সহিহ বুখারী অঃ->আহার সংক্রান্ত বাব->মহান আল্লাহর বাণীঃ “খাওয়া শেষ হলে তোমরা চলে যাবে।” (সূরাহ আল-আহযাব ৩৩: ৫৩) হাঃ-৫৪৬৬

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি পর্দা (এর আয়াত অবতীর্ণ হওয়া) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। এ ব্যাপারে ‘উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন। যাইনাব বিন্‌ত জাহ্‌শের সঙ্গে নববিবাহিত হিসেবে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভোর হল। তিনি মদিনায় তাঁকে বিয়ে করেছিলেন। বেলা ওঠার পর তিনি লোকজনকে খাওয়ার জন্য দাওয়াত করলেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসা ছিলেন। (খাদ্য গ্রহণ শেষে) অনেক লোক চলে যাওয়ার পরও কিছু লোক তাঁর সাথে বসে থাকলো। অবশেষে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে গেলেন আমিও তাঁর সাথে সাথে গেলাম। আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর হুজুরার দরজায় পৌঁছলেন। তারপর ভাবলেন, লোকেরা হয়ত চলে গেছে। আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে আসলাম। (এসে দেখলাম) তারা আপন জায়গায় বসেই রয়েছে। তিনি আবার ফিরে গেলাম। আমিও তাঁর সঙ্গে দ্বিতীয়বার ফিরে গেলাম। এমনকি তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর গৃহের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে আবার ফিরে আসলেন। আমিও তার সঙ্গে ফিরে আসলাম। এবার তারা উঠে গেছে। তারপর তিনি আমার ও তাঁর মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলাম। তখন পর্দা সম্পর্কিত বিধান অবতীর্ণ হল।আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৫৭)


সহিহ বুখারী অঃ->অনুমতি চাওয়া বাব->পর্দার আয়াত হাঃ-৬২৩৮

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, রসূলুল্লাহ (রাঃ) যখন মদিনায় আসলেন, তখন তাঁর (বর্ণনাকারীর) বয়স ছিল দশ বছর। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জীবনের দশটি বছর আমি তাঁর খিদমত করি। আর পর্দার বিধান ব্যাপারে আমি সব চেয়ে অধিক অবগত ছিলাম, যখন তা অবতীর্ণ হয়। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) প্রায়ই আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। যাইনাব বিনত জাহ্‌শ (রাঃ)- এর সঙ্গে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাসরের দিনে প্রথম পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নতুন দুলহা হিসেবে সে দিন লোকেদের দা‘ওয়াত করেন এবং এরপর অনেকেই দা’ওয়াত খেয়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু কয়েকজন তাঁর কাছে রয়ে যান এবং তাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত করেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান এবং আমিও তাঁর সঙ্গে যাই, যাতে তারা বের হয়ে যায়। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে চলি। এমনকি তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ) –এর ঘরের দরজায় এসে পৌঁছেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাবলেন যে, নিশ্চয়ই তারা বেরিয়ে গেছে। তখন তিনি ফিরে আসেন আর তাঁর সঙ্গে আমিও ফিরে আসি। তিনি যাইনাব (রাঃ) –এর ঘরে প্রবেশ করে দেখেন যে, তারা তখনও বসেই আছেন, চলে যায়নি। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিরে গেলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে গেলাম। এমনকি তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)- এর দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত এসে পৌছেন। এরপর তিনি ভাবলেন যে, এখন তারা অবশ্যই বেরিয়ে গেছে। তাই তিনি ফিরে এসে দেখেন যে, তারা বেরিয়ে গেছে। এ সময় পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং তিনি তাঁর ও আমার মধ্যে পর্দা টেনে দেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৯১)


সহিহ মুসলিম অঃ->বিবাহ বাব->যায়নাব বিনতু জাহ্‌শকে বিবাহ করা, পর্দার হুমুম নাযিল হওয়া এবং বিবাহের ওয়ালীমাহ্‌ সাবিত হওয়া হাঃ-৩৩৯৮

আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি পর্দার হুকুম সংক্রান্ত ঘটনা সম্পর্কে সবার চাইতে বেশি অবগত। এ ব্যাপারে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যায়নাব বিনতু জাহ্‌শের স্বামী হন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বিবাহ করেন মাদীনায়। এ উপলক্ষে তিনি দ্বিপ্রহরের সময় খাওয়ার জন্য লোকদের দা’ওয়াত দেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসলেন এবং তারা তাঁর সঙ্গে বসল। লোকদের যারা উঠে যাওয়ার উঠে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠলেন এবং রওনা হলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে চলতে থাকলাম। তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর হুজরায় পৌঁছলেন। যখন তিনি ধারণা করলেন যে, তারা (উপবিষ্ট লোকজন) বেরিয়ে গেছে তখন তিনি ফিরে এলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে এলাম। দেখা গেল, তখন তারা তাদের জায়গায় বসা আছে। তখন তিনি ফিরে গেলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে দ্বিতীয়বার ফিরে গেলাম। তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর হুজরায় পৌঁছলেন। আবার তিনি যায়নাবের ঘরের দিকে ফিরলেন। দেখা গেল, লোকেরা চলে গেছে। তখন তিনি আমার ও তাঁর মাঝখানে পর্দা টেনে দিলেন। আর পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। (ই.ফা. ৩৩৭১, ই.সে. ৩৩৭০)