খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি একজন কর্মকার ছিলাম। আমি ‘আস ইবনু ওয়ায়িলের তরবারি বানিয়ে দিলাম। তার নিকট আমার পাওনা কিছু মজুরী জমে যায়। আমি পাওনা টাকার তাগাদা দিতে তার কাছে গেলাম। সে বলল, আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাকে টাকা দিব না, যে পর্যন্ত না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার করবে। আমি বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি তা করব না, যে পর্যন্ত না তুমি মৃত্যুবরণ করবে, তারপর পুনরত্থিত হবে। সে বলল, আমি কি মৃত্যুর পর পুনরত্থিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে তো সেখানে আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও হবে। তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করে দিব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করলেনঃ “আপনি কি সে ব্যক্তিকে দেখেছেন, যে আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে আমাকে (পরকালে) অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে”- (মারইয়াম : ৭৭)।
খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি জাহিলীয়াতের যুগে কর্মকার ছিলাম। সে সময় ‘আস ইবনু ওয়ায়েলের কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। আমি পাওনা আদায় করতে তার কাছে আসলে সে বলল, আমি তোমার পাওনা শোধ করব না, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার কর। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম, আমি অস্বীকার করব না। এমনকি আল্লাহ্ তোমাকে মৃত্যু দেয়ার পর আবার তোমাকে জীবিত করার পরেও নহে। বলল, তাহলে তুমি আমাকে ছেড়ে দাও মৃত্যুর পর আবার জীবিত হয়ে ওঠা পর্যন্ত। তখন তো আমাকে ধন-সন্তান দেয়া হবে। তখন তোমাকে পরিশোধ করে দেব। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় ঃ “কি তাকে লক্ষ্য করেছ, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে” (সূরা মারইয়াম ১৯/৭৭)। [২০৯১] (আ.প্র. ৪৩৭৩, ই.ফা. ৪৩৭৫)
খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘আস ইবনু ওয়ায়িল-এর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। এর উসূলান্তে আমি তার নিকট গেলাম। সে বলল, যে পর্যন্ত তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার পাওনা দিব না। এ কথা শুনে আমি তাকে বললাম, আমি কক্ষনো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করব না, তুমি মরার পর আবার জীবিত হয়ে আসলেও। সে বলল, আমি কি মৃত্যুর পর আবার জীবিত হয়ে উঠব? তাহলে তখনই আমি আমার সম্পদ এবং সন্তানাদি লাভ করে তোমার পাওনা পরিশোধ করব। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়, “আপনি কি দেখেছেন তাকে যে আমার আয়াতসমূহ উপেক্ষা করে এবং বলে, আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি দেয়া হবে।” “..... আর সে আমার কাছে একাকী আসবে” - তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়। (ই.ফা. ৬৮০৫, ই.সে. ৬৮৫৯)
মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, খাব্বার ইবনুল আরাত্তি (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আমার একটি স্বত্ত্ব ‘আস ইবনু ওয়ায়িল আস-সাহমীর যিম্মায় ছিল। এ ব্যাপারে তাগাদা দেয়ার উদ্দেশ্যে আমি তার নিকট আসলাম। সে বলল, যে পর্যন্ত তুমি মুহাম্মাদের নবুওয়াত অস্বীকার না করবে, সে পর্যন্ত আমি তোমার স্বত্ত্ব ফিরিয়ে দিব না। আমি বললাম, তুমি মৃত্যুর পর ক্বিয়ামত দিবসে আবার জীবিত হয়ে না উঠা পর্যন্ত তা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সে বলল, আমি মৃত্যুবরণ করব এবং আবার জীবিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও সেখানে থাকবে আর সেখানে তোমার পাওনাটা ফিরিয়ে দিব। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ “তুমি কি সেই লোককে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং সে বলেছে, আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে ধন্য করা হবে”-(সূরা মারইয়াম ৭৭)। সহীহঃ বুখারী (৪৭৩২), মুসলিম।