল। এক সময়ে সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাওদা নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে অজ্ঞাত একটি তীর ছুটে এসে তার গায়ে পড়ল। তাতে গোলামটি মারা গেল। তখন লোকেরা বলতে লাগল, কী আনন্দদায়ক তার এ শাহাদাত! তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আচ্ছা? সেই মহান সত্তার কসম! তাঁর হাতে আমার প্রাণ, বণ্টনের আগে খাইবারের গানীমাত থেকে যে চাদরখানা তুলে নিয়েছিল সেটি আগুন হয়ে অবশ্যই তাকে দগ্ধ করবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ কথা শুনে আরেক লোক একটি অথবা দু'টি জুতার ফিতা নিয়ে এসে বলল, এ জিনিসটি আমি বণ্টনের আগেই নিয়েছিলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ একটি অথবা দু'টি ফিতাও হয়ে যেত আগুনের (ফিতা)। [৫২] [৬৭০৭; মুসলিম ১/৪৯, হাঃ ১১৫] (আ.প্র ৩৯০৮, ই.ফা. ৩৯১২)


সহিহ মুসলিম অঃ->ঈমান বাব->গনীমাতের মাল আত্মসাৎ করা হারাম, ঈমানদার ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হাঃ-২১০

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খাইবারের অভিযানে বের হলাম। আল্লাহ আমাদেরকে জয়যুক্ত করলেন। গনীমাত হিসেবে আমরা স্বর্ণ বা রৌপ্য লাভ করিনি। বরং যা পেলাম তা ছিল আসবাবপত্র, খাদ্যদ্রব্য, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি। অতঃপর আমরা ওখান থেকে এক সমভূমির দিকে রওয়ানা হলাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে তাঁর একটি গোলাম ছিল। ‘জুযাম’ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি গোলামটি তাঁকে উপহার দিয়েছিল। তাকে রিফা’আহ্‌ ইবনু যায়দ নামে ডাকা হত। সে যুবায়ব গোত্রের লোক ছিল। যখন আমরা সমতল ভূমিতে অবতরণ করলাম, গোলামটি উঠে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘হাওদা’ খুলছিল। এমন সময় হঠাৎ একটি তীর এসে তার শরীরে বিদ্ধ হলো। আর তাতেই সে তৎক্ষণাৎ মারা গেলো। এ দেখে আমরা বলে উঠলাম : খুশীর বিষয় তার, মুবারক হোক! সে শাহাদাত লাভ করলো। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কখনো নয়। সে মহান সত্তার কসম যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! বণ্টন করা ছাড়াই খাইবার যুদ্ধের গণীমাত থেকে সে যে চাদর নিয়েছে তা আগুন হয়ে অবশ্যই তাকে দগ্ধ করবে। তাঁর এ কথা শুনে সমস্ত লোক ভীত হয়ে পড়লো। এক ব্যক্তি জুতার একটি কিংবা দু’টি ফিতা নিয়ে এসে বলল হে আল্লাহর রসূল! আমি এটি খাইবারের দিন তুলে নিয়েছিলাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এই একটি অথবা দু’টি জুতার ফিতা আগুনের ফিতায় রূপান্তরিত হতো। (ই.ফা. ২১১; ই.সে. ২১৮)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->জিহাদ বাব->গনীমাতের মাল আত্নসাতের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী হাঃ-২৭১১

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে আমরা খায়বারের যুদ্ধে বের হলাম। তাতে গনীমাত হিসেবে কাপড়-চোপড়, মালপত্র ইত্যাদি ছাড়া সোনা-রূপা পাইনি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওয়াদিল-কুরার দিকে রওয়ানা হলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মিদ’আম নামের একটি কালো গোলাম উপহার দেয়া হয়েছিল। অবশেষে তারা ওয়াদিল কুরায় পৌঁছলে মিদ’আম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উটের পালান খুলছিল। হঠাৎ একটি তীর এসে তার উপর পতিত হলে সে মারা যায়। লোকেরা বললোঃ তার জন্য কল্যাণ হয়েছে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কখনও নয়। ঐ সত্ত্বার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। খায়বারের যুদ্ধের দিন বন্টনের পূর্বে সে গনীমাতের যে চাদর চুরি করেছিল তা আগুন হয়ে তাকে দগ্ধ করছে। অতঃপর তারা যখন এ কথা শুনলো, এক ব্যক্তি একটি বা দু’টি চামড়ার লম্বা টুকরা নিয়ে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে হাজির হলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ চামড়ার টুকরাটি আগুনের, অথবা তিনি বললেনঃ চামড়ার এই টুকরা দু’টি আগুনের ফিতা।


সুনান নাসাঈ অঃ->কসম ও মান্নাত বাব->মালের মান্নত করলে জমি তার অন্তর্ভুক্ত হবে কি না হাঃ-৩৮২৭

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ খায়বরের বছর রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। সেখানে আমার গণীমত হিসাবে কেবল মাল (ভূ-সম্পদ) আসবাবপত্র ও বস্ত্রাদি পেলাম। যুবায়র গোত্রের রিফা’আ ইব্‌ন যায়দ নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে একটি হাবশী গোলাম দান করলো, যাকে লোকে মিদ্‌আম বলে ডাকতো। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান হতে ওয়াদীল কুরার দিকে রওয়ানা হলেন। আমারা যখন ওয়াদীল কুরায় পৌঁছলাম তখন হঠাৎ একটি তীর এসে তার গায়ে লাগলো এবং তাঁকে হত্যা করলো। তার গায়ে এমন সময় তীর লাগলো, যখন সে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামান নামাচ্ছিল। তখন লোক বলতে লাগলো: তোমার জন্য জান্নাত মুবারক হোক। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কখনও নয়। আল্লাহ্‌র কসম ! যে মাল সে খায়বরের দিন গণীমতের মাল হতে বণ্টনের পূর্বে নিয়েছিল, তা আগুন হয়ে তাকে গ্রাস করবে। লোকে যখন একথা শুনলো, তখন এক ব্যক্তি জুতার একটি অথবা দু’টি ফিতা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট নিয়ে আসলো। তিনি বললেনঃ একটি বা দু’টি আগুনের ফিতা।