সহিহ বুখারী অঃ->পোশাক-পরিচ্ছদ বাব->জন্তুযানে পুরুষের পেছনে পুরুষের বসা। হাঃ-৫৯৬৭

মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলাম। আমার ও তাঁর মাঝে লাগামের রশি ছাড়া অন্য কিছু্‌ই ছিল না। তিনি বললেনঃ মু’আয! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তারপর কিছুক্ষণ চললেন। আবার বললেনঃ হে মু’আয! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তারপর আরও কিছুক্ষণ চললেন। আবার বললেনঃ হে মু’আয ইবনু জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বললেনঃ তুমি জান, বান্দার উপর আল্লাহ্‌র কী হক? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূলই বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ বান্দার উপর আল্লাহ্‌র হক এই যে, তারা একমাত্র তাঁরই ‘ইবাদাত করবে, অন্য কিছুকে তাঁর অংশীদার গণ্য করবে না। এরপর কিছু সময় চললেন। তারপর বললেনঃ হে মু’আয ইবনু জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বললেনঃ বান্দারা যখন তাদের দায়িত্ব পালন করে, তখন আল্লাহ্‌র প্রতি বান্দার অধিকার কী, তা জান কি? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূলই অধিক জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌র উপর বান্দার অধিকার এই যে, তিনি তাদের ‘আযাব দিবেন না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪২৯)


সহিহ বুখারী অঃ->অনুমতি চাওয়া বাব->যে ‘লাব্বাইকা’ এবং ‘সা‘দাইকা’ বলে জবাব দিল। হাঃ-৬২৬৭

মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) বলেন, আমি একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে তাঁর সাওয়ারীর উপর উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি আমাকে ডাক দিলেনঃ ওহে মু’আয! আমি বললাম, লাব্বাইকা ওয়া সদাইকা। তারপর তিনি এরূপ তিনবার ডাকলেন। এরপর বললেনঃ তুমি কি জানো যে, বান্দাদের উপর আল্লাহ্‌র হক কী? তিনি বললেনঃ তা’ হলো, বান্দারা তাঁর ‘ইবাদত করবে আর এতে তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আবার কিছুক্ষণ চলার পর তিনি বললেনঃ ওহে মু’আয! আমি জবাবে বললামঃ লাব্বাইকা ওয়া সা’দাইকা। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি জানো যে, বান্দা যখন তাঁর ‘ইবাদত করবে, তখন আল্লাহ্‌র উপর বান্দাদের হক কী হবে? তিনি বললেনঃ তা এই যে, তিনি তাদের আযাব দিবেন না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭২০)


সহিহ মুসলিম অঃ->ঈমান বাব->যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ হাঃ-৪৯

মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি এক সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাহনের পিছনে বসা ছিলাম। আমার ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে হাওদার কাঠের টুকরা ব্যতীত কোন ব্যবধান ছিল না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘হে মু’আয ইবনু জাবাল!’ আমি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি; আপনার আনুগত্য শিরোধার্য’। অতঃপর তিনি কিছু দূর অগ্রসর হয়ে পুনরায় বললেন, ‘হে মু’আয ইবনু জাবাল!’ আমি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি; আপনার আনুগত্য শিরোধার্য’। তিনি বললেন, তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহর কী হক রয়েছে? আমি বললাম, ‘আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই তা উত্তম জানেন।’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো তারা তাঁর ‘ইবাদাত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শারীক করবে না।’ অতঃপর কিছু দূর চললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার বললেন, ‘হে মু’আয ইবনু জাবাল!’ আমি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি; আপনার আনুগত্য শিরোধার্য’। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তুমি কি জান, এগুলো করলে আল্লাহর কাছে বান্দার কী হক আছে?’ আমি বললাম, আল্লাহ তাঁর রসূলই ভালো জানেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আল্লাহ তা’আলা তাকে শাস্তি দিবেন না।’ (ই.ফা. ৫০; ই.সে. ৫১)