সহিহ বুখারী অঃ->জানাযা বাব->স্বামী ছাড়া অন্যের জন্য স্ত্রীলোকের শোক প্রকাশ। হাঃ-১২৮০

যায়নাব বিন্‌ত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন সিরিয়া হতে আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যুর খবর পৌছল, তার তৃতীয় দিবসে উম্মু হাবীবা (রাঃ) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করলেন এবং তাঁর উভয় গন্ড ও বাহুতে মথিত করলেন। অতঃপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না, যদি আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, স্ত্রীলোক আল্লাহ্‌ এবং ক্বিয়ামাতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।


সহিহ বুখারী অঃ->তালাক বাব->বিধবা (যার স্বামী মারা গেছে) মহিলা চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। হাঃ-৫৩৩৫

যাইনাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যাইনাব বিন্‌ত জাহ্‌শের ভাই মৃত্যুবরণ করলে আমি তার (যায়নাবের) নিকট গেলাম। তিনিও খুশবু আনিয়ে ব্যবহার করলেন। এরপর বললেনঃ আল্লাহ্‌র কসম! খুশবু ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন আমার নেই। তবে আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন নারীর জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল হবে না তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে পারবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৫)


সহিহ বুখারী অঃ->তালাক বাব->শোক পালনকারিণীর জন্য সুরমা ব্যবহার করা। হাঃ-৫৩৩৯

উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

(বর্ণনাকারী বলেন) আমি যাইনাবকে উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বসী কোন মুসলিম নারীর জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালকন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মুত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। [১২৮০; মুসলিম ১৮/৯, হাঃ ১৪৮৭, আহমাদ ২৬৮১৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৬)


সহিহ বুখারী অঃ->তালাক বাব->শোক পালনকারিণী হালকা রং-এর সুতার কাপড় ব্যবহার করতে পারে। হাঃ-৫৩৪২

উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বসী কোন মহিলার জন্য স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল হবে না। সুরমা ও রঙিন কাপড়ও ব্যবহার করতে পারবে না। তবে সূতাগুলো একত্রে বেঁধে হালকা রং লাগিয়ে তা দিয়ে কাপড় বুনলে তা ব্যবহার করা যাবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৯)


সহিহ বুখারী অঃ->তালাক বাব->(মহান আল্লাহ্‌র বাণী): তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রীদেরকে রেখে মারা যাবে সে অবস্থায় স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন বিরত রাখবে। তারপর যখন তাদের ইদ্দৎকাল পূর্ণ হবে, তখন তোমাদের নিজেদের সম্বন্ধে বৈধভাবে যা কিছু করবে তাতে তোমাদের কোন গুনাহ নেই। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ সে বিষয়ে পরিজ্ঞাত। (সুরাহ আল-বাক্বারা ২/২৩৪) হাঃ-৫৩৪৫

উম্মু হাবীবাহ বিন্‌ত আবূ সুফ্‌ইয়ান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন তাঁর কাছে তার পিতার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, তখন তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তার উভয় হাতে লাগালেন এবং বললেনঃ সুগন্ধি ব্যবহারে কোন দরকার আমার নেই। কিন্তু যেহেতু আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন নারীর জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল হবে না। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালক করতে হবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৪১)


সহিহ মুসলিম অঃ->মুসাফিরদের সালাত ও তার কসর বাব->বর্ষণমুখর দিনে গৃহে সলাত আদায় হাঃ-১৪৯১

আইয়ূব ও 'আসিম আল-আহ্ওয়াল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১৪৭৬, ই.সে. ১৪৮৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->ত্বলাক্ব বাব->স্বামীর মৃত্যুকালীন ‘ইদ্দাতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম হাঃ-৩৬২১

হুমায়দ ইবনু নাফ়ি’ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি যায়নাব বিনত উম্মু সালামাকে বলতে শুনেছি যে, উম্মু হাবীবাহ্‌ (রাঃ)-এর একজন নিকট আত্মীয় ইনতিক়াল করেন৷ এরপর তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি চেয়ে পাঠান এবং তার দু' বাহুতে মেখে নিলেন৷ এরপর তিনি বললেন, আমি তা এজন্য করলাম যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কারো মৃত্যুতে তিনদিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়৷ তৰে স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করা যাবে৷ (ই.ফা. ৩৫৮৮, ই.সে. ৩৫৮৮)


