সহিহ বুখারী অঃ->সালাত বাব->একটি মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে সালাত আদায় করা। হাঃ-৩৫৭

উম্মু হানী বিনতু আবূ ত্বলিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি ফত্‌হে মক্কার বছর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গিয়ে দেখলাম যে, তিনি গোসল করছেন আর তাঁর মেয়ে ফাতিমা (রাঃ) তাঁকে আড়াল করে রেখেছেন। তিনি বলেনঃ আমি তাঁকে সালাম প্রদান করলাম। তিনি জানতে চাইলেনঃ এ কে? আমি বললামঃ আমি উম্মু হানী বিনতু আবূ ত্বলিব। তিনি বললেনঃ মারহাবা, হে উম্মু হানী! গোসল শেষ করে তিনি এক কাপড় জড়িয়ে আট রাক’আত সালাত আদায় করলেন। সালাত সমাধা করলে তাঁকে আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার সহোদর ভাই [‘আলী ইব্‌নু আবূ ত্বলিব (রাঃ) ] এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে চায়, অথচ আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। সে ব্যক্তিটি হুবায়রার ছেলে অমুক। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে উম্মু হানী ! তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ, আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। উম্মু হানী (রাঃ) বলেনঃ এ সময় ছিল চাশতের ওয়াক্ত। (২৮০; মুসলিম ৩/১৬, হাঃ ৩৩৬, আহমাদ ২৬৯৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫০)


সহিহ বুখারী অঃ->জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন বাব->নারীগণ কর্তৃক নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদান। হাঃ-৩১৭১

উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের বছর আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। তখন তাঁকে এমন অবস্থায় পেলাম যে, তিনি গোসল করছিলেন এবং তাঁর মেয়ে ফাতিমাহ (রাঃ) তাঁকে পর্দা করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ইনি কে? আমি বললাম, আমি উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব। তখন তিনি বললেন, মারহাবা হে উম্মু হানী! যখন তিনি গোসল হতে ফারেগ হলেন, একখানি কাপড়ে শরীর ঢেকে দাঁড়িয়ে আট রাক’আত সলাত আদায় করলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার সহোদর ভাই ‘আলী (রাঃ) হুবাইরার অমুক পুত্রকে হত্যা করার সংকল্প করেছে, আর আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে উম্মু হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো, আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি। উম্মু হানী (রাঃ) বলেন, এটা চাশ্‌তের সময় ছিল।


সহিহ মুসলিম অঃ->হায়িয (ঋতুস্রাব) বাব->গোসল করার সময় কাপড় কিংবা অনুরূপ কিছু দিয়ে পর্দা করে নেবে হাঃ-৬৫১

উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের বছর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলাম। তখন আমি তাকে এ অবস্থায় পেলাম যে, তিনি গোসল করছিলেন, আর তার কন্যা ফাতিমাহ্‌ একটি কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে রেখেছিল।৯২ (ই.ফা. ৬৫৫, ই.সে. ৬৭০)


সহিহ মুসলিম অঃ->মুসাফিরদের সালাত ও তার কসর বাব->যুহার সলাত মুস্তাহাব আর তার সর্বনিম্ন (রাক’আতের পরিমান) হচ্ছে দু’ রাক‘আত, আর সম্পুর্ন হচ্ছে আট রাক‘আত, মধ্যম পরিমান হচ্ছে চার অথবা ছয় রাক‘আত এবং এগুলো রক্ষনাবেক্ষন করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান হাঃ-১৫৫৪

উম্মু হানী (রাঃ)-এর আযাদকৃত দাস আবূ মুর্‌রাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, তিনি আবূ ত্বলিবের কন্যা উম্মু হানী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন। (তিনি বলেছেন) মক্কা বিজয়ের বছরে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি গোসল করছেন আর তাঁর কন্যা ফাত্বিমাহ্‌ একটি কাপড় দিয়ে তাঁকে পর্দা করে রেখেছেন। উম্মু হানী বলেন- আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তখন তিনি জানতে চাইলেন, কে? আমি বললামঃ আমি আবূ ত্বলিবের কন্যা উম্মু হানী। তিনি (খুশীতে) বললেনঃ উম্মু হানীকে স্বাগতম। অতঃপর গোসল শেষ করে তিনি সলাতে দাড়াঁলেন এবং একটি মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে আট রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। সলাত শেষে আমি তাঁকে বললামঃ হে আল্লাহর রসুল! আমার ভাই ‘আলী ইবনু আবু ত্বলিব বলেছেনঃ তিনি আবু হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)-এর পুত্র অমুককে হত্যা করে ছাড়বেন অথচ আমি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। সব শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দান করেছ আমিও তাকে নিরাপত্তা দান করেছি। উম্মু হানী বর্ণনা করেছেনঃ এ ঘটনা ছিল ‘যুহা’ বা চাশ্‌তের সময়ের। (ই.ফা. ১৫৩৯, ই.সে. ১৫৪৬)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->অনুমতি প্রার্থনা বাব->মারহাবা (স্বাগতম) বলা হাঃ-২৭৩৪

উম্মু হানী (রা:) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসুলাল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট হাযির হলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন। এবং ফাতিমা (রাঃ) একটি কাপড় দ্বারা তাঁকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তিনি বলেন , আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি (রাসুল্লাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইই ওয়া সাল্লাম) প্রশ্ন করলেনঃ কে? আমি বললাম , আমি উম্মু হানী। তিনি বললেনঃ উম্মু হানীকে স্বাগতম। তারপর বর্ণনাকারী এ হাদীসের পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। সহীহঃ বুখারী (৩৫৭) , মুসলিম (২/১৫৮)।