সহিহ বুখারী অঃ->আহার সংক্রান্ত বাব->আহার ও অন্যান্য কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা। হাঃ-৫৩৮০

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্রতা অর্জন, জুতা পরিধান ‎এবং চুল আঁচড়ানোতে সাধ্যমত ডান দিক থেকে শুরু করতেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৭৫)


সহিহ বুখারী অঃ->আহার সংক্রান্ত বাব->পরিতৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত আহার করা। হাঃ-৫৩৮১

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আবূ ত্বলহা (রাঃ) উম্মু সুলাইমকে বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুর্বল কণ্ঠসুর শুনে বুঝতে পারলাম তিনি ক্ষুধার্ত। তোমার নিকট (খাবার) কিছু আছে কি? তখন উম্মু সুলাইম কয়েকটি যবের রুটি বের করলেন। তারপর তার ওড়না বের করে এর একাংশ দ্বারা রুটিগুলো পেঁচিয়ে আমার কাপড়ের মধ্যে গুঁজে দিলেন এবং অন্য অংশ আমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে আমাকে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠালেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি এগুলো নিয়ে গেলাম এবং রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মাসজিদে পেলাম। তাঁর সঙ্গে অনেক লোক। আমি তাঁদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আবূ ত্বলহা তোমাকে পাঠিয়েছে? আমি বললামঃ হাঁ। তখন তিনি বললেনঃ খাবার জন্য? আমি বললামঃ হাঁ। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাথীদেরকে বললেনঃ ওঠ। তারপর তিনি চললেন। আমিও তাদের আগে আগে চলতে লাগলাম। অবশেষে আবূ ত্বলহার কাছে এসে পৌঁছলাম। আবূ ত্বলহা বললেনঃ হে উম্মু সুলাইম! রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো অনেক লোক নিয়ে এসেছেন। অথচ আমাদের কাছে এ পরিমাণ খাবার নাই যা তাদের খাওয়াব। উম্মু সুলাইম বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূল-ই ভাল জানেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ তারপর আবূ ত্বলহা গিয়ে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তারপর আবূ তালহা ও রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু সুলাইমকে ডেকে বললেনঃ তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে আস। উম্মূ সুলাইম ঐ রুটি নিয়ে আসলেন। তিনি আদেশ করলে তা টুকুরা করা হলো। উম্মু সুলাইম (ঘি বা মধুর) পাত্র নিংড়িয়ে তাকেই ব্যঞ্জন বানালেন। তারপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাশাআল্লাহ, এতে যা পড়ার পড়লেন। এরপর বললেনঃ দশজনকে আসতে অনুমতি দাও। তাদের আসতে বলা হলে তারা তৃপ্ত হয়ে আহার করল এবং তারা বেরিয়ে গেলা। আবার বললেনঃ দশজনকে অনুমতি দাও। তাদের অনুমতি দেওয়া হলো। তারা আহার করে তৃপ্ত হলো এবং চলে গেল। এরপর আরো দশজনকে অনুমতি দেওয়া হলো। সকলেই আহার করল এবং তৃপ্ত হলো। তারা মোট আশি জন লোক ছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৭৬)


সহিহ বুখারী অঃ->দু’আ বাব->বারাকাতসহ মালের প্রবৃদ্ধির জন্য দু‘আ প্রার্থনা। হাঃ-৬৩৭৮

উম্মু সুলায়ম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আনাস আপনার খাদিম, আপনি আল্লাহ্‌র নিকট তার জন্য দু‘আ করুন। তিনি দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন, আর আপনি তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন। হিশাম ইবনু যায়দ (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে এ রকমই বর্ণনা করতে শুনেছি।[১৯৮২; মুসলিম ৪৪/৩১, হাঃ ২৪৮০, ২৪৮১, আহমাদ ২৭৪৯৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৩২,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৫)


সহিহ বুখারী অঃ->দু’আ বাব->বারাকাতসহ মালের প্রবৃদ্ধির জন্য দু‘আ প্রার্থনা। হাঃ-৬৩৭৯

উম্মু সুলায়ম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আনাস আপনার খাদিম, আপনি আল্লাহ্‌র নিকট তার জন্য দু‘আ করুন। তিনি দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন, আর আপনি তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন। হিশাম ইবনু যায়দ (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে এ রকমই বর্ণনা করতে শুনেছি।[১৯৮২; মুসলিম ৪৪/৩১, হাঃ ২৪৮০, ২৪৮১, আহমাদ ২৭৪৯৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৩২,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৫)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর ফযিলত হাঃ-৬২৬৬

উম্মু সুলায়ম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার খাদিম আনাসের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন। তখন তিনি দু‘আ করলেন, ……… “হে আল্লাহ! তাকে ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততিতে বারাকাত দিন এবং আপনি তাঁকে যা দান করেছেন তাতেও বারাকাত দিন।” (ই. ফা. ৬১৪৮, ই. সে. ৬১৯১)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর ফযিলত হাঃ-৬২৬৯

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে এলেন। সে সময় আমি, আমার মা ও আমার খালা উম্মু হারাম ছাড়া সেখানে কেউ ছিল না। আমার মা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার ছোট খাদিমের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। রাবী বলেন, তিনি আমার জন্য সব ধরণের বারাকাতের দু’আ করলেন। তিনি আমার জন্য যে দু’আ করেছিলেন তার শেষাংশ ছিল- .“হে আল্লাহ! তাঁকে ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি বৃদ্ধি করুন এবং তাতে তাঁকে বারাকাত দিন।” (ই. ফা. ৬১৫১, ই. সে. ৬১৯৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর ফযিলত হাঃ-৬২৭০

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমার মা উম্মু আনাস (রাঃ) আমাকে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে গেলেন। তখন তিনি তাঁর ওড়নার অর্ধাংশ দিয়ে আমার ইযার (পায়জামা) এবং বাকী অর্ধাংশ দ্বারা আমার চাদর তৈরি করেছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! এ আমার বালক পুত্র উনায়স, আমি তাকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছি, সে আপনার সেবায় থাকবে। তার জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন। তখন তিনি দু‘আ করলেন, ……………………… “ হে আল্লাহ! তাঁর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করে দিন।” আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার ধন-মাল অনেক আর সে যুগে আমার সন্তান ও সন্তানের নাতী-নাতনীর সংখ্যা ছিল একশ’র মতো। (ই. ফা. ৬১৫২, ই. সে. ৬১৯৫)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের মর্যাদা বাব->আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর মর্যাদা হাঃ-৩৮২৯

উম্মু সুলাইম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আনাস ইবনু মালিক আপনার সেবক, আল্লাহ তা’আলার নিকট তাঁর জন্য দু’আ করুন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আনাসের ধন-মাল ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দাও এবং তুমি তাকে যা কিছু দিয়েছ তাতে বারাকাত দান কর। সহিহঃ সহীহাহ্‌ (২২৪৬), তাখরীজ মুশকিলাতুল ফাক্‌র (১২), বুখারী ও মুসলিম।