সহিহ বুখারী অঃ->উত্তরাধিকার বাব->আল্লাহ্‌র বাণীঃ আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তান-সন্ততির (অংশ) সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, পুরুষ দুই নারীর অংশের সমান পাবে, তবে সন্তান-সন্ততি যদি শুধু দু’জন নারীর অধিক হয় তাহলে তাঁরা রেখে যাওয়া সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ ভাগ পাবে, আর কেবল একটি কন্যা থাকলে সে অর্ধেক পাবে এবং তার পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকে রেখে যাওয়া সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ পাবে যদি তার সন্তান থাকে, আর যদি তার সন্তান না থাকে এবং তার ওয়ারিশ মাতা-পিতাই হয়, সে অবস্থায় তার মাতার জন্য এক তৃতীয়াংশ, কিন্ত তার ভাই-বোন থাকলে, তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (ঐসব বন্টন হবে) তার কৃত ওয়াসীয়াত অথবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমরা জান না তোমাদের পিতা এবং সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের পক্ষে উপকারের দিক দিয়ে অধিকতর নিকটবর্তী। (এ বন্টন) আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাশীল। তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য- যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে আর যদি সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, তাদের কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর এবং তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির সিকি অংশ পাবে যদি তোমা(...) হাঃ-৬৭২৩

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি অসুস্থ হলাম। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ) আমার সেবা করলেন। তাঁরা উভয়েই একবার পায়ে হেঁটে আমার কাছে উপস্থিত হলেন। আমি তখন জ্ঞানশূন্য ছিলাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অযু করলেন এবং আমার উপর অযূর পানি ঢেলে দিলেন। আমার জ্ঞান ফিরলে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার সম্পদের ব্যাপারে কী করব। আমার সম্পদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেব? তিনি আমাকে কোন জওয়াব দিলেন না। অবশেষে উত্তরাধিকারের আয়াত অবতীর্ণ হল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৬৮)


সহিহ বুখারী অঃ->কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা বাব->ওয়াহী নাযিল হয়নি এমন কোন বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম) - কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন: আমি জানি না কিংবা সে সর্ম্পকে ওয়াহী নাযিল না হওয়া পর্যন্ত কোন জবাব দিতেন না এবং তিনি ব্যক্তিগত মতের উপর ভিত্তি করে কিংবা অনুমান করে কিছু বলতেন না। হাঃ-৭৩০৯

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি অসুস্থ ছিলাম। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম) ও আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। তাঁরা দু’জনেই হেঁটে এসেছিলেন। তাঁরা যখন আমার কাছে আসলেন, তখন আমি বেহুঁশ ছিলাম। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম) উযূ করলেন এবং ‍উযূর পানি আমার উপরে ঢেলে দিলেন। তাতে আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! বর্ণনাকারী সুফিয়ান কোন কোন সময় বলতেন হে আল্লাহ্‌র রসূল-আমার সম্পদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেব? আমার সম্পদগুলো কী করব? (বর্ণনাকারী সাহাবী বলেন) তিনি আমাকে কোন জবাব দিলেন না, অবশেষে মীরাসের আয়াত অবতীর্ণ হল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮১১)


সহিহ মুসলিম অঃ->ফারায়িয বাব->কালালার [২০] উত্তরাধিকার সংক্রান্ত হাঃ-৪০৩৭

জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ) পায়ে হেঁটে আমাকে দেখতে আসেন। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূ করেন এবং ওযূর অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম, আর বললাম, হে আল্লাহর ‘রসূল! আমি আমার সম্পদ কিরূপে বণ্টন করবো? তিনি আমাকে কোন উত্তর দেননি, মীরাস সংক্রান্ত আয়াত (অর্থাৎ “লোকে আপনার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়, বলুন, পিতামাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ জানাচ্ছেন...”-(সূরা আন্‌ নিসা ৪:১৭৬) নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। (ই.ফা. ৪০০০, ই.সে. ৩৯৯৯)


