সহিহ বুখারী অঃ->শপথ ও মানত বাব->যখন কেউ কোন খাদ্যকে হারাম করে নেয়। [৭৭] হাঃ-৬৬৯১

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ)-এর কাছে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর কাছে মধু পান করেছিলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি এবং হাফসাহ (রাঃ) পরস্পরে পরামর্শ করলাম যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দু’জনের মধ্যে যার কাছেই আগে আসবেন আমরা তাঁকে বলব, আপনার মুখ থেকে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? এরপর তিনি কোন একজনের ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি তাঁকে ঐ কথাটা বললেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, না, আমি তো যাইনাব বিন্ত জাহাশের কাছে মধু পান করেছি। এরপরে আর কক্ষনো এটা করব না। তখনই এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكَ إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللهِ ‘‘তোমরা উভয়ে যদি আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর’’ এখানে সম্বোধন ‘আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ)-এর প্রতি। আর وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ নাবী যখন তাঁর কোন স্ত্রীর কাছে কথাকে গোপন করেন- এ আয়াতটি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً বরং আমি মধু পান করেছি-এর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহ.) হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কসম করেছি কাজটি আমি আর কক্ষনো করব না।’’ তুমি এ বিষয়টি কারো কাছে প্রকাশ করো না।[১] [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৩৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->ত্বলাক্ব বাব->ত্বলাক্বের নিয়্যাত না করে স্ত্রীকে ‘হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব হবে হাঃ-৩৫৭০

‘উবায়দ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে এ মর্মে হাদীসের খবর প্রদান করতে শুনেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আসর পরবর্তী সময় হুজরা সমূহে আবর্তন কালে) যায়নাব বিনত জাহশ (রাঃ) -এর গৃহে অবস্হান করে সেখানে মধূ পান করেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি ও হাফ্সাহ্ মিলে এরূপ যুক্তি-পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দু’জনের মাঝে যার কাছেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (প্রথমে) আগমন করবেন সে বলবে- “আমি আপনার মুখে ‘মাগাফীর’-এর দুর্গন্ধ পাচ্ছি।[৬০] আপনি মাগাফীর খেয়েছেন।” পরে তিনি এদের কোন একজনের কাছে গেলে সে তাঁকে অনুরূপ বলল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,... বরং আমি তো যায়নাব বিনত জাহ্শ-এর ঘরে মধু পান করেছি এবং পুনরায় কখনো পান করব না। তখন নাযিল হল- (অর্থ) “হে নাবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্হা করেছেন। আল্লাহ তোমাদের সহায়; তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। স্মরণ কর-নাবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নাবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয় কিছু ব্যক্ত করলেন; কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে তা অবহিত করল? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত। যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে- আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”- (সূরাহ্ আত্ তাহ্রীমঃ ৬৬ : ১-৪)। এতে “যদি তোমরা উভয়ে তাওবাহ্ কর (অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর) দ্বারা ‘আয়িশাহ্ ও হাফ্সাহ্ (রাঃ) উদ্দেশ্য। এবং “যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের একজনকে তিনি গোপনে কিছু বলেছিলেন”- দ্বারা ‘বরং আমি মধুপান করেছি এবং আর কখনো পান করবো না উদ্দেশ্য”। (ই.ফা. ৩৫৪২, ই.সে. ৩৫৪১)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে বাব->মধুর শরবত হাঃ-৩৭১৪

‘উবাইদ ইবনু ‘উমাইর (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বলেতে শুনেছিঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাইনাব বিনতু জাহ্‌শ (রাঃ)-এর ঘরে আসতেন এবং সেখানে মধু খেতেন। একদিন আমি ও হাফসাহ পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দু’জনের যার ঘরেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করবেন। সে যেন বলে, আমি আপনার মুখ হতে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি তাদের কোন একজনের ঘরে ঢুকলে তিনি তাঁকে ঐ কথা বললেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ বরং আমি যাইনাব বিনতু জাহ্‌শের ঘরে মধু পান করেছি। ঠিক আছে আমি আজ হতে কখনো তা পান করবো না। অতঃপর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে নাবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা কেন হারাম করছেন? আপনি কি স্ত্রীদের সন্তুষ্টি লাভ করতে চান?... তোমরা উভয়ে যদি আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর” (সূরাহ তাহরীমঃ ১-৫), এ আয়াতগুলোতে ‘আয়িশাহ্‌ ও হাফসাহ্‌ (রাঃ)-কে তাওবাহ করতে বলা হয়েছে। “যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটা কথা স্বীয় এক স্ত্রীর নিকট সংগোপনে বলেছিলেন” এ আয়াতটি ‘বরং আমি মধু পান করেছি’ কথার ব্যাখ্যায় অবতীর্ণ।