সহিহ মুসলিম অঃ->ত্বলাক্ব বাব->স্বামীর মৃত্যুকালীন ‘ইদ্দাতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম হাঃ-৩৬২৬

যায়নাব বিনতু আবূ সালামাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন নবী (সা)-এর সহধর্মিণী হাবীবাহ্‌ (রাঃ)-এর কাছে তার পিতা আবূ সুফ্‌ইয়ানের ইনতিকালের খবর পৌঁছল তখন তৃতীয় দিনে তিত্নি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার দু’হাতে গায়ে ভাল করে তা মেখে নিলেন। আর বললেন, আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তার পক্ষে কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুর ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। কেননা সে তার স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করবে। (ই.ফা. ৩৫৯২, ই.সে. ৩৫৯২)


সহিহ মুসলিম অঃ->ত্বলাক্ব বাব->স্বামীর মৃত্যুকালীন ‘ইদ্দাতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম হাঃ-৩৬২৭

হাফসাহ্ (রাঃ) কিংবা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে পৃথকভাবে অথবা তাদের দু’জন থেকে যৌথভাবে থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসের প্রতি ঈমান রাখে কিংবা যে মহিলা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তবে তার স্বামীর মৃত্যুতে শোক পালন করবে। (ই.ফা. ৩৫৯৩, ই.সে. ৩৫৯৩)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->তালাক বাব->স্বামী ব্যতীত অপরের মৃত্যুতে কি মহিলারা রূপচর্চা বর্জন করবে? হাঃ-২০৮৫

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কোন নারীর জন্য স্বামী ব্যতীত অপর কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক রূপচর্চা বর্জন (বা শোক পালন) করা বৈধ নয়। [২০৮৫]


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->তালাক বাব->স্বামী ব্যতীত অপরের মৃত্যুতে কি মহিলারা রূপচর্চা বর্জন করবে? হাঃ-২০৮৬

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী হাফসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক রূপচর্চা বর্জন করা (বা শোক পালন করা) বৈধ নয়। [২০৮৬]


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তালাক ও লিআন বাব->যে নারীর স্বামী মারা গেছে তার ইদ্দত হাঃ-১১৯৫

তিনি (যাইনাৰ) থেকে বর্নিতঃ

(এক) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা (রাঃ)-এর পিতা আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর আমি তার নিকট গেলাম। তিনি কস্তুরি মিশ্ৰিত হলুদ বর্ণের খালূক নামক সুগন্ধি নিয়ে ডাকলেন। তিনি একটি বালিকার গায়ে তা মাখালেন, তারপর তা নিজের উভয় গালে লাগালেন। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার সুগন্ধি মাখার তেমন কোন প্রয়োজন ছিল না। আমি তা শুধুমাত্র এজন্যই মাখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা ও আখিরাত দিবসের উপর যে মহিলা ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশ করা জায়িয নয়। শুধুমাত্র স্বামীর জন্য শোক পালন হবে চার মাস দশ দিন। সহীহ্‌, ইরওয়া- (২১১৪), সহীহ্‌ আবূ দাঊদ- (১৯৯০, ১৯৯১), বুখারী, মুসলিম


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তালাক ও লিআন বাব->যে নারীর স্বামী মারা গেছে তার ইদ্দত হাঃ-১১৯৬

(দুই) যাইনাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

জাহ্‌শের মেয়ে যাইনাব (রাঃ)-এর ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমি তার নিকট গেলাম। তিনিও সুগন্ধি নিয়ে ডাকলেন এবং তা ব্যবহার করলেন। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার সুগন্ধি মাখার তেমন কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর যে মহিলা ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশ করা জায়িয নয়। শুধু স্বামীর জন্য শোক পালন হচ্ছে চার মাস দশ দিন। সহীহ্‌, প্রাগুক্ত


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর ইদ্দত হাঃ-৩৫০০

উম্মু হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্‌ এবং পরকালে বিশ্বাস করে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা তাঁর জন্য বৈধ নয়, স্বামী ব্যতীত। (কেননা স্বামীর জন্য) চার মাস দশদিন(শোক পালন করতে হবে)।


