সহিহ বুখারী অঃ->হায়েজ বাব->ঋতুকালীন ঋতুবতী মহিলাদের প্রতি নির্দেশ। হাঃ-২৯৪

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা হজ্জের উদ্দেশেই (মদীনা হতে) বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার হায়েয আসলো। আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেনঃ এ তো আল্লাহ্‌ তা’আলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বাইতুল্লাহ্‌র ত্বওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকী সব কাজ করে নাও। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন। (৩০৫, ৩১৬, ৩১৭, ৩১৯, ৩২৮, ১৫১৬, ১৫১৮, ১৫৫৬, ১৫৬০, ১৫৬১, ১৫৬২, ১২৩৮, ১৬৫০, ১৭০৯, ১৭২০, ১৭৩৩, ১৭৫৭, ১৭৬২, ১৭৭১, ১৭৭২, ১৭৮৩, ১৭৮৬, ১৭৮৭, ১৭৮৮, ২৯৫২, ২৯৮৪, ৪৩৯৫, ৪৪০১, ৪৪০৮, ৫৩২৯, ৫৫৪৮, ৫৫৫৯, ৬১৫৭,৭২২৯; মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১১) (আধুনিক প্রকাশনী- ২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৯০)


সহিহ বুখারী অঃ->কুরবানী বাব->মুসাফির ও মহিলাদের কুরবানী করা। হাঃ-৫৫৪৮

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। অথচ মাক্কাহ প্রবেশের পুর্বেই 'সারিফ' নামক জায়গায় তার মাসিক শুরু হয়। তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? মাসিক শুরু হয়েছে না কি? তিনি বললেনঃ হাঁ। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা তো এমন এক ব্যাপার যা আল্লাহ আদম (আঃ)- এর কন্যাদের উপর নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কাজেই হাজীগণ যা করে থাকে, তুমিও তেমনি করে যাও, তবে তুমি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। এরপর আমরা যখন মিনায় ছিলাম, তখন আমার কাছে গরুর গোশ্‌ত নিয়ে আসা হল। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এটা কী? লোকজন উত্তর করলঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে হাঃ-২৮০৮

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা একমাত্র হাজ্জের উদ্দেশে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা ‘সারিফ’ নামক স্থানে বা এর কাছাকাছি পৌঁছলে আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা এটা আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি হাজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান পূর্ণ কর, শুধু (হায়যকাল শেষ হবার পর) গোসল না করা পর্যন্ত বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করবে না। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীগণের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেন। (ই.ফা. ২৭৮৫, ই.সে. ২৭৮৩)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->হজ্জ বাব->ঋতুবতী মহিলা তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের অবশিষ্ট অনুষ্ঠানাদি পালন করবে হাঃ-২৯৬৩

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে রওয়ানা হলাম। আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল হজ্জ আদায় করা। আমরা সারিফ নামক স্থানে অথবা তার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছালাম, তখন আমার মাসিক ঋতু শুরু হলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কী হয়েছে, তুমি কি ঋতুগ্রস্ত হয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তাআলা আদম কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। তুমি হজ্জের সমস্ত অনুষ্ঠান পালন করো, শুধুমাত্র বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করো না। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কোরবানী করেন। [২৯৬৩] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->মুহরিম [১] মহিলা ঋতুমতী হলে কি করবে হাঃ-২৯০

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গে হজ্জের নিয়তে বের হলাম। যখন আমরা সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার হায়য আসল। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার নিকট আসলেন, তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। তোমার কি হল? তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ্ তা’আলা আদম কন্যাদের জন্য অবধারিত করেছেন। অতএব, তুমি হজ্জের সকল আহকাম আদায় কর তবে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী দিলেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->হায়য ও ইস্তিহাযা বাব->হায়যের সূচনা এবং হায়যকে নিফাস বলা যায় কিনা হাঃ-৩৪৮

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে বের হলাম, হজ্জ করা ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। যখন আমরা সারিফ নামক স্থানে উপনীত হলাম তখন ঋতুমতি হলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার কি হলো? তোমার কি নিফাস (হায়য) আরম্ভ হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্‌ তা’আলা আদম কন্যাদের জন্য অবধারিত করেছেন। অতএব বায়তুল্লাহ্‌র তওয়াফ ব্যতীত হাজীগন যে সব কাজ করে থাকেন, তুমিও তা কর।


সুনান নাসাঈ অঃ->হজ্জের বিধি-বিধানসমূহ বাব->তালবিয়া পাঠের সময় বিসমিল্লাহ না পড়া হাঃ-২৭৪১

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা সফরে বের হলাম। হজ্জ ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। সারিফ নামক স্থানে পৌছার পর আমি ঋতুমতী হই। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন। আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি ঋতুস্রাব দেখা দিয়েছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ ইহা এমন বিষয় যা আল্লাহ তা’আলা আদমের কন্যা সন্তানদের উপর নির্ধারিত করেছেন। তুমি মুহরিম ব্যক্তি হজ্জের যে সকল কাজ করে তুমিও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত তা করতে থাক।