সুনান নাসাঈ অঃ->তালাক বাব->এই আয়াতের ভিন্ন ব্যাখ্যা হাঃ-৩৪২১

আতা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি উবায়দ ইব্‌ন উমায়র (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যয়নাব (রাঃ)- এর নিকট অবস্থান করতেন এবং তাঁর নিকট মধু পান করতেন। আমি এবং হাফসা (রাঃ) পরামর্শ করলাম, আমাদের মধ্যে যার নিকটই রাসূলুল্লাহ্‌ আগমন করেন, সে যেন বলে : আমি আপনার থেকে মাগাফির গন্ধ পাচ্ছি। এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট আগমন করলে, তিনি তাকে তা বললেন : তখন তিনি বললেন : বরং আমি তো যয়নাবের নিকট মধু পান করেছি। তিনি আরও বললেন : আমি আর পুনরায় তা পান করব না। তখন এই আয়াত নাযিল হয় : (আরবি) আর আয়েশা এবং হাফ্‌সা (রাঃ) সম্বন্ধে নাযিল হয় : (যদি তোমরা আল্লাহ্‌র কাছে তওবা কর)….. আর নবী –এর উক্তি : বরং আমি মধু পান করেছি এর জন্য (অর্থ : যখন নবী তাঁর কোন স্ত্রীর কাছে গোপনে বললেন……) আয়াত নাযিল হয়। এর সমস্তই আতা (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে।


সুনান নাসাঈ অঃ->কসম ও মান্নাত বাব->আল্লাহ্‌ যা হালাল করেছেন, তা হারাম করা হাঃ-৩৭৯৫

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যয়নব বিন্‌ত জাহ্‌শের নিকট কিছুক্ষন থাকতেন এবং সেখানে তিনি মধু পান করতেন। আমি এবং হাফ্‌সা পরামর্শ করলাম যে, আমাদের মধ্যে যার নিকটই রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাশ্‌রীফ আনেন, সে যেন বলেঃ আপনার মুখ হতে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। আপনি কি মাগাফির খেয়েছেন? এরপর তিনি আমাদের একজনের গৃহে আসলে তিনি তাঁকে তা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, বরং আমি যয়নব বিন্‌তে জাহশের নিকট মধু পান করছি। আমি আর কখনো তা পান করবো না; তখন অবতীর্ণ হয়ঃ ‘’[আরবী]’’ অর্থ: হে নবী ! আল্লাহ্‌ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? (৬৬:১)..’’[আরবী]’’। অর্থঃ যদি তোমরা উভয়ে (আয়েশা ও হাফসা) অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে এসো। (৬৬:২)..’’[আরবী]’’….অর্থঃ স্মরণ কর, নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন।……..(৬৬:৩)….এটা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্তিঃ “বরং আমি মধু পান করেছি’’----সে সম্পর্কিত।


সুনান নাসাঈ অঃ->স্ত্রীর সাথে ব্যবহার বাব->আত্মাভিমান হাঃ-৩৯৫৮

উবায়দ্‌ ইব্‌ন উমাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে শুনেছি। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুক্ষণ যয়নব বিন্‌ত জাহাশ (রাঃ) -এর কাছে অবস্থান করতেন এবং তাঁর কাছে মধু পান করতেন, আমি এবং হাফসা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের যার কাছেই আসবেন, সেই বলবেঃ আপনি ‘মাগাফীর’ পান করেছেন। (মাগাফীর এক প্রকার দুর্গন্ধযুক্ত আঠাকে বলা হয়)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের একজনের কাছে প্রবেশ করলে যা বলার সিদ্ধান্ত ছিল তা বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি যয়নব বিন্‌ত জাহাশ –এর কাছে মধুই তো পান করলাম এবং বললেন, আর কোন দিন তা করব না। অর্থাৎ মধু পান করব না। এ কারণে নাযিল হলঃ (আরবি) “হে নবী আল্লাহ্‌ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা আপনি নিজের জন্য হারাম করেছেন কেন?” (আরবি) “তোমরা উভয়ে যদি তওবা করো” এটা হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) –এর উদ্দেশ্যে নাযিল করেছেনঃ (আরবি) “যখন নবী তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপন করলেন” এটা তাঁর উক্তি ‘আমি মধু পান করেছি এবং আর করব না।’ -এর পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে।