আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমারা আগামীকল্য বানী কিনানা উপত্যকায় অবস্থান করব ইন্শা-আল্লাহ্, যেখানে কাফিররা কুফরির উপর দৃঢ় থাকার শপথ নিয়েছিল। তিনি (এ কথার দ্বারা) মুহাস্সাবকে উদ্দেশ্য করছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭১)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, একদা জাহান্নাম ও জান্নাত বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লো। জাহান্নাম বলল, অহংকারী এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পন্ন লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করবে। জান্নাত বলল, আমার কি হলো, মানুষের মাঝে যারা দুর্বল, নীচু স্তরের এবং অক্ষম, তারাই আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহ্মাত, আমার বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা রহ্মাত বর্ষণ করব। তারপর তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব, আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা ‘আযাব দিব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভর্তির ব্যবস্থা থাকবে। এতদ্সত্ত্বেও জাহান্নাম পূর্ণ হবে না। তাই আল্লাহ্ তা‘আলা এর উপরে স্বীয় পা মুবারাক রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, যথেষ্ট হয়ে গেছে। এ সময়ই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে এবং একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে যাবে অর্থাৎ সঙ্কুচিত হয়ে যাবে। (ই.ফা. ৬৯১০, ই.সে. ৬৯৬৭)
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা্ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হলো এইযে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর তর্কে লিপ্ত হয়েছে। জাহান্নাম বলল, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও অহংকারীদের জন্য আমাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জান্নাত বলল, আমার কি হলো, আমার মাঝে কেবল দুর্বল ও নগণ্য লোকেরাই প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহ্মাত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে চাই তার প্রতি আমি রহ্মাত নাযিল করব এবং তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব। তোমার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা ‘আযাব দিব। বস্তুতঃ তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভরপুর করার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু জাহান্নাম কিছুতেই পরিপূর্ণ হবে না। পরিশেষে তিনি স্বীয় পা মুবারাক তার উপরে রাখলে তখন জাহান্নাম বলবে, হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। তখনই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে এবং এর একাংশ অন্য অংশের সাথে মিলে গিয়ে সংকুচিত হয়ে আসবে। আল্লাহ তা‘আলা তার সৃষ্টির কারো উপর অবিচার করবেন না। আর জান্নাত পরিপূর্ণ করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা অন্য মাখলূক সৃষ্টি করবেন। (ই.ফা. ৬৯১২, ই.সে. ৬৯৬৯)