সহিহ বুখারী অঃ->সালাতের ওয়াক্তসমূহ বাব->প্রচন্ড গরমের সময় যুহরের সালাত ঠাণ্ডায় আদায় করা। হাঃ-৫৩৫

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুআযযিন যুহরের আযান দিলে তিনি বললেনঃ ঠাণ্ডা হতে দাও, ঠাণ্ডা হতে দাও। অথবা তিনি বললেন, অপেক্ষা কর, অপেক্ষা কর। তিনি আরও বলেন, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের ফলেই সৃষ্টি হয়। কাজেই গরম যখন বেড়ে যায় তখন গরম কমলেই সালাত আদায় করবে। এমনকি (বিলম্ব করতে বেলা এতটুকু গড়িয়ে গিয়েছিল যে) আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম।


সহিহ বুখারী অঃ->আযান বাব->মুসাফিরদের জামা’আতের জন্য আযান ও ইক্বামাত দেয়া । হাঃ-৬২৯

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সাথে ছিলাম। মুয়াজ্জিন আযান দিতে চাইলে তিনি বললেনঃ ঠাণ্ডা হতে দাও। কিছুক্ষণ পর মুয়াজ্জিন পুনরায় আযান দিতে চাইলে তিনি বললেন, ঠাণ্ডা হতে দাও। অতঃপর সে আবার আযান দিতে চাইলে তিনি আবার বললেন, ঠাণ্ডা হতে দাও। এভাবে বিলম্ব করতে করতে টিলাগুলোর ছায়া তার সমান হয়ে গেলো। পরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ উত্তাপের প্রখরতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ বিশেষ। (৫৩৫) (আ.প্র. ৫৯৩, ই.ফা. ৬০১)


সহিহ বুখারী অঃ->সৃষ্টির সূচনা বাব->জাহান্নামের বিবরণ আর তা হতে সৃষ্ট বস্তু। হাঃ-৩২৫৮

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এক সফরে ছিলেন, তখন তিনি বলেন, ‘ঠাণ্ডা হতে দাও।’ আবার বললেন, ‘টিলাগুলোর ছায়া নীচে নেমে আসা পর্যন্ত ঠাণ্ডা হতে দাও।’ আবার বললেন, ‘সালাত ঠাণ্ডা হলে পরে আদায় করবে। কেননা, গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়।’


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->জামা’আতে রওনাকারীর জন্য পথিমধ্যে তীব্র গ্রীস্মের সময় তাপ ঠান্ডা হয়ে আসলে যুহর আদায় করা মুস্তাহাব হাঃ-১২৮৭

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর মুয়াযযিন যুহরের সলাতের আযান দিলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছেনঃ আরে একটু ঠান্ডা হতে দাও না। অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ কিছু সময় অপেক্ষা কর। তিনি আরো বললেন যে, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে হয়ে থাকে। সুতরাং গরম প্রচন্ডতা ধারণ করলে সলাত দেরী করে একটু ঠান্ডা হলে আদায় কর। আবূ যার (হাদীস বর্ণনাকারীর সহাবী) বলেনঃ (প্রচন্ড গরমের সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় সলাত আদায় করতেন যে সময়) আমরা টিলার ছায়া দেখতে পেতাম। (ই.ফা.১২৭৪, ই.সে.১২৮৭)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->যুহরের সলাতের ওয়াক্ত হাঃ-৪০১

যায়িদ ইবনু ওয়াহহাব থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ যার (রাঃ) -কে বলতে শুনেছি, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে ছিলাম। মুয়াজ্জিন যুহরের আযানের জন্য প্রস্তুত হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, থাম, ঠাণ্ডা হোক। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু'বার অথবা তিনবার এরূপ বললেন। এমনকি আমরা টিলা সমূহের ছায়া দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি বললেন, গ্রীষ্মের খরতাপ জাহান্নামের অংশ বিশেষ। কাজেই প্রচণ্ড গরমে ঠাণ্ডা করে (বিলম্বে) সলাত আদায় করবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->সালাত (নামায) বাব->অধিক গরমের সময় যুহরের নামায দেরিতে আদায় করা হাঃ-১৫৮

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক সফরে ছিলেন। বিলাল (রাঃ)-ও তাঁর সাথে ছিলেন। তিনি ইক্বামাত দিতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “যুহরকে শীতল কর”। আবূ যার (রাঃ) বলেন, বিলাল (রাঃ) আবার ইক্বামাত দিতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যুহরের নামায আরও শীতল করে আদায় কর। আবূ যার (রাঃ) বলেন, এমনকি আমরা যখন বালির স্তূপের ছায়া দেখতে পেলাম তখন তিনি ইক্বামাত দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায আদায় করালেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাস। তোমরা শীতল করে (রোদের তাপ কমলে) নামায আদায় কর”। সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাঊদ-(৪২৯), বুখারী ও মুসলিম।