‘আম্র ইবনু ‘আলী (রহঃ) রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহ্র রসূল! আমরা আগামী দিন শত্রুর সম্মুখীন হব, অথচ আমাদের কাছে কোন ছুরি নেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি ত্বরান্বিত করবে কিংবা তিনি বলেছেনঃ জলদি (যবহ্) করবে। যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং আল্লাহ্র নাম নেয়া হয়, তা খাও। তবে দাঁত ও নখ দ্বারা নয়। তোমাকে বলছিঃ দাঁত হল হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি। আমরা কিছু উট ও বক্রী গনীমত হিসাবে পেলাম। সেগুলো থেকে একটি উট পালিয়ে যায়। একজন সেটির উপর তীর নিক্ষেপ করলে আল্লাহ উটটি আটকিয়ে দেন। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ সব গৃহপালিত উটের মধ্যে বন্য পশুর স্বভাব আছে। কাজেই তা থেকে কোনটি যদি তোমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তা হলে তার সঙ্গে এরকমই ব্যবহার করবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০০১)
রাফী’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক সফরে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন উটগুলোর মধ্য থেকে একটি উট পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, তখন এক ব্যক্তি সেটির দিকে তীর ছুঁড়লে আল্লাহ সেটিকে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ সব পশুর মধ্যে বন্য পশুর স্বভাব আছে। সুতরাং তার মধ্যে কোনটি তোমাদের উপর বেয়াড়া হয়ে উঠলে তার সঙ্গে সেরকমই ব্যাবহার কর। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহ্র রসুল! আমরা অনেক সময় যুদ্ধ অভিযানে বা সফরে থাকি, যবহ্ করতে ইচ্ছে করি কিন্তু ছুরি থাকে না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আঘাত করো এমন বস্তু দিয়ে যা রক্ত ঝরায় অথবা তিনি বলেছেনঃ এমন বস্তু দিয়ে যা রক্ত ঝরায় এবং যার উপরে আল্লাহ্র নাম নেয়া হয়েছে সেটি খাও, তবে দাঁত ও নখ বাদে। কারন দাঁত হল হাড়, আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৩)
রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা আগামীকাল শত্রুর সঙ্গে মুকাবিলা করবো। অথচ আমাদের সঙ্গে কোন ছুরি নেই। তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি কিংবা ভালভাবে দেখে নিখঁতভাবে যাবাহ করবে। যা রক্ত প্রবাহিত করে, যার উপর আল্লাহ্র নাম নেয়া হয় তা (দিয়ে যাবাহকৃত জন্তু) খাও। তবে তা যেন দাঁত ও নখ না হয়। আমি তোমাদের কাছে এর কারণ বর্ণনা করেছি। কেননা দাঁত হলো হাড় বিশেষ, আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি। রাবী বলেন, আমরা গনীমাতের কিছু উট ও বকরী পেলাম। সেখান থেকে একটি উট ছুটে গেলে এক লোক তীর মেরে সেটাকে আটকিয়ে ফেললো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এসব উটের মধ্যেও বন্য প্রাণীর মতো আচরণ রয়েছে। অতএব এগুলোর মাঝে কোন একটি যদি নিয়ন্ত্রণ হারা হয়ে যায় তবে তার সঙ্গে এরূপ ব্যবহারই করবে। (ই.ফা. ৪৯৩২, ই.সে. ৪৯৩৬)
রাফি’ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন: আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমরা কাল শত্রুর সম্মুখীন হবো। তখন আমাদের সাথে ছুরি ইত্যাদি থাকবে না। তিনি বললেন: যা রক্ত প্রবাহিত করে দেয় এবং যাকে আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ করা হয়, তা আহার করতে পার; দাঁত ও নখ দ্বারা যা যবেহ করা হয় তা ব্যতীত। সেই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনীমতের মাল হিসাবে একপাল উট ও বকরী পেলেন। তা থেকে একটি উট পালিয়ে যেতে লাগল। এক ব্যক্তি তীর মেরে তাকে আটকে ফেলল। তখন তিনি বললেন: এ সকল জন্তু অথবা তিনি বলেছেন, এ সকল উটের জংলী জন্তুর ন্যায় পলায়নের অভ্যাস রয়েছে। অতএব যদি কোন উট পালিয়ে যায় এবং তোমরা ধরতে না পার, তবে তোমরা তার প্রতি এরূপ করবে।
রাফি ইব্ন খাদীজ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন: আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমরা আগামীকাল শত্রুর সম্মুখীন হব, আর তখন আমাদের সাথে ছুরি থাকবে না। তিনি বললেন: যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়, তা খাও; তবে দাঁত ও নখ দ্বারা নয়। আর আমি তোমাদের নিকট এর কারণ বলছি যে, দাঁত তো এক প্রকার হাঁড়, আর নখ হলো হাবশী লোকদের ছুরি। আমরা গনীমতরূপে একপাল উট বা ছাগল পেলাম। তা থেকে একটি উট পালাতে থাকলে এক ব্যক্তি তীর ছুঁড়ে তাকে বাধা দিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: এই সকল উটের মধ্যে জংলী জন্তুর ন্যায় পলায়ন করার অভ্যাস রয়েছে। অতএব যদি কোন জন্তু তোমরা ধরতে না পার, তবে তোমরা তার প্রতি এরূপ করবে।