সহিহ বুখারী অঃ->ঈমান বাব->যুল্‌মের প্রকারসমূহ। হাঃ-৩২

‘আবদুল্লাহ্‌ (ইব্‌নু মাস‘ঊদ) (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘‘যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করেনি’’- (সূরা আন্‌‘আম ৬/৮২); এ আয়াত নাযিল হলে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বললেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুল্‌ম করেনি?’ তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই শির্‌ক হচ্ছে অধিকতর যুল্‌ম’’-(সূরা লুকমান ৩১/১৩) (৩৩৬০ ৩৪২৮, ৩৪২৯, ৪৬২৯, ৪৭৭৬, ৬৯১৮, ৬৯৩৭; মুসলিম ১/৫৬ হাঃ ১২৬, আহমাদ ৪০৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩১)


সহিহ বুখারী অঃ->আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) বাব->মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই আমি লুকমানকে হিক্‌মত দান করেছি। আর সে বলেছিল, শির্‌ক এক মহা যুল্‌ম। (লুকমান ১২-১৩) হাঃ-৩৪২৮

‘আবদুল্লাহ (ইব্‌নু মাস’ঊদ) (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্‌মের দ্বারা কলুষিত করেনি- (আল-আন’আম ৮২)। তখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে যে, নিজের ঈমানকে যুল্‌মের দ্বারা কলুষিত করেনি? তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করো না। কেননা শির্‌ক হচ্ছে এক মহা যুল্‌ম- (লুকমান ১৮)।


সহিহ বুখারী অঃ->আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) বাব->মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই আমি লুকমানকে হিক্‌মত দান করেছি। আর সে বলেছিল, শির্‌ক এক মহা যুল্‌ম। (লুকমান ১২-১৩) হাঃ-৩৪২৯

‘আবদুল্লাহ (ইব্‌নু মাস’ঊদ) (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্‌মের দ্বারা কলুষিত করেনি। তখন তা মুসলিমদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেল। তারা আরয করলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে যে নিজের উপর যুল্‌ম করেনি? তখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এখানে অর্থ তা নয় বরং এখানে যুল্‌মের অর্থ হলো শির্‌ক। তোমরা কি কুরআনে শুননি লুকমান তাঁর ছেলেকে নাসীহাত দেয়ার সময় কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, “হে আমার বৎস! তুমি আল্লাহ্‌র সঙ্গে শির্‌ক করো না। কেননা, নিশ্চয়ই শির্‌ক এক মহা যুল্‌ম।


সহিহ বুখারী অঃ->আল্লাহ্‌দ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবার প্রতি আহ্বান ও তাদের সাথে যুদ্ধ বাব->যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সঙ্গে শিরক করে তার গুনাহ এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার শাস্তি। আল্লাহ্‌ বলেনঃ নিশ্চয়ই শির্‌ক বিরাট জুল্‌ম- (সূরা লুক্বমান ৩১/১৩)। তুমি আল্লাহ্‌র শরীক স্থির করলে তোমার কর্ম তো বিফল হবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত (সূরা আয্‌-যুমার ৩৯/৬৫)। হাঃ-৬৯১৮

আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুল্‌ম দ্বারা কলুষিত করেনি... (সূরা আন‘আম ৬/৮২)। তখন তা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবাদের কাছে গুরুতর মনে হলো। তারা বললেন, আমাদের মাঝে এমন কে আছে যে তার ঈমানকে জুল্‌ম দ্বারা কলুষিত করে না। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তা অবশ্যই এমনটা নয়, তোমরা কি লুকমানের কথা শ্রবণ করনি? শিরকই বিরাট জুল্‌ম (সীমালঙ্ঘন)- (সূরা লুক্বমান ৩১/১৩)।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৫০)


সহিহ বুখারী অঃ->আল্লাহ্‌দ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবার প্রতি আহ্বান ও তাদের সাথে যুদ্ধ বাব->ব্যাখ্যা দানকারীদের ব্যাপারে যা বর্ণনা করা হয়েছে। হাঃ-৬৯৩৭

আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্‌ম দ্বারা কলুষিত করেনি - (সূরা আন‘আম ৬/৮২), তখন তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবাদের জন্য কঠিন মনে হল। তারা বলল, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে তার ঈমানকে যুল্‌ম দ্বারা কলুষিত করে না? তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা যেভাবে ধারণা করছ তা তেমন নয়। বরং এটা হচ্ছে ঐরূপ যেমন লুক্‌মান (আরবী) তার পুত্রকে বলেছিলেনঃ “হে বৎস! আল্লাহ্‌র সঙ্গে কোন শরীক করো না। শির্‌ক তো বড় যুল্ম (সীমালঙ্ঘন)”- (সূরা লুক্বমান ৩১/১৩)। [১৩১](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৬৮)


সহিহ মুসলিম অঃ->ঈমান বাব->ঈমানে সততা ও নিষ্ঠা হাঃ-২২৬

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

(আল্লাহ তা’আলার বাণী) : “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্‌ম দ্বারা কলূষিত করেনি নিরাপত্তা তাদের জন্য, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত”-(সূরাহ আল আন’আম ৬ : ৮২)। এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে তা সহাবাদের কাছে খুবই কঠিন মনে হলো। তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের উপর আদৌ অত্যাচার করেনি? তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা যা মনে করেছ বিষয়টি তা নয়, বরং এর মর্মার্থ হচ্ছে লুক্‌মান তাঁর পুত্রকে সম্বোধন করে যা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন : “হে বৎস! আল্লাহর সাথে কোন শারীক করো না, নিশ্চয়ই শির্‌ক চরম যুল্‌ম”-(সূরাহ লুক্‌মান ৩১ : ১৩)। (ই.ফা. ২২৭; ই.সে. ২৩৫)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->সূরা আল-আন’আম হাঃ-৩০৬৭

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন অবতীর্ণ হল : “যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি---’’ (সূরা আল-আন’আম ৮২) , তখন মুসলিমদের নিকট তা খুবই কঠিন মনে হল। তাই তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে কে আছে যে নিজের উপর যুলুম করেনি? রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বিষয়টি আসলে তা নয়। এখানে যুলুম অর্থ হল শিরক। তোমরা কি শুনোনি যা লোক্বমান তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন : “হে পুত্র ! আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে শরীক করবে না। নিশ্চয় শিরক অতি বড় যুলু “ –(সূরা লোকমান ১৩)। সহীহ : বুখারী (৪৬২৯) , মুসলিম।