সহিহ বুখারী অঃ->মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর বর্ণনা। হাঃ-৩৫৬০

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে যখনই দু’টি জিনিসের একটি গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়া হত, তখন তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন যদি তা গুনাহ না হত। গুনাহ হতে তিনি অনেক দূরে অবস্থান করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহ্‌র সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রতিশোধ নিতেন।


সহিহ বুখারী অঃ->শরীয়তের শাস্তি বাব->শরীয়াতের হদ কায়িম করা এবং আল্লাহ্‌র নিষিদ্ধ কাজে (কেউ লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে) প্রতিশোধ নেয়া। হাঃ-৬৭৮৬

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে যখনই (আল্লাহ্‌র নিকট থেকে) দু’টো কাজের মধ্যে একটিকে বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হত, তখন তিনি দু’টোর সহজটি বেছে নিতেন, যতক্ষণ না সেটা গুনাহ্‌র কাজ হত। যদি সেটা গুনাহ্‌র কাজ হত তাহলে তিনি তাত্থেকে বহু দূরে থাকতেন। আল্লাহ্‌র কসম! তিনি কখনও তাঁর ব্যক্তিগত কারণে কোন কিছুর প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ্‌র হারামসমূহকে ছিন্ন করা হত। সেক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র জন্য তিনি প্রতিশোধ নিতেন। [৯৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩২৯)


সহিহ বুখারী অঃ->শরীয়তের শাস্তি বাব->শাস্তি ও শাসনের পরিমাণ কতটুকু হাঃ-৬৮৫৩

আবদান (র.)...... ‘আয়েশা (রা.) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের জন্য তার উপর আপতিত বিষয়ের কোন প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, যে পর্যন্ত না আল্লাহ্‌র অলঙ্ঘনীয় সীমালঙ্ঘন করা হয়। এমন হলে তিনি আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৮৯)


সহিহ মুসলিম অঃ->ফযীলত বাব->খারাপ কাজ হতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দূরে অবস্থান এবং মুবাহ্‌ কাজের মাঝে সহজটিকে গ্রহণ করা এবং আল্লাহ্‌র মর্যাদা হানি হয় এমন বিষয়ে প্রতিশোধ নেয়া হাঃ-৫৯৩৯

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দু’টো বিষয়ের কোন একটি গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়া হত তখন তিনি সহজটি সাদরে গ্রহণ করতেন, যদি না তা দোষের হত। আর যদি তা দূষণীয় হতো তবে তা হতে তিনি সবার চেয়ে দূরে থাকতেন। নিজের জন্য কোন দিন প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না, তবে আল্লাহ্‌র মর্যাদা হানি হলে (প্রতিশোধ নিতেন)। (ই.ফা. ৫৮৩৮, ই.সে.৫৮৭৩)


সহিহ মুসলিম অঃ->ফযীলত বাব->খারাপ কাজ হতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দূরে অবস্থান এবং মুবাহ্‌ কাজের মাঝে সহজটিকে গ্রহণ করা এবং আল্লাহ্‌র মর্যাদা হানি হয় এমন বিষয়ে প্রতিশোধ নেয়া হাঃ-৫৯৪২

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সম্মুখে এমন দু’টো বিষয়ের স্বাধীনতা দেয়া হত যার একটি অপরটির তুলনায় সহজ তখন তিনি সহজটিকেই গ্রহণ করতেন, যদি সেটি দোষের না হত। আর দূষণীয় হলে তিনি তা হতে সর্বাধিক দূরে থাকতেন। (ই.ফা. ৫৮৪০, ই.সে.৫৮৭৫)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->শিষ্টাচার বাব->ক্ষমা করা ও অপরাধ উপেক্ষা করা হাঃ-৪৭৮৫

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যখনে রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে দু’টি কাজের যে কোন একটি গ্রহনের স্বাধীনতা দেয়া হতো তখন তিনি দু’টির মধ্যে সহজতরটি গ্রহন করতেন, যদি না তা পাপ কাজ হতো। আর যদি তা পাপ কাজ হতো তবে তিনি তা হতে অন্যদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি দুরে থাকতেন। রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ নেন নি। কিন্তু আল্লাহ প্রদত্ত সীমারেখা বা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তিনি আল্লাহর জন্য অবশ্যই তার প্রতিশোধ নিতেন।