সহিহ বুখারী অঃ->তালাক বাব->ইমামের উক্তিঃ হে আল্লাহ! সত্য প্রকাশ করে দিন। হাঃ-৫৩১৬

ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, লি'আনকারী দম্পতিদ্বয় সম্পর্কে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সম্মুখে আলোচনা হচ্ছিল। ইতোমধ্যে আসিম ইবনু আদী (রাঃ) এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে গেলেন। এরপর তার গোত্রের এক লোক তার কাছে এসে জানাল যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক লোককে পেয়েছে। আসিম বললেন, অযথা জিজ্ঞাসাবাদের দরুনই আমি এ বিপদে পড়লাম। এরপর তিনি তাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে গেলেন এবং যে লোকটিকে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে পেয়েছে, তার সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে জানালেন। অভিযোগকারী ছিলেন হলদে শীর্ণকায় ও সোজা চুল বিশিষ্ট। আর তার স্ত্রীর কাছে পাওয়া লোকটি ছিল মোটা ধরনের স্থুলকায় ও খুব কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সত্য প্রকাশ করে দিন। এরপর মহিলা ঐ লোকটির আকৃতির একটি সন্তান জন্ম দেয়, যাকে তার স্বামী তার সঙ্গে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উভয়কেই লি'আন করালেন। এক ব্যক্তি ইব্‌নু 'আব্বাস (রাঃ)- কে সেই মজলিসেই জিজ্ঞেস করল, ঐ মহিলা সম্বন্ধেই কি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেনঃ আমি যদি বিনা প্রমাণে কাউকে রজম করতাম তাহলে একে রজম করতাম? ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ না, সে ছিল অন্য এক মহিলা সে মুসলিম সমাজে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকত।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২০)


সহিহ বুখারী অঃ->শরীয়তের শাস্তি বাব->যে ব্যক্তি প্রমাণ ব্যতীত অশ্লীলতা ও অন্যের কলংকিত হওয়াকে প্রকাশ করে এবং অপবাদ রটায় হাঃ-৬৮৫৬

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ইউসুফ (র.)...... ইব্‌ন আব্বাস (রা.) থেকে বর্নিতঃ

নবী রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর নিকটে লি’আনকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হল। তখন আসিম ইব্‌নআদী (রাঃ) তার সম্বন্ধে কিছু কটুক্তি করলেন। তারপর তিনি ফিরে গেলেন। তখন তার স্বগোত্রের এক ব্যক্তি তার কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তার স্ত্রীর কাছে অন্য এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। আসিম (রাঃ) বলেন, আমি আমার এ উক্তির দরুনই এ পরীক্ষায় পড়েছি। এরপর তিনি তাকে নবী রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে নিয়ে গেলেন। আর সে তাঁকে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জানাল যার সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছে। এ ব্যক্তিটি গৌর বর্ণ, হালকা-পাতলা, সোজা চুল বিশিষ্ট ছিল। আর যে ব্যক্তি সম্বন্ধে দাবি করেছে যে, সে তাকে তার স্ত্রীর কাছে পেয়েছে সে ছিল মেটে বর্ণের, মোটা গোড়ালী, স্থুল গোশ্‌তবিশিষ্ট। তখন নবী রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আল্লাহ্‌! স্পষ্ট করে দিন। ফলে সে মহিলাটি ঐ ব্যক্তি সদৃশ সন্তান জন্ম দিল যার কথা তার স্বামী উল্লেখ করেছিল যে, তাকে তার স্ত্রীর সাথে পেয়েছে। তখন নবী রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উভয়ের মধ্যে লি’আন কার্যকর করলেন। তখন এক ব্যক্তি এ মজলিসেই ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ)- কে বলল, এটা কি সে মহিলা যার সম্পর্কে নবী রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যদি আমি কাউকে বিনা প্রমাণে রজম করতাম তাহলে একে রজম করতাম। তিনি বলেন, না। ওটা ঐ মহিলা যে ইসলামে থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে অপকর্ম করত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৯২)


