আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
. নবী সহধর্মিণী 'আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার মাধ্যমে তিনটি বিধান জানা গেছে। এক. তাকে আযাদ করা হলো, এরপর তাকে তার স্বামীর সঙ্গে থাকা বা থাকার ইখ্তিয়ার দেয়া হলো। দুই. রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আযাদকারী আযাদকৃত গোলামের পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হবে। তিন. রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করলেন, দেখতে পেলেন হাঁড়িতে গোশ্ত ফুটছে। তাঁর কাছে রুটি ও ঘরের অন্য তরকারী নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেনঃ গোশ্তের পাত্র দেখছি না যে যাতে গোশ্ত ছিল? লোকেরা জবাব দিল, হাঁ, কিন্তু সে গোশ্ত বারীরাহ্কে সদাকাহ হিসাবে দেয়া হয়েছে। আর আপনি তো সদাকাহ খান না? তিনি বললেনঃ তার জন্য সদাকাহ, আর আমাদের জন্য এটা উপঢৌকন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৬)
‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ বারীরার ঘটনায় তিনটি বিধান জারী হয়েছেঃ ১. যখন সে মুক্তি লাভ করেছিল তখন স্বামীর (বৈবাহিক সূত্র বহাল রাখা, না রাখার ) ব্যাপারে তাকে ইখ্তিয়ার প্রদান করা হয়েছিল। ২. তাকে গোশ্ত সদাকাহ্ করা হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের (‘আয়িশাহ্র) কাছে এলেন। তখন গোশতের হাঁড়ি চুলার উপর টগবগ করছিল। তিনি খাবার চাইলেন। তখন তাঁর সামনে রুটি এবং ঘর থেকে তরকারী পরিবেশন করা হল। তিনি বললেনঃ আমি কি লক্ষ্য করিনি যে, চুলার উপর হাঁড়ি আছে যার মধ্যে গোশ্ত রয়েছে। তারা বললেনঃ জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহ্র রসূল! ওটা তো বারীরাকে সদাকাহ্ দেয়া গোশ্ত। আমরা তা থেকে আপনাকে খাওয়ানো পছন্দ করিনা। তখন তিনি বললেনঃ এতো তার জন্য সদাকাহ্ এবং তার পক্ষ থেকে তা আমাদের জন্য হাদিয়া। ৩. নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার (বারীরার) মুক্তির ব্যাপারে বললেনঃ আসলে ‘ওয়ালা’ সে-ই পাবে যে আযাদ করে। (ই.ফা. ৩৬৪৪, ই.সে. ৩৬৪৪)
নবী (সঃ) এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ বারীরা (রাঃ)-এর মধ্যে তিনটি সুন্নত (শরীআতী বিধান) ছিল। একটি এই যে, তাকে আযাদ করা হলে তার স্বামী সম্বন্ধে (বিবাহ বহাল রাখার ব্যাপারে) তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়, ২. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ যে আযাদ করবে ‘ওয়ালা’ (মীরাছ) সেই পাবে। ৩. একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ)(তাঁর ঘরে)প্রবেশ করে দেখলেন, ডেগে গোশত রান্না হচ্ছিল তখন তাঁর সামনে রুটি এবং ঘরের তরকারী উপস্থিত করা হলে, তিনি বলেনঃ আমি কি ডেগে গোশত দেখিনি? তখন তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ঐ গোশত বারীরা (রাঃ)-কে সাদকা দেওয়া হয়েছে,আর আপনি তো সাদকা খান না। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ তা তাঁর জন্য তো সাদকা, কিন্তু তা আমাদের জন্য হাদিয়া।