সহিহ বুখারী অঃ->জাহ্‌মিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ বাব->আল্লাহ্‌র বাণীঃ (দুনিয়ায় নিজেদের শরীরের অংশগুলোকে তোমরা) এই ভেবে গোপন করতে না যে, না তোমাদের কান, না তোমাদের চোখ আর না তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। বরং তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা কর তার অধিকাংশই আল্লাহ জানেন না। (সূরা ফুস্‌সিলাত ৪১/২২) হাঃ-৭৫২১

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদিন বায়তুল্লাহ্‌র নিকট একত্রিত হলো দু‘জন সাকাফী ও একজন কুরাইশী অথবা দু‘জন কুরাইশী ও একজন সাকাফী। তাদের পেটে চর্বি ছিল বেশি, কিন্তু তাদের অন্তরে বুঝার ক্ষমতা ছিল কম। তাদের একজন বলল, তোমাদের অভিমত কী? আমরা যা বলছি আল্লাহ্ কি সবই শুনতে পান? দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ শোনেন, যদি আমরা উচ্চৈঃস্বরে বলি। আমরা চুপি চুপি বললে তিনি শোনেন না। তৃতীয় জন বলল, যদি তিনি উচ্চৈঃস্বরে বললে শোনেন, তবে নিচু স্বরে বললেও শুনবেন। এরই প্রক্ষিতে আল্লাহ্ নিম্মোক্ত আয়াত নাযিল করলেনঃ “(দুনিয়ায় নিজেদের শরীরের অংশগুলোকে তোমরা) এই ভেবে গোপন করতে না যে, না তোমাদের কান, না তোমাদের চোখ আর না তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে....”(সূরাহ ফুস্সিলাত ৪১/২২)। [৪৮১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০১৩)


সহিহ মুসলিম অঃ->মুনাফিকদের আচরণ এবং তাদের সম্পর্কে বিধান বাব->মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত হাঃ-৬৯২২

ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, বাইতুল্লাহর কাছে তিন লোক একত্রিত হলো। এদের দু’জন কুরাইশী এবং একজন সাকাফী অথবা দু’জন সাকাফী এবং একজন কুরাইশী ছিল। তাদের অন্তরে সূক্ষজ্ঞান খুব কমই ছিল। তবে পেটে অনেক চর্বি ছিল। তাদের একজন বলল, আমরা যা বলি আল্লাহ সব শুনেন, এ কথা কি তোমরা মনে করো? তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা উচ্চ আওয়াজে কথা বললে আল্লাহ তা শুনে থাকেন। তবে নিম্নস্বরে কথা বললে আল্লাহ তা শুনেন না। তখন তৃতীয় ব্যক্তি বলল, উচ্চ আওয়াজে কথা বললে যদি তিনি শুনে থাকেন তবে নিম্নস্বরে কথা বললেও তিনি তা শুনতে পাবেন। এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, “তোমরা গোপন করতে পারবে না এজন্য যে, তোমাদের কান, চোখ এবং ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে”- (সূরাহ্‌ ফুস্‌সিলাত ৪১ : ২২)। (ই.ফা. ৬৭৭২, ই.সে. ৬৮২৭)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->৪৩ সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ হাঃ-৩২৪৮

ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, তিন লোক ক্বা’বা ঘরের নিকট বিবাদ করে। তাদের দু’জন ছিল কুরাইশ বংশীয় এবং একজন সাক্বীফ বংশীয় অথবা দু’জন সাক্বীফ বংশীয় এবং একজন কুরাইশ বংশীয়। তাদের অন্তরে বুদ্ধি ছিল খুব অল্পই কিন্তু তাদের পেট ছিল মেদবহুল। তাদের একজন বলল, তোমাদের কি মনে হয়, আমরা যা বলি তা আল্লাহ্‌ তা’আলা শুনেন? দ্বিতীয় লোক বলল, আমরা জোরে বললে শুনেন, আস্তে বললে শোনে না, তৃতীয়জন বলল, আমরা জোরে কিছু বললে যদি তিনি তা শুনেন তাহলে আস্তে বা গোপনে বললেও তা শুনেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তা’আলা অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “তোমাদের কান, চোখও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না এই বিশ্বাসে তোমরা কিছুই গোপন করতে না। উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ্‌ তা’আলা জানেন না” – (সূরা হা-মীম আস-সাজদাহঃ ২২)। সহীহঃ বুখারী (৪৮১৬, ৪৮১৭, ৭৫২১), মুসলিম (৮/১২০-১২১)