সহিহ মুসলিম অঃ->ফারায়িয বাব->কালালার [২০] উত্তরাধিকার সংক্রান্ত হাঃ-৪০৩৯

জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখতে আসেন। আমি রোগাক্রান্ত ছিলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবূ বকর (রাঃ)। তাঁরা উভয়েই পায়ে হেঁটে আসেন। তিনি এসে আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূ করেন এবং অবশিষ্ট পানির কিছু আমার উপর ছিটেয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে দেখতে পেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি আমার সম্পদ কিভাবে বণ্টন করবো? আমাকে তিনি কোন উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না মীরাসের আয়াত নাযিল হয়। (ই.ফা. ৪০০২, ই.সে. ৪০০১)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->ফারায়িয (ওয়ারিসী স্বত্ব) বাব->কালালাহ (পিতৃহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি) সম্পর্কে হাঃ-২৮৮৬

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে দেখার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবূ বকর (রাঃ) পায়ে হেঁটে উপস্থিত হলেন। তখন আমি বেহুঁশ থাকায় তাঁর সাথে কথা বলতে পারিনি। তিনি উযু করলেন এবং তাঁর উযুর পানি আমার গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পত্তি কি করবো? আমার শুধু কয়েকটি বোন আছে। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আয়াত অবর্তীর্ণ হলোঃ “লোকেরা তোমার কাছে ফাতাওয়াহ্‌ জিজ্ঞেস করে। বলো, আল্লাহ তোমাদের কালালাহ সম্পর্কের ফাতাওয়াহ্‌ দিচ্ছেন...” (সূরাহ আন-নিসাঃ ১৭৬)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->ওয়ারিসী স্বত্ব বণ্টন বাব->কালালা (পিতৃ-মাতৃহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি) হাঃ-২৭২৮

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে পদব্রজে আমাকে দেখতে এলেন। আমি বেহুঁশ হয়ে পড়লাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযু করলেন, অতঃপর তাঁর উযুর পানি আমার গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। (হুঁশ ফিরে এলে) আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি আমার সম্পদের ব্যাপারে কী করবো, আমি এ ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নিবো? শেষভাগে মীরাছের আয়াত নাযিল হলো (অনুবাদ): “লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বলো, পিতৃ-মাতৃহীন নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে এবং তার এক বোন থাকলে তার জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ এবং সে (বোন) নিঃসন্তান হলে তার ভাই তার ওয়ারিস হবে। আর দু’বোন থাকলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ তাদের প্রাপ্য। আর ভাই-বোন থাকলে এক পুরুষের অংশ দু’নারীর অংশের সমান। তোমরা যাতে পথভ্রষ্ট না হও সেজন্য আল্লাহ তোমাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত” (সুরা নিসাঃ ১৭৬) [২৭২৮] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->ফারাইয বাব->বোনদের মীরাস হাঃ-২০৯৭

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখতে এলেন। তিনি আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। তাঁর সাথে আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)- ও আমাকে দেখতে আসেন। তাঁরা দুজনেই পায়ে হেঁটে আসেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূ করলেন এবং ওযূর পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। আমার হুঁশ ফিরে এল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ধন-সম্পদের ব্যাপারে আমি কি করব? আমার এ কথায় তিনি কোন জবাব দিলেন না। (অধঃস্তন বর্ণনাকরী বলেন) তার নয়টি বোন ছিল। অবশেষে মীরাস বিষয়ক আয়াতটি অবতীর্ণ হলোঃ “লোকেরা তোমার কাছে জানতে চায়। বল! আল্লাহ তা‘আলঅ তোমাদেরকে কালালা প্রসঙ্গে বিধান দিচ্ছেন…..” (সূরাঃ আন-নিসা-১৭৬)। জাবির (রাঃ) বলেন, আয়াতটি আমার সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭২৮), বুখারী, মুসলিম।