সহিহ মুসলিম অঃ->লি’আন বাব->লি'আন সম্পর্কে হাঃ-৩৬৫০

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট লি’আনের বিষয়টি আলোচিত হল। তখন ‘আসিম ইবনু ‘আদী (রাঃ) ঐ বিষয়ে কিছু কথা বলে ফিরে গেলেন। তখন তার গোত্রের একজন লোক তার কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক (অপরিচিত) লোককে দেখতে পেয়েছে। তখন ‘আসিম (রাঃ) বললেন, আমি আমার উক্তির (বক্তব্যের) কারণে এ বিপদে পড়লাম। তিনি তাঁকে নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলেন। এরপর সে তাঁকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ) সে ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করল যাকে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পেয়েছিল। এ লোকটি (বর্ণনাদাতা) ছিল হলদে বর্ণ বিশিষ্ট হালকা-পাতলা ও সোজা চুলবিশিষ্ট। আর সে যাকে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পেয়েছিল সে ছিল সুঠাম দেহী, মোটা নলা ও বাদামী রং বিশিষ্ট। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি বিষয়টি ফায়সালা করে দাও। সে মহিলা এমন একটি সন্তান প্রসব করল, যে ছিল ঐ লোকটির মত যাকে স্বামী তার সঙ্গে দেখতে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের দু’জনের মধ্যে লি’আন করালেন। তখন এক ব্যক্তি সে মজলিসেই ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললঃ এ কি সে মহিলা যার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, “যদি আমি বিনা দলীলে কাউকে ‘রজম’ (পাথর নিক্ষেপ) করতাম তবে একেই রজম করতাম।” তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ না-সে ছিল অপর এক মহিলা যার অপকর্ম মুসলিমদের মাঝে প্রকাশিত ছিল। (ই.ফা. ৩৬১৬,ই.সে. ৩৬১৬)


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->ইমামের 'হে আল্লাহ স্পষ্ট করে দিন' বলা হাঃ-৩৪৭০

ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে পরস্পর লি'আন করার ব্যাপারে আলোচনা উত্থাপিত হল। তখন আসিম ইবন আদী (রাঃ) সে সম্পর্কে কিছু বললেন এবং পরে প্রস্থান করলেন। এরপর তার নিকট তার গোত্রের এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ উত্থাপন করল যে, সে তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। আসিম ইবন আদী (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন: আমার বলার জন্যই আমার উপর এই মুসীবত এসেছে। এরপর আসিম ইবন আদী (রাঃ) তাকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর খেদমতে নিয়ে গেলেন এবং তার স্ত্রীকে যে অবস্থায় পেয়েছে তা তাঁকে [রাসুলুল্লাহ (সাঃ)] অবহিত করেন। আর ঐ ব্যক্তি ছিল গৌর বর্ণের, হালকা পাতলা গড়ন এবং সোজা চুল বিশিষ্ট। আর যে ব্যক্তির সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিল, তার গায়ের রং ছিল বাদামী, পায়ের গোছা এবং শরীর ছিল মাংসল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: (আরবি) (অর্থাৎ হে আল্লাহ ! প্রকাশ করে দিন)। বর্ণনাকারী বলেন: পরে সে (স্ত্রী) সে পুরুষের সাদৃশ্যযুক্ত সন্তান প্রসব করল যার সম্পর্কে তার স্বামী বলেছিল যে, সে তাকে সে তাকে তার (স্ত্রীর) কাছে পেয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের উভয়কে লি'আন করার আদেশ দেন। (মজলিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করলেন), সে মজলিসে এক ব্যক্তি বললেন: এই স্ত্রী লোকটি কি সেই স্ত্রীলোক, যার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছিলেন: যদি আমি কাউকে সাক্ষ্য প্রমাণ ব্যতিত রজম করতাম, তা হলে এ কে করতাম? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন: না, সে মেয়েলোকটি ইসলামে এসে প্রকাশ্যে অপকর্ম (ব্যভিচার) করত, (কিন্তু প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি ছিল না)।


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->ইমামের 'হে আল্লাহ স্পষ্ট করে দিন' বলা হাঃ-৩৪৭১

আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন রাসুলুল্লাহা (সাঃ) এর খেদমতে লি'আনের অলোচনা হলে আসিম ইবন আদী (রাঃ) সে সম্পর্কে কিছু বললেন এবং প্রস্থান করলেন। তার গোত্রের এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে সে বলল: সে তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। তিনি তাকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলেন। সে যে অবস্থায় তার স্ত্রীকে পেয়েছিল, তা তাঁকে অবহিত করল। আর সে ব্যক্তি ছিল গৌর বর্ণের, হাল্কা-পাতলা গড়নের এবং সোজা চুল বিশিষ্ট। আর সে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এবং যাকে তার স্ত্রীর কাছে পেয়েছি, তার গায়ের (রং) ছিল বাদামী এবং পায়ের গোছা ছিল মাংসল, আর তার ছিল অতি কোঁকড়ান (ছোট চুল) চুল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: আল্লাহ! আপনি প্রকাশ করে দিন। রাবী বলেন: (স্ত্রীলোকটি) ঐ লোকের ন্যায় সন্তান প্রসব করলো, যার কথা তার স্বামী বলেছিল যে, তাকে তার (স্ত্রীর) কাছে পেয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের উভয়ের মধ্যে লি'আন করান। (ইবন আব্বাস (রাঃ) যে মজলিসে এই হাদিস বর্ণনা করলেন), সে মজলিসের এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন: এই কি সেই মেয়েলোক যার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছিলেন, যদি আমি কাউকে প্রমাণ ব্যতিত রজম করতাম, তা হলে এই মেয়েলোকটিকে রজম করতাম? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন: না, সে হচ্ছে এমন একটি মেয়েলোক যে ইসলামে এসে প্রকাশ্যে অপকর্ম করত। (কিন্তু প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি ছিল না)।