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর ইদ্দত হাঃ-৩৫০৩

উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা এবং কিয়ামতে বিশ্বাস স্থাপনকারী কোন নারীর জন্য স্বামী ব্যতীত কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশদিন শোক করবে।


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর ইদ্দত হাঃ-৩৫০৪

সাফিয়্যা বিন্‌ত আবূ উবায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেনঃ যে নারী আল্লাহ্‌ এবং কিয়ামতে বিশ্বাস করে তার জন্য কোন মৃতের উপর তিন দিনের অধিক শোক বৈধ নয়, স্বামী ব্যতীত। কেননা স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->শোক পালন হাঃ-৩৫২৬

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ্‌ ও পরকালে ঈমান রাখে, তার জন্য তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হবে না (অন্য কারো জন্য) নিজের স্বামী ব্যতীত।


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->যে আহলে কিতার মহিলার স্বামী মারা গেল, তার শোক মওকূফ হওয়া প্রসংগ হাঃ-৩৫২৭

উম্মু হাবীবা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে এই মিম্বরে বলতে শুনেছিঃ যে মহিলা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ নয়। কিন্তু সে তার স্বামীর জন্য – চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)।


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->মুসলমান নারীর স্বামীর শোকপালনে সাজসজ্জা ত্যাগ করা, (ইয়াহুদী-খিস্টানের জন্য নয়) হাঃ-৩৫৩৩

যয়নাব বিন্‌ত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা (রাঃ) –এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাঁর পিতা আবু সুফিয়ান (রাঃ) ইব্‌ন হারব ইন্‌তিকাল করেন। এ সময় উম্মু হাবীবা (রাঃ) সুগন্ধি আনান। তিনি তা বাঁদীর গায়ে লাগান, পরে নিজে তা নিজের চেহারায় মাখলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! এখন আমার সুগন্ধি লাগাবার কোন প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ্‌ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা জাইয নয়। কিন্তু সে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)। এরপর আমি যয়নাব বিন্‌ত জাহশ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, যখন তাঁর ভাই ইন্‌তিকাল করেছিল। তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তা লাগিয়ে বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! এখন আমার সুগন্ধির প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে মিম্বরে (দাঁড়িয়ে) বলতে শুনেছিঃ যে নারী আল্লাহ্‌ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা জাইয হয়। কিন্তু সে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন (শোক পালন করবে)। যয়নাব (রাঃ) বলেনঃ আমি উম্মু সালামা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমার কন্যার স্বামী মারা গেছে এবং তার চোখে ব্যথা, যদি আপনি অনুমতি দেন তবে আমি তার চোখে সুরমা লাগাতে পারি। তিনি বললেনঃ (সুরমা লাগাবে) না। এখন তো শুধু চার মাস দশদিন (শোক করতে হয়,) অথচ জাহিলী যুগে এরূপ নারী এক বছর পর গোবর ছুঁড়ে মারত। হুমায়দ ইব্‌ন নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমি যয়নাব (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ গোবর ছুঁড়ে মারার অর্থ কী? যয়নাব (রাঃ) বর্ণনা করলেন, জাহিলী যুগে যে নারীর স্বামীর মৃত্যু হতো, সে নারী একটি ঝুপড়ি ঘরে প্রবেশ করতো। আর সে নিকৃষ্ট কাপড় পরিধান করতো, এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সে কোন প্রকার সুগন্ধি লাগাতো না। এক বছর পর গাধা, বকরী অথবা কোন পাখি তার কাছে আনা হতো। পরে সে তা তার লজ্জা স্থানে মর্দন করতো, ফলে ঐ প্রাণী মারা যেত। তারপর সে বের হত। এরপর তাকে উটের গোবর দেয়া হতো এবং সে তা ছুঁড়ে মারত। পরে সুগন্ধি মাখতো, অথবা মনে যা চাইতো, তা করতো।


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->শোক পালনকারিণীর খিযাব ব্যবহার হাঃ-৩৫৩৬

উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ যে নারী আল্লাহ্‌ ও কিয়ামতের দিনে ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃতের উদ্দেশ্যে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হবে না, স্বামী ব্যতীত। আর সে সুরমা ব্যবহার করবে না, খিযাব লাগাবে না এবং রঙ করা কাপড় পরিধান করবে না।