সহিহ বুখারী অঃ->ওজু বাব->মুসল্লীর পিঠের উপর ময়লা বা মৃত জন্তু ফেললে তার সালাত বাতিল হবে না। হাঃ-২৪০

'আবদুল্লাহ ইব্‌নু মাস'ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদারত অবস্থায় ছিলেন। অন্য সূত্রে আহমাদ ইব্‌নু 'উসমান (রহঃ)..... 'আবদুল্লাহ ইব্‌নু মাস'ঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা বায়তুল্লার (ক্বাবার) পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহেল ও তার সাথীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল 'তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়িভুঁড়ি এনে মুহাম্মাদ যখন সাজ্‌দা করেন তখন তার পিঠের উপর চাপিয়ে দিতে পারে'? তখন গোত্রের বড় পাষণ্ড ('উকবাহ) তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তাঁর প্রতি লক্ষ্য রাখল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সাজদায় গেলেন, তখন সে তাঁর পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইব্‌নু মাস'ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি (এ দৃশ্য) দেখছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি বাধা দেবার শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটোপুটি খেতে লাগল। আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন সাজদায় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে ফাতিমা (রাঃ) এসে সেটি তাঁর পিঠের উপর হতে ফেলে দিলেন। অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথা উঠিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বললেন। তিনি যখন তাদের বদ দু'আ করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভয় জাগিয়ে তুলল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জানত যে, এ শহরে দু'আ কবূল হয়। অতঃপর তিনি নাম ধরে বললেনঃ হে আল্লাহ! আবূ জাহেলকে ধ্বংস করুন এবং 'উতবাহ ইব্‌নু রবী'আহ, শায়বাহ ইব্‌নু রবী'আ, ওয়ালীদ ইব্‌নু 'উতবাহ, উমাইয়া বিন খালাফ ও 'উকবাহ ইব্‌নু আবী মু'আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেননি। ইব্‌নু মাস'ঊদ (রাঃ) বলেনঃ সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বদরের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। (৫২০, ২৯৩৪, ৩১৮৫, ৩৮৫৪, ৩৯৬০; মুসলিম ৩২/৩৯, হাঃ ১৭৯৪, আহমাদ ৩৭২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩৯)


সহিহ মুসলিম অঃ->জিহাদ ও এর নীতিমালা বাব->মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা হাঃ-৪৫৪১

ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাইতুল্লাহিল হারামের নিকট সলাত আদায় করছিলেন। আবূ জাহল ও তার সাথীরা অদূরে উপবিষ্ট ছিল। পূর্বদিন সেখানে একটি উট নহর করা হয়েছিল। আবূ জাহল বলল, কে অমুক গোত্রের উটের (নাড়ি-ভূড়িসহ) জরায়ুকে নিয়ে আসবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সিজদারত হবে, তখন তার দু’কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দেবে? তখন সম্প্রদায়ের সবচাইতে হতভাগা দূরাচার লোকটি উঠে দাঁড়াল এবং তা নিয়ে আসলো এবং যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজ্‌দায় গেলেন তখন তাঁর দু’কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। তখন তারা হাসাহাসি করতে লাগল এবং একে অপরের গায়ের উপর ঢলে পড়তে লাগল, আর আমি তখন দাঁড়িয়ে তা দেখলাম। যদি আমার প্রতিরোধের সাধ্য থাকতো তবে আমি তা অবশ্যই রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিঠ থেকে ফেলে দিতাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজ্‌দায় রইলেন এবং তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। অবশেষে এক ব্যক্তি গিয়ে ফাতিমাহ্‌কে খবর দিল। ফাতিমাহ্‌ সাথে সাথে আসলেন। আর তিনি তখন বালিকা। তিনি তা তাঁর উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর তাদের দিকে মুখ করে তাদেরকে মন্দাচারের বিষয়ে বলছিলেন। তারপর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত সম্পন্ন করলেন তখন উচ্চৈঃস্বরে তাদেরকে বদদু’আ দিলেন আর তিনি যখন দু’আ করতেন (সাধারণতঃ) তিনবার করতেন এবং যখন কিছু প্রার্থনা করতেন তখন তিনি তিনবার করতেন। তারপর তিনি তিন তিনবার বললেন “ইয়া আল্লাহ্‌! তোমার উপরেই কুরায়শদের বিচারের ভার ন্যাস্ত করলাম। যখন তারা তাঁর আওয়াজ শুনতে পেল তখন তাদের হাসি চলে গেল এবং তারা তাঁর বদ দু’আয় ভয় পেয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌! আবূ জাহ্‌ল ইবনু হিশাম, উত্‌বাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, শাইবাহ্‌ ইবনু রাবী’আহ্‌, ওয়ালিদ ইবনু উক্‌বাহ্‌, উমাইয়াহ্‌ ইবনু খালাফ ও উক্‌বাহ্‌ ইবনু আবূ মুআ’য়তের শাস্তির ভার তোমার উপর ন্যস্ত। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম আরেকজনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যে পবিত্র সত্তা সত্যসহ রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! তিনি যাদের নাম সেদিন উচ্চারণ করেছিলেন বাদ্‌রের দিন তাদের পতিত লাশ আমি দেখেছি। তারপর তাদের হেঁচড়িয়ে বাদ্‌রের একটি নোংরা কূপে নিক্ষেপ করা হয়। আবূ ইসহাক্‌ বলেন, ওয়ালিদ ইবনু উকবার নাম এখানে ভুলে হয়েছে। (ই.ফা. ৪৪৯৮, ই.সে. ৪৫০০)


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->হালাল পশুর উদরস্থ গোবর কাপড়ে লাগা প্রসঙ্গে হাঃ-৩০৭

আমর ইব্‌ন মায়মুন (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসঊদ (রাঃ) আমাদের নিকট বায়তুলমাল সম্পর্কিত একটি হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বায়তুল্লাহর নিকট সালাত আদায় করছিলেন। তখন একদল কুরায়শ তথায় উপবিষ্ট ছিল। তারা একটি উট যবেহ করেছিল। তাদের একজন বলল, তোমাদের মধ্যে কে এর রক্তমাখা উদরস্থ গোবর (নাড়ি-ভূড়িসহ) নিয়ে তার কাছে গিয়ে অপেক্ষা করতে পারবে, তারপর যখন সে সিজদায় কপাল ঠেকাবে তখন তা পিঠের উপর রেখে দিবে? আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তাদের সবচাইতে নিকৃষ্ট ব্যক্তিটি প্রস্তুত হল এবং গোবরযুক্ত নাড়ি-ভূঁড়ি নিয়ে অপেক্ষায় রইল। যখন তিনি সিজদায় গেলেন, তখন তা তাঁর পিঠের উপর রেখে দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এ খবর পেলেন-এ সময় তিনি ছিলেন অল্পবয়স্কা। তিনি দৌড়ে এলেন এবং তাঁর পিঠ হতে তা সরিয়ে ফেললেন। তিনি সালাত শেষ করে তিনবার বললেনঃ আয় আল্লা্‌হ্! কুরায়শকে ধর। হে আল্লাহ্‌! আবূ জাহল ইব্‌ন হিশাম, শায়িবা ইব্‌ন রবীআ, ‘উৎবা ইব্‌ন রবীআ, উকবা ইব্‌ন আবূ মুআয়ত প্রমুখকে পাকড়াও কর। এভাবে তিনি কুরায়শদের সাতজনের নাম উল্লেখ করলেন। আবদুল্লাহ বলেন, সেই আল্লাহ্‌র কসম যিনি তাঁর উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, আমি তাদের সকলকে বদরের দিন একই গর্তে মৃত অবস্থায় পতিত দেখেছি।