সহিহ বুখারী অঃ->তায়াম্মুম বাব->পানি ও মাটি না পাওয়া গেলে। হাঃ-৩৩৬

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একদা (তাঁর বোন) আসমা (রাঃ) এর হার ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন। (পথিমধ্যে) হারখানা হারিয়ে গেল। আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-সেটির অনুসন্ধানে লোক পাঠালেন। তিনি হারটি এমন সময় পেলেন, যখন তাঁদের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল অথচ তাঁদের কাছে পানি ছিল না। তাঁরা সালাত আদায় করলেন। তারপর বিষয়টি তাঁরা আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করেন। তখন আল্লাহ্‌ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করেন। সেজন্য উসায়দ ইব্‌নু হুযায়র (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন। আল্লাহ্‌র কসম! আপনি যে কোন অপছন্দনীয় অবস্থার মুখোমুখী হয়েছেন, তাতেই আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনার ও সমস্ত মুসলমানের জন্য মঙ্গল রেখেছেন। (৩৩৪) (আ.প্র. ৩২৪, ই.ফা. ৩২৯)


সহিহ বুখারী অঃ->সাহাবীগণের মর্যাদা বাব->‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর মর্যাদা। হাঃ-৩৭৭৩

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি আসমা (রাঃ)-এর নিকট হতে একটি হার চেয়ে নিয়েছিলেন। পরে হারটি হারিয়ে যায়। এর অনুসন্ধানে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু সাহাবীকে পাঠালেন। ইতোমধ্যে সলাতের সময় হয়ে গেলে তাঁরা পানির অভাবে উযূ ব্যতীতই সলাত আদায় করলেন। তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে এই বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসায়দ ইব্‌নু হুযায়র (রাঃ) বললেন, (হে ‘আয়িশা) আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদানে পুরস্কৃত করুন। আল্লাহ্‌র কসম! যখনই আপনি কোন সমস্যায় পড়েছেন, তখনই আল্লাহ তা’আলা তা থেকে আপনাকে বের করে এনেছেন এবং মুসলিমদের জন্য এর মধ্যে বরকত রেখে দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৯৯)


সহিহ বুখারী অঃ->পোশাক-পরিচ্ছদ বাব->হার ধার নেয়া প্রসঙ্গে। হাঃ-৫৮৮২

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, (একবার কোন এক সফরে) আসমার একটি হার (আমার নিকট থেকে) হারিয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়েকজন পুরুষ লোককে তার খোঁজে পাঠান। এমন সময় সলাতের সময় উপস্থিত হয়। তাদের কারও অযু ছিল না এবং তারা পানিও পেল না। কাজেই অযু ছাড়াই তাঁরা সলাত আদায় করে নিলেন। (ফিরে এসে) তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। [৩৩৪] ইবনু নুমায়র হিশামের সূত্রে এ কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ঐ হার ‘আয়িশা (রাঃ) আসমা (রাঃ) থেকে ধার নিয়েছিলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫০)


সহিহ মুসলিম অঃ->হায়িয (ঋতুস্রাব) বাব->তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] হাঃ-৭০৩

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি আসমা (রাঃ) থেকে একটি হার ধার নিয়েছিলেন। অতঃপর তা হারিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবাদের মধ্যে কিছু লোককে খুঁজতে পাঠালেন। (পথে) তাদের সলাতের সময় হয়ে গেল। তখন তারা ওযূ ছাড়াই সলাত আদায় করলেন। এরপর তারা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা জানালেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। এ সময় উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে (আয়িশাহ্‌) উত্তম বদলা দান করুন। আল্লাহর কসম! আপনার ওপর যখনই কোন সমস্যা এসেছে তখন আল্লাহ তা’আলা আপনার জন্যে এর সমাধানের পথ করে দিয়েছেন এবং মুসলিমদের জন্য তাতে বারাকাত রেখেছেন। [১০১] (ই.ফা. ৭০২, ই.সে. ৭১৭)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পবিত্রতা অর্জন বাব->তায়াম্মুমের বর্ণনা হাঃ-৩১৭

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশা (রাঃ) -এর হারানো হার অনুসন্ধানের জন্য উসাইদ ইবনু হুদাইর এবং তার সাথে আরো কয়েকজনকে পাঠালেন। পথিমধ্যে সলাতের ওয়াক্ত হলে লোকেরা বিনা উযুতেই সলাত আদায় করেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে তাঁরা বিষয়টি তাঁকে জানান। তখনই তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হয়। নুফাইলের বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ উসাইদ ইবনু হুদাইর (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) -কে বললেন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনার নিকট অপছন্দনীয় একটি বিষয়ের উপলক্ষেই আল্লাহ মুসলমানদের জন্য এবং আপনার জন্য সহজ একটি বিধান নাযিল করেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ বাব->তাইয়াম্মুমের বিবরণ হাঃ-৫৬৮

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি আসমা’ (রাঃ)-এর নিকট থেকে একটি হার ধার নেন এবং সেটি হারিয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটির খোঁজে লোক পাঠান। ইত্যবসরে তাদের সলাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তারা বিনা উযুতে সলাত আদায় করেন। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। তখন তাইয়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসায়দ বিন হুদায়র (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ)-কে বলেন, আল্লাহ আপনাকে উত্তমরূপে পুরস্কৃত করুন। আল্লাহ্‌র শপথ! যখনই আপনার উপর কোন কঠিন বিপদ এসেছে, তখনই আল্লাহ তা থেকে আপনার জন্য নাযাতের পথ বের করে দিয়েছেন এবং তাতে মুসলিমদের জন্য বারাকাত রেখেছেন। [৫৬৫]