সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে হাঃ-৪৪৭৪

আবূ সা‘ঈদ ইবনু মু‘আল্লা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদা মাসজিদে নাববীতে সলাত আদায় করছিলাম, এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডাকেন। কিন্তু ডাকে আমি সাড়া দেইনি। পরে আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি সলাত আদায় করছিলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেননি যে, ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা সাড়া দেবে আল্লাহ্ ও রসূলের ডাকে, যখন তিনি তোমাদেরকে ডাক দেন (সূরাহ আনফাল ৮/২৪)। তারপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই তোমাকে আমি কুরআনের এক অতি মহান সূরাহ্ শিক্ষা দিব। তারপর তিনি আমার হাত ধরেন। এরপর যখন তিনি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি কি বলেননি যে আমাকে কুরআনের অতি মহান সূরাহ্ শিক্ষা দিবেন? তিনি বললেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক, এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা কেবল আমাকেই দেয়া হয়েছে। [৪৬৪৭, ৪৭০৩, ৫০০৬] (আ.প্র. ৪১১৬, ই.ফা. ৪১১৯)


সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->পরিচ্ছেদ নাই। হাঃ-৪৬৪৭

আবূ সা‘ঈদ ইবনু মুয়াল্লা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদা সলাতে রত ছিলাম, এমন সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পাশ দিয়ে গেলেন এবং আমাকে ডাকলেন। সলাত শেষ না করা পর্যন্ত আমি তাঁর কাছে যাইনি, তারপর গেলাম। তিনি বললেন, তোমাকে আসতে বাধা দিল কিসে? আল্লাহ কি বলেননি “রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদেরকে ডাকলে। আল্লাহ ও রসূলের ডাকে সাড়া দেবে?” তারপর তিনি বললেন, আমি মাসজিদ থেকে বের হবার পূর্বে তোমাকে একটি অতি সওয়াবযুক্ত সূরাহ শিক্ষা দেব। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রতিশ্র“তির কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। মু‘আয বললেন, ...... হাফ্স শুনেছেন একজন সহাবী আবূ সা‘ঈদ ইবনুল মু‘আল্লাকে এই হাদীস বর্ণনা করতে, রসূল বললেনসেই সূরাটি হচ্ছে الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ সাত আয়াতবিশিষ্ট ও পুনঃ পুনঃ পঠিত। [৪৪৭৪] (আ.প্র. ৪২৮৬, ই.ফা. ৪২৮৮)


সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর আমি তো আপনাকে দিয়েছি সাতটি আয়াত যা বারবার পাঠ করা হয় এবং দিয়েছি মহা কুরআন। (সূরাহ হিজর ১৫/৮৭) হাঃ-৪৭০৩

আবূ সা‘ঈদ ইব্‌নু মু‘য়াল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পার্শ্ব দিয়ে গেলেন, তখন আমি সলাত আদায় করছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিলেন। আমি সলাত শেষ না করে আসিনি। তারপর আমি বললাম। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল। আমি আসলাম, আমি সলাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি এ কথা বলেননি, “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং রাসূলের ডাকে সাড়া দাও?” তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দেব না। তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন, আমি তাকে কথাটি মনে করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, “আল্ হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।” এটি হল, বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন যা আমাকে দেয়া হয়েছে। [৪৪৭৪] (আ.প্র. ৪৩৪৩, ই.ফা. ৪৩৪৩)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->বিতর সালাত বাব->সূরাহ আ্ল-ফাতিহা হাঃ-১৪৫৮

আবূ সাঈদ ইবনুল মু‘আল্লা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা তিনি সলাতে রত থাকাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ডাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সলাত আদায় শেষে তাঁর নিকট এলে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমার ডাকে সাড়া দিতে কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে? তিনি বললেন, আমি সলাত রত ছিলাম। তিনি বললেনঃ মহান আল্লাহ কি বলেননিঃ “হে মুমিনগণ! যখন আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে ডাকে যা তোমাদেরকে প্রাণবন্তকরে। (সূরাহ আল-আনফালঃ ২৪) আমি মাসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কুরআনের অত্যধিক মর্যাদা সম্পন্ন একটি সূরাহ শিক্ষা দিবো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার কথাটি স্মরণ রাখবো। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন”, এটি হচ্ছে সাত আয়াতবিশিষ্ট সূরাহ। আমাকে এটি এবং কুরআনুল ‘আযীম প্রদান করা হয়েছে। সহীহঃ বুখারী।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->শিষ্টাচার বাব->কুরআন অধ্যয়নের সওয়াব হাঃ-৩৭৮৫

আবূ সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ আমি কি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরা শিক্ষা দিবো না? রাবী বলেনঃ অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হওয়ার জন্য অগ্রসর হলেন। তখন আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেনঃ সূরা আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন (সূরা ফাতিহা)। এটা হলো “সাবউল মাছানী” (বারবার পঠিত সপ্তক) ও মহান কুরআন, যা আমাকে দান করা হয়েছে। [৩১১৭]


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->আল্লাহ্ তায়ালার বাণী: আমি তোমাকে সাতটি আয়াত দান করেছি, যা বারবার পড়া হয় এবং মহান কুরআন -এর ব্যাখ্যা হাঃ-৯১৩

আবু সাঈদ ইবন মুআল্লা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছ দিয়ে যাওয়ার কালে তাঁকে ডাকলেন, তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন। তিনি বলেন, আমি সালাত শেষ করে তাঁর কাছে আসলে তিনি বললেন, আমার আহ্বানে সাড়া দিতে তোমাকে কিসে নিষেধ করল? তিনি বললেন, আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা কি বলেননি, হে মুমিনগণ! রাসূল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করে যা তোমাদের প্রাণবন্ত করে, তখন আল্লাহ্ ও রাসূলের আহ্বানে সাড়া দিবে। (সূরা: ৮, আয়াত: ২৪) মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি কি তোমাকে সর্বোৎকৃষ্ট সূরা শিক্ষা দিব না? তিনি বললেন, তারপর তিনি বের হতে গেলে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার কথা? তিনি বললেন আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামীন অর্থাৎ সূরা ফাতিহা, ঐ সাত আয়াত যা বারবার পড়া হয়ে থাকে, যা আমাকে দান করা হয়েছে এবং মহান কুরআন।