আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার হুযাইল গোত্রের দু’জন মহিলার মধ্যে বিচার করেন। তারা উভয়ে মারামারি করেছিল। তাদের একজন অন্যজনের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর গিয়ে তার পেটে লাগে। সে ছিল গর্ভবতী। ফলে তার পেটের বাচ্চাকে সে হত্যা করে। তারপর তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তিনি ফায়সালা দেন যে, এর পেটের সন্তানের বদলে একটি পূর্ণ দাস অথবা দাসী দিতে হবে। জরিমানা আরোপকৃত মহিলার অভিভাবক বললঃ হে আল্লাহর রসূল! এমন সন্তানের জন্য আমার উপর জরিমানা কেন হবে, যে পান করেনি, খাদ্য খায়নি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। এ অবস্থায় জরিমানা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ তো (দেখছি) গণকদের ভাই। [৫৭৫৯, ৫৭৬০, ৬৭৪০, ৬৯০৪, ৬৯০৯, ৬৯১০; মুসলিম ২৮/১১, হাঃ ১৬৮১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩৪)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হুযায়ল গোত্রের দু’জন মহিলা পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হল। এতে একজন অপরজনকে পাথর দ্বারা আঘাত করল। এর দ্বারা সে ঐ মহিলা ও তার গর্ভের সন্তানকে হত্যা করে ফেলল। তখন নিহত মহিলার উত্তরাধিকারীরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অভিযোগ করল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুকুম দিলেন যে, সন্তানের দিয়্যাত হল একটি দাস কিংবা-দাসী প্রদান করা। নিহত মহিলার দিয়্যাত (রক্তপণ) হত্যাকারী মহিলার ওয়ারিসগণের উপর আরোপিত হবে। আর (নিহত) মহিলার ওয়ারিস হবে তার সন্তান এবং তার সাথে অন্য ওয়ারিসগণ। হামাল ইবনু নাবিগাতুল হযালী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কিভাবে এর ক্ষতিপূরণ প্রদান করবো, যে পান করেনি, খায়নি, কথা বলেনি এবং শব্দও করেনি? সে তো এলো আর গেল। এমন ছন্দযুক্ত বাক্যবলার কারণে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ যেন গণকদের ভাই। (ই.ফা. ৪২৪৪, ই.সে. ৪২৪৪)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হুযাইল গোত্রের দু‘জন মহিলা পরস্পরে মারামারি কালে একজন অপরজনকে পাথর ছুঁড়ে মেরে হত্যা করে। অতঃপর উভয়ের অভিভাবক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট বিচার প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার গর্ভস্থ শিশুর দিয়াত হিসেবে একটি মূল্যবান দাস বা দাসী প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং নিহত মহিলার দিয়াত হত্যাকারিনীর গোত্রের লোকজনের উপড় ধার্য করে দেন এবং দিয়াতের উত্তরাধিকারী বানান নিহতের সন্তান ও তার সঙ্গের অন্যান্য অংশীদারকে। ফলে হুযাইল গোত্রের হামাল ইবনু মালিক ইবনু নাবিগাহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! পানাহার করেনি, কথাও বলেনি, চিৎকারও দেয়নি, এমন শিশুর দিয়াত কিভাবে আমরা পরিশোধ করবো। এরূপ ক্ষেত্রে জরিমানা বৃথা। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে যেভাবে ছন্দোবদ্ধ বক্তব্য রেখে যাচ্ছে মনে হচ্ছে সে গণকের ভাই।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
হুযায়ল গোত্রের দুই নারী ঝগড়া করলে তাদের একজন অন্যজনের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে। ফলে সে মারা যায় এবং তার পেটের বাচ্চাও মারা যায়। ঐ লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফরিয়াদ করলে তিনি বলেনঃ বাচ্চার দিয়াত এক দাস বা দাসী, আর ঐ মহিলার দিয়াত তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়-স্বজন থেকে আদায় করে দেন। আর সেই দিয়াত পায় ঐ নারীর ছেলে, যে নারী নিহত হয়েছিল। একথা শুনে হামল ইব্ন মালিক ইব্ন নাবিগা হুযালী (রহঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি ঐ ব্যক্তির দিয়াত কেন দিব, যে না খেয়েছে, না কোন পান করেছে, না কথা বলেছে? এই খুন তো বৃথা যাবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এই ব্যক্তি গণকদের ভাই যে ছন্দযুক্ত কথা বলে।
সাঈদ ইব্ন মুসাইয়্যাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বাচ্চাকে তার মাতৃগর্ভে হত্যা করা হয়, তার দিয়াত এক দাস বা এক দাসী দেওয়ার আদেশ জারী করেন। তিনি যার বিরুদ্ধে এ আদেশ দেন, সে বলল, আমি কিরূপে দিয়াত দেব, অথচ সে খায় নি, পান করে নি, কথা বলে নি-এই হত্যা বৃথা যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এই ব্যক্তি তো গণকদের অন্তর্গত।