সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম হাঃ-২৭৪২

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। মাক্কার একটি পথে যখন আমরা পৌছলাম তখন তিনি তার কতিপয় মুহরিম সঙ্গীসহ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে পড়ে গেলেন। তিনি ছিলেন ইহরামমুক্ত। তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে নিজের ঘোড়ায় চেপে বসলেন এবং সঙ্গীদেরকে তার চাবুকটি তুলে দিতে বললেন। তারা তা তুলে দিতে রাযি হলেন না। তিনি তাদেরকে নিজের বল্লমটি তুলে দিতে বললেন, এবারও তারা তার কথায় রাজী হলেন না। এরপর তিনি নিজেই তা তুলে নিলেন এবং ঘোড়া হাঁকিয়ে গাধাটি শিকার করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতিপয় সাহাবী তার গোশত খেলেন এবং কতক তা প্রত্যাখ্যান করলেন। অতএব তারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌছে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এতো খাদ্য, মহামহিম আল্লাহ তোমাদের তা দান করেছেন। (ই.ফা. ২৭১৯, ই.সে. ২৭১৮)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->হজ্জ বাব->মুহরিম ব্যক্তির জন্য শিকারকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হাঃ-১৮৫২

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্‌র (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর সঙ্গী ছিলেন। মক্কার কোনো রাস্তা অতিক্রমের সময় তিনি তার কিছু মুহরিম সাথীসহ পেছনে রয়ে যান। তিনি ছিলেন ইহরাম মুক্ত। অতঃপর তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে নিজের ঘোড়ার পিঠে চড়লেন। তাঁর চাবুকটি নীচে পড়ে গেলে তিনি তার সঙ্গীদের তা তুলে দেয়ার অনুরোধ জানালে তারা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার তীরটি তুলে দেয়ার অনুরোধ জানালে তাও দিতে অস্বীকার করেন। অবশেষে তিনি নিজেই তা তুলে নিলেন এবং গাধাটিকে আক্রমণ করে হত্যা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু সাহাবী তার গোশত খেলেন, আর কিছু সাহাবী খেতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর যখন তারা রাসূলুল্লাহ্‌র (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে মিলিত হলেন, তখন তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এটা তো খাদ্য, যা মহান আল্লাহ তোমাদেরকে খাইয়েছেন। [১৮৫২]


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->হজ্জ বাব->ইহরামধারী ব্যক্তির শিকারের গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে হাঃ-৮৪৭

আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে (সফরে) ছিলেন। তিনি এক পর্যায়ে তার কিছু সঙ্গীসহ মক্কার কোন এক পথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পিছনে পড়ে গেলেন। তার সঙ্গীরা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে মুহরিম ছিলেন না। তিনি একটি বন্য গাধা দেখলেন। তিনি সেই মুহূর্তে তার ঘোড়ায় উঠে বসলেন এবং তার চাবুকটি সঙ্গীদেরকে দিতে বললেন। কিন্তু তা দিতে তারা অস্বীকার করলেন। তিনি তার বর্শাটি চাইলে তাও দিতে তারা অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর তিনি নিজেই সেটাকে উঠিয়ে নেন এবং গাধাটিকে আক্রমণ করে মেরে ফেলেন। কিছু সাহাবী তার গোশত খেলেন এবং সেটা খেতে কেউ কেউ অস্বীকার করলেন। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তারা মিলিত হয়ে তাকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বললেনঃ এটি এমন খাবার যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে খাইয়েছেন। সহীহ, ইরওয়া (১০২৮), সহীহ আবূ দাউদ (১৬২৩), বুখারী, মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->হজ্জের বিধি-বিধানসমূহ বাব->মুহরিম ব্যক্তির জন্য যে শিকার আহার করা বৈধ হাঃ-২৮১৬

আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

(একদা) তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে ছিলেন। যখন তিনি মক্কায় কোন এক রাস্তায় পৌছলেন, তখন তিনি তাঁর কয়েকজন মুহরিম সঙ্গীসহ পেছনে রয়ে গেলেন, তিনি নিজে মুহরীম ছিলেন না। এমন সময় তিনি একটি বন্য গাধা (নীল গরু) দেখতে পেলেন। তিনি একটি ঘোড়ায় আরোহণ করলেন। তারপর তিনি তাঁর সাথীদেরকে বললেন তাঁর চাবুকটি তার হাতে তুলে দিতে। কিন্তু তারা অস্বীকার করলেন। পরে তিনি তাঁদেরকে তীরটি তুলে দিতে বললেন। এরপর তিনি নিজে তা (তীর) তুলে নিয়ে গাধার উপর আক্রমণ করলেন এবং তা শিকার করলেন। তা থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন সাহবী খেলেন। আর কেউ কেউ খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে পেয়ে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেনঃ এ তো বিশেষ খাদ্য, যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে খাওয়ালেন।