আবূ শুরায়হ্ কা'বী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্তে ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহ্মানের সম্মান করে। মেহ্মানের সম্মান একদিন ও একরাত। আর সাধারণ মেহ্মানদারী তিনদিন ও তিনরাত। এরপরে (তা হবে) 'সদাকাহ'। মেযবানকে কষ্ট দিয়ে, তার কাছে মেহ্মানের অবস্থান করা বৈধ নয়। (অন্যসূত্রে) মালিক (রহঃ) এ রকম বর্ণনা করার পর আরো অধিক বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা সে যেন চুপ থাকে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯৫,৫৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৯২)
আবূ শুরাইহ্ আল খুযায়ী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার দু’কান নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছে এবং আমার অন্তর তা হিফাযাত করে রেখেছে, মেহমানদারী তিন দিন, ভদ্রতার সঙ্গে। জিজ্ঞেস করা হল, ভদ্রতা কী? তিনি বললেন, একদিন ও এক রাত (বিশেষ মেহমানদারী)। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা নীরব থাকে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৩২)
আবূ শুরাইহ্ ‘আদাবী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার দু’কান শুনেছে এবং দু’চক্ষু দেখেছে, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালভাবে নিজ মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। তখন সাহাবীগন বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম)! ভালভাবে মানে কি? তখন তিনি বললেন, তাকে একদিন ও এক রাত্রি আপ্যায়ন করবে। আর (সাধারনভাবে) মেহমানদারীর সময়কাল তিন দিন। এর চাইতে বেশি দিন মেহমানদারী করা তার জন্য সাদকাহ্ স্বরূপ। তিনি আরো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে। [দ্রষ্টব্য হাদীস ১৭৬] (ই.ফা. ৪৩৬৪, ই.সে. ৪৩৬৪)
আবূ শুরাইহ্ আল-কা’বী (রাঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। উত্তমরূপে মেহমানদারীর সীমা একদিন একরাত। মেহমানদারী তিনদিন। এরপর অতিরিক্ত দিনগুলোর মেহমানদারী সদাক্বাহ হিসাবে গণ্য। তিনদিন পর আপ্যায়নকারীর বাড়িতে তার বিনা অনুমতিতে মেহমানদের অবস্থান করা উচিৎ নয়। এতে সে বিরক্ত হতে পারে। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণীঃ ‘জাইযাহ’ একদিন ও একরাত-এর অর্থ কি? তিনি বলেন, কথাটির অর্থ হলো, মেহমানকে সম্মান প্রদর্শন, উপহার প্রদান ও তার নিরাপত্তা বিধান করা একদিন ও একরাত। আর আতিথ্য প্রদান হচ্ছে তিনদিন। [৩৭৪৮] আবূ শুরাইহ বর্ণিত হাদীসটি সহীহ। মালিক ইবনু আনাসের বর্ণনার সানাদ সহীহ মাক্বতূ‘।
আবূ শুরাইহ্ আল ‘আদাবী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার উভয় চোখ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছে এবং আমার উভয় কান তাঁকে বলতে শুনেছে। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ ও আখিরাতের প্রতি যে লোক ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে, তাকে জা-ইযা দেয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, জা-ইযা কি? তিনি বলেনঃ একদিন ও একরাতের পাথেয় সাথে দেয়া। তিনি আরো বলেনঃ মেহমানদারী তিনদিন পর্যন্ত। এর অতিরিক্তটুকু সাদকারূপে গণ্য। আল্লাহ্ তা‘আলা ও আখিরাতের উপর সে লোক ঈমান রাখে যে যেন উত্তম কথা বলে, আর না হয় চুপ থাকে। সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (৩৬৭৫) , বুখারী ও মুসলিম।