‘আদী ইব্নু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর সম্পর্কে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ তুমি যখন তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার ধরতে ছেড়ে দাও, তখন সে হত্যা করলে তা তুমি খেতে পার। আর সে তার অংশবিশেষ খেয়ে ফেললে তুমি তা খাবে না। কারণ সে তা নিজের জন্যই শিকার করেছে। আমি বললামঃ কখনো কখনো আমি আমার কুকুর (শিকারে) পাঠিয়ে দেই, অতঃপর তার সঙ্গে অন্য এক কুকুরও দেখতে পাই (এমতাবস্থায় শিকারকৃত প্রাণীর কী হুকুম)? তিনি বললেনঃ তবে খেও না। কারণ তুমি বিসমিল্লাহ্ বলেছ কেবল তোমার কুকুরের বেলায়, অন্য কুকুরের বেলায় বিসমিল্লাহ্ বলনি। (২০৫৪, ৫৪৭৫, ৫৪৭৬, ৫৪৭৭, ৫৪৮৩ হতে ৫৪৮৭,৭৩৯৭ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫)
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পার্শ্বফলাবিহীন তীর (দ্বারা শিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, যদি তীরের ধারালো পার্শ্ব আঘাত করে, তবে সে (শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত) খাবে, আর যদি এর ধারহীন পার্শ্বের আঘাতে মারা যায়, তবে তা খাবে না। কেননা তা প্রহারের মৃত যবহকৃত নয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি বিসমিল্লাহ পড়ে আমার (শিকারী) কুকুর ছেড়ে দিয়ে থাকি। পরে তার সাথে শিকারের কাছে (অনেক সময়) অন্য কুকুর দেখতে পাই যার উপর আমি বিসমিল্লাহ পড়িনি এবং আমি জানি না, উভয়ের মধ্যে কে শিকার ধরেছে। তিনি বললেন, তুমি তা খাবে না। তুমি তো তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্যটির উপর পড়নি।
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহ্র রসূল! আমি ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে আমার কুকুরকে পাঠিয়ে থাকি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি যদি বিসমিল্লাহ পড়ে তোমার কুকুরটিকে পাঠিয়ে থাক, এরপর সে শিকার ধরে মেরে ফেলে এবং কিছুটা খেয়ে নেয়, তা হলে তুমি খেয়ো না। কেননা, সে তো নিজের জন্যই তা ধরেছে। আমি বললামঃ আমি আমার কুকুরটিকে পাঠালাম, পরে তার সঙ্গে অন্য কুকুরও দেখতে পেলাম। আমি জানি না উভয়ের কে শিকার ধরেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি তা খেয়ো না। কেননা, তুমি তো তোমার কুকুরের উপরই ‘বিসমিল্লাহ’ পড়েছ, অন্যটির উপর পড়নি। আমি তাঁকে তীরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তুমি তীরের ধার দিয়ে আঘাত করে থাক, তাহলে খাও। আর যদি পার্শ্বের দ্বারা আঘাত কর আর তাতে তা মারা যায়, তাহলে সেটি ওয়াকীয- থেতলে মারার মধ্যে গণ্য হবে। কাজেই তা খেয়ো না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৭৭)
'আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূ্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- কে মি'রায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ এর ধারালো অংশ দ্বারা শিকার মারা গেলে তুমি তা খেতে পারবে, আর যদি এর পাশের অংশের আঘাতে শিকার মারা যায় তবে তা (কুরআনে বর্ণিত) 'ওয়াকীয' বা পিটিয়ে নিহত করার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই তুমি তা খাবে না। আমি রসূ্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- কে কুকুর সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার কুকুর ছেড়ে থাকলে তুমি তা খেতে পারো। যদি কুকুর শিকারের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে তবে তুমি তা খাবে না। কেননা সেটা সে তার নিজের জন্যই ধরেছে। আমি বললাম, যদি আমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর দেখি এবং কে শিকার ধরেছে তা ঠিক করতে না পারি? তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তা খাবে না। কেননা তুমি শুধু তোমার কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহ্র নাম নিয়েছ, অন্যটির উপর নাওনি। (ই.ফা. ৪৮২১, ই.সে. ৪৮২২)
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (পালাকহীন ও মধ্যবর্তী অংশ মোটা) তীর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ শিকার এর ধারালো দিকের আঘাতে মারা গেলে খাবে। আর প্রস্থের দিকের আঘাতে মারা গেলে খাবে না। কেননা তা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত প্রাণীর মতই (হারাম)। আমি বলি, আমি শিকার ধরার জন্য আমার কুকুর প্রেরণ করি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর নাম নিয়ে ছেড়ে থাকলে খাও, অন্যথায় খেও না। তবে কুকুর শিকার থেকে খেয়ে থাকলে তা খেও না। কেননা সে তা নিজের জন্য ধরেছে। ‘আদী (রাঃ) বললেন, আমার শিকারের জন্য কুকুর প্রেরণ করি এবং এর সাথে অন্য কুকুরও দেখি। তিনি বললেনঃ তা খাবে না। কারণ তুমি তো কেবল তোমার কুকুরের উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেছো।
আদী ইব্ন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট মি‘রায বা ফলাবিহীন তীর১ দ্বারা শিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যদি ঐ শিকারের উপর তার ধারাল অংশ লাগে, তবে তা খাবে। আর যদি কাঠটি আড়াআড়িভাবে আঘাত লাগে, তবে তা ওয়াকীয।২ এরপর আমি তাঁকে কুকুরের শিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ যখন তুমি তোমার কুকুর ছেড়ে দেবে, আর তা শিকার ধরে এনে নিজে না খাবে, তবে তুমি তা খেতে পার। কেননা তার ধরে আনাই তার যবেহ করা। আর যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর থাকে এবং তোমার সন্দেহ হয় যে, হয়তো অন্য কুকুরও শিকার করতে পারে, তখন তা খাবে না। কেননা তুমি তো তোমার কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্য কুকুর ছাড়ার সময় তা পড